নবান্নের কড়া বার্তা: রাজ্যে কুরবানি ও পশুবলি নিয়ে ফের কড়া অবস্থান নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নবান্নের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের তরফে সম্প্রতি একটি জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে, যেখানে ‘পশ্চিমবঙ্গ পশু হত্যা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০’ কঠোরভাবে মানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যে পশু জবাই ও কুরবানি নিয়ে নবান্নের কড়া নির্দেশিকা, ফের আলোচনায় ১৯৫০ সালের আইন
রাজ্যে পশু হত্যা, কুরবানি ও ধর্মীয় আচার পালনে পশু বলি সংক্রান্ত নিয়মে আরও কড়াকড়ি করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নবান্নের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি জরুরি জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ‘পশ্চিমবঙ্গ পশু হত্যা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০’ কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। আইন ভাঙলে জেল ও জরিমানার মতো কড়া শাস্তিরও উল্লেখ করা হয়েছে।
১৩ মে ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এই বিজ্ঞপ্তিতে আদালতের নির্দেশের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ সুরক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: রাজ্যে অবৈধ টোল গেটের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ, অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ মুখ্যসচিবের
২০২২ সালেও জারি হয়েছিল একই ধরনের নির্দেশিকা
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালেও তৎকালীন রাজ্য সরকার ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে একই ধরনের গাইডলাইন জারি করেছিল। তখনও সুপ্রিম কোর্ট ও কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে প্রকাশ্যে পশু জবাই না করার কথা বলা হয়েছিল।
তবে অভিযোগ ছিল, নজরদারির অভাবে বহু জায়গায় সেই নির্দেশ পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। এবার ২০২৬ সালের নতুন বিজ্ঞপ্তিতে প্রশাসন আরও সক্রিয় ও কড়া অবস্থানে রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
নির্দেশিকার প্রধান শর্তাবলি
প্রকাশ্যে জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
কোনওভাবেই রাস্তা, বাজার, খোলা মাঠ বা জনবহুল এলাকায় পশু জবাই করা যাবে না। শুধুমাত্র অনুমোদিত কসাইখানা বা প্রশাসন নির্ধারিত স্থানে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
শংসাপত্র বাধ্যতামূলক
সরকারি পশু চিকিৎসক এবং স্থানীয় পুরসভা বা পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের যৌথ অনুমোদন ছাড়া কোনও পশু জবাই করা যাবে না।
বয়স ও শারীরিক অবস্থার যাচাই
আইন অনুযায়ী, পশুর কর্মক্ষমতা ও নির্দিষ্ট বয়সসীমা যাচাই করা হবে। অনেক ক্ষেত্রে ১৪ বছর বয়স, অসুস্থতা, অক্ষমতা বা স্থায়ী শারীরিক সমস্যার ভিত্তিতে অনুমোদনের বিষয় বিবেচনা করা হতে পারে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কড়াকড়ি
জবাইয়ের পর পশুর রক্ত, বর্জ্য বা অবশিষ্টাংশ খোলা ড্রেন, রাস্তা বা জলাশয়ে ফেলা যাবে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে পরিষ্কার ও নিষ্কাশনের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সরকারি পরিদর্শনে বাধা দেওয়া যাবে না
সরকারি আধিকারিক বা পশু চিকিৎসকরা নির্দিষ্ট স্থান পরিদর্শন করতে পারবেন। এই কাজে বাধা দিলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
প্রশাসনের নজরে কোন বিষয়গুলো?
- খোলা জায়গায় পশু জবাই
- অনুমোদনহীন অস্থায়ী কসাইখানা
- ড্রেন বা জলাশয়ে বর্জ্য ফেলা
- স্বাস্থ্যবিধি না মানা
- পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্য সমস্যা
- আদালতের নির্দেশ অমান্য করা
আইন ভাঙলে কী শাস্তি?
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, ‘পশ্চিমবঙ্গ পশু হত্যা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০’ লঙ্ঘন করলে:
- ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে
- ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে
- অথবা জেল ও জরিমানা দুটিই হতে পারে
প্রশাসনের বক্তব্য কী?
প্রশাসনিক কর্তাদের মতে, এই পদক্ষেপ কোনও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার জন্য নয়। মূল উদ্দেশ্য হল:
- জনস্বাস্থ্য রক্ষা
- পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ
- স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা
- আদালতের নির্দেশ কার্যকর করা
- উৎসবের সময়ে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা
সাধারণ মানুষের জন্য পরামর্শ
প্রশাসনের তরফে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হয়েছে:
- শুধুমাত্র বৈধ ও অনুমোদিত স্থানে কুরবানি বা পশু জবাই করুন
- প্রকাশ্যে পশু জবাই থেকে বিরত থাকুন
- বর্জ্য সঠিকভাবে পরিষ্কার করুন
- স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলুন
- গুজব বা উত্তেজনামূলক তথ্য ছড়াবেন না

