WB Illegal Toll Gate Ban: পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে চলা সমস্ত অননুমোদিত টোল গেট, ড্রপ গেট, ব্যারিকেড ও বেআইনি টাকা তোলার বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের স্বাক্ষরিত এক সরকারি নির্দেশে জানানো হয়েছে, সরকারের অনুমতি ছাড়া পরিচালিত সব ধরনের টোল সংগ্রহ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
১২ মে ২০২৬ তারিখে জারি হওয়া এই নির্দেশে বলা হয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এমন বহু টোল গেট বা সংগ্রহ কেন্দ্র রয়েছে, যেগুলির কোনও বৈধ অনুমোদন নেই। এসব জায়গা থেকে সাধারণ মানুষ ও গাড়িচালকদের কাছ থেকে বেআইনিভাবে টাকা তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এবার সেই সমস্ত অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনকে।
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী জেলা শাসকদের (District Magistrate) বলা হয়েছে:
- নিজেদের এলাকায় থাকা সমস্ত অবৈধ টোল গেট ও ড্রপ গেট চিহ্নিত করতে হবে
- দ্রুত সেগুলি সরিয়ে ফেলতে বা বন্ধ করতে হবে
- ভবিষ্যতে যাতে আবার নতুন করে এমন অবৈধ টোল গড়ে না ওঠে, তার জন্য নজরদারি বাড়াতে হবে
এছাড়াও নির্দেশে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, অনুমোদন ছাড়া কোনও জায়গায় টোল, ফি বা অন্য কোনও ধরনের টাকা তোলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।
১৫ মে-র মধ্যে জমা দিতে হবে তালিকা
রাজ্য সরকার আরও জানিয়েছে, শুধুমাত্র অবৈধ টোল নয়, সমস্ত অনুমোদিত টোল সংগ্রহ কেন্দ্রেরও তথ্য জমা দিতে হবে। কোন সংস্থা টোল তুলছে, কতদিনের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেই সমস্ত তথ্য-সহ তালিকা তৈরি করে আগামী ১৫ মে ২০২৬, শুক্রবার দুপুর ১২টার মধ্যে জমা দিতে হবে।
সরকারি নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং তা কঠোরভাবে পালন করতে হবে। নির্দেশ অমান্য হলে দায় নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
কোথাও বেআইনি টোল দেখলে কী করবেন?
রাজ্যের কোনও এলাকায় এই নির্দেশের পরেও যদি জোর করে টাকা তোলা, অবৈধ টোল গেট বা ব্যারিকেড দেখা যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ স্থানীয় থানায়, জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমে বা রাজ্য পুলিশের হেল্পলাইনে অভিযোগ জানাতে পারেন।
এছাড়াও অনেক জেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ই-মেইল ও জনঅভিযোগ পোর্টালের মাধ্যমেও অভিযোগ জমা দেওয়া যায়। অভিযোগ করার সময় জায়গার নাম, সময়, গাড়ির নম্বর বা ছবি/ভিডিও থাকলে প্রশাসনের পক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।
পরিবহন কর্মীদের প্রতিক্রিয়া
এই নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছে পরিবহন মহলের একাংশ। কয়েকটি ট্রাক ও পরিবহন সংগঠনের সদস্যদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাস্তায় বেআইনি টোলের কারণে ট্রাক চালক ও পণ্যবাহী গাড়িগুলিকে অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছিল। এতে পরিবহন খরচ যেমন বাড়ছিল, তেমনি চালকদের হয়রানির মুখেও পড়তে হচ্ছিল।
পরিবহন কর্মীদের মতে, প্রশাসন যদি নিয়মিত নজরদারি চালায়, তাহলে রাস্তায় সিন্ডিকেট ও জোর করে টাকা তোলার প্রবণতা অনেকটাই কমবে।
সহজ কথায়, এখন থেকে সরকারের অনুমতি ছাড়া রাজ্যের কোথাও আর টোল তোলা যাবে না। অবৈধ টোল গেট ও বেআইনি টাকা আদায়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কড়া অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

