৬টি বড় ঘোষণা নতুন মুখ্যমন্ত্রীর: পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পর এবার নবান্নে অনুষ্ঠিত হলো নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ক্যাবিনেট মিটিং থেকেই একাধিক বড় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ঘোষণা করলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।
নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ছিল, রাজ্যের প্রশাসন কোন পথে এগোবে, পুরনো প্রকল্পগুলোর কী হবে, কেন্দ্রীয় প্রকল্পে রাজ্য যুক্ত হবে কি না, চাকরিপ্রার্থীদের জন্য কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অবশেষে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকেই সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে শুরু করল নতুন সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই সরকার “For the People, By the People, Of the People” নীতিতে চলবে এবং স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য।
এবার এক নজরে দেখে নেওয়া যাক প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে ঘোষিত ৬টি বড় সিদ্ধান্ত এবং তার অর্থ কী।
১) বাংলার মানুষ ও নির্বাচন কর্মীদের ধন্যবাদ জানাল সরকার
প্রথম সিদ্ধান্ত হিসেবে সরকার পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন পর পশ্চিমবঙ্গে ভয়মুক্ত ও অবাধ নির্বাচন হয়েছে এবং গোটা বিশ্বের নজর ছিল এই নির্বাচনের দিকে।
একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী, পুলিশ, ভোটকর্মী, গণনাকর্মী এবং সংবাদমাধ্যমকেও ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
এর অর্থ কী?
নতুন সরকার প্রথম দিন থেকেই নিজেদের গণতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চাইছে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনকে তারা বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে সামনে আনছে।
Releted Artical :বিজেপি সরকার গঠনের পর বড় ঘোষণা, চালু থাকছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্য সাথী ও মা ক্যান্টিন
২) রাজনৈতিক হিংসায় নিহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারকে সাহায্যের ঘোষণা
সরকার জানিয়েছে, যেসব বিজেপি কর্মী রাজনৈতিক সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারগুলোর পাশে থাকবে সরকার। নিহতদের পরিবারের সামাজিক ও আর্থিক দায়িত্ব নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এর অর্থ কী?
বিজেপি সরকার রাজনৈতিক হিংসার বিষয়টিকে বড় ইস্যু হিসেবেই রাখতে চাইছে এবং নিহত কর্মীদের পরিবারকে সরাসরি সহায়তা দিয়ে রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে।
৩) বিএসএফের জন্য জমি হস্তান্তর ও সীমান্ত নিরাপত্তায় বড় সিদ্ধান্ত
মন্ত্রিসভায় বিএসএফ-এর জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মুখ্যসচিব ও ভূমি দপ্তরকে ৪৫ দিনের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর অর্থ কী?
সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশ রোধকে নতুন সরকার অন্যতম প্রধান ইস্যু হিসেবে সামনে আনছে। কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোরও ইঙ্গিত মিলেছে।
৪) আয়ুষ্মান ভারত সহ একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পে যুক্ত হলো পশ্চিমবঙ্গ
সবচেয়ে বড় ঘোষণাগুলির মধ্যে অন্যতম হলো পশ্চিমবঙ্গের আয়ুষ্মান ভারতে যোগদান। পাশাপাশি আরও একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যেমন:
- আয়ুষ্মান ভারত
- প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা
- PM SHRI Schools
- প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা
- বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও
- উজ্জ্বলা যোজনা ৩.০
এর অর্থ কী?
দীর্ঘদিন পর কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলোর সরাসরি সুবিধা রাজ্যের মানুষ পেতে চলেছেন বলে দাবি করছে সরকার। বিশেষ করে স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা ও গ্যাস সংযোগে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
৫) IAS, IPS ও সরকারি আধিকারিকদের কেন্দ্রীয় ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণের অনুমতি
নতুন সরকার জানিয়েছে, এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গের IAS, IPS ও রাজ্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা কেন্দ্রীয় সরকারের ট্রেনিং প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারবেন।
একইসঙ্গে রাজ্যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) কার্যকর করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
এর অর্থ কী?
নতুন সরকার কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে আরও বেশি সমন্বয় করতে চাইছে। এছাড়া নতুন আইন দ্রুত কার্যকর করার দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
৬) চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় স্বস্তি, বয়সসীমায় ৫ বছরের ছাড়
মন্ত্রিসভার সবচেয়ে বড় ঘোষণাগুলির মধ্যে একটি হলো সরকারি চাকরির আবেদনে বয়সসীমায় ৫ বছরের ছাড়।
সরকার জানিয়েছে, দীর্ঘদিন নিয়োগ না হওয়ায় বহু চাকরিপ্রার্থীর বয়স পেরিয়ে গেছে। তাই এবার ৫ বছর পর্যন্ত বয়সে ছাড় দেওয়া হবে।
এর অর্থ কী?
হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর জন্য এটি বড় স্বস্তির খবর হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে চাকরির পরীক্ষার অপেক্ষায় ছিলেন, তাঁরা আবার আবেদন করার সুযোগ পেতে পারেন।
সামাজিক প্রকল্প নিয়ে বড় বার্তা
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে চালু থাকা কোনো সামাজিক প্রকল্প বন্ধ করা হচ্ছে না।
অর্থাৎ:
- লক্ষ্মীর ভাণ্ডার
- স্বাস্থ্য সাথী
- সবুজ সাথী
- মা ক্যান্টিন
সহ আগের সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প চালু থাকবে। তবে সমস্ত সুবিধা DBT (Direct Benefit Transfer)-এর মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
আগামী ক্যাবিনেট বৈঠকে আরও বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত
সরকার জানিয়েছে, আগামী সোমবার আবার মন্ত্রিসভার বৈঠক হবে। সেখানে:
- আরজিকর কাণ্ড
- নারী নিরাপত্তা
- দুর্নীতি
- DA
- Pay Commission
সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
নতুন সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক থেকেই স্পষ্ট, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দুই ক্ষেত্রেই দ্রুত একাধিক বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চাইছে বিজেপি সরকার।

