Work From Home Declare in Delhi: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জ্বালানি সংরক্ষণ এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর আহ্বানের পর বড় পদক্ষেপ নিল দিল্লি সরকার। জ্বালানির ব্যবহার কমানো, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে বাড়তে থাকা তেলের চাপ মোকাবিলায় একাধিক নতুন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, সরকারি দফতরে সপ্তাহে ২ দিন ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু করা হবে। পাশাপাশি অধিকাংশ সরকারি বৈঠক অনলাইনে করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সপ্তাহে একদিন “নো ভেহিকেল ডে” পালন করা হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
Work From Home Declare in Delhi: কেন এই সিদ্ধান্ত?
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বিদেশি মুদ্রার উপর বাড়তি চাপের মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দিল্লি সরকারের মতে, জ্বালানির অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমানো এখন অত্যন্ত জরুরি।
সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে:
- জ্বালানি খরচ কমবে
- দিল্লির যানজট কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে
- বায়ুদূষণ কমাতে সাহায্য করবে
- সরকারি খরচও কমানো সম্ভব হবে
- বিদেশি মুদ্রার উপর চাপ কমবে
সরকারি দফতরে ২ দিন ওয়ার্ক ফ্রম হোম
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, দিল্লি সরকারের বিভিন্ন দফতরে কর্মীদের সপ্তাহে দুই দিন বাড়ি থেকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এতে অফিসে যাতায়াত কমবে এবং প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ির রাস্তায় নামা কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর মতো ব্যস্ত শহরে এই ধরনের ব্যবস্থা ট্রাফিক এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
অনলাইন মিটিংয়ে জোর
সরকারি বৈঠক ও প্রশাসনিক মিটিংগুলিকে যতটা সম্ভব ভার্চুয়াল মাধ্যমে করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি গাড়ির ব্যবহার কমবে এবং সময়ও বাঁচবে।
করোনা পরবর্তী সময়ে ভার্চুয়াল মিটিংয়ের ব্যবহার বাড়লেও এবার তা জ্বালানি সাশ্রয়ের কৌশল হিসেবেও সামনে এল।
Work From Home Declare in Delhi: কী এই ‘নো ভেহিকেল ডে’?
দিল্লি সরকার সপ্তাহে একদিন “নো ভেহিকেল ডে” পালনের পরিকল্পনা করছে। ওই দিনে সাধারণ মানুষকে ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহণ ব্যবহার করতে উৎসাহ দেওয়া হবে।
যদিও এখনও পুরো নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়নি, তবে এই উদ্যোগকে পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্টে TET বাধ্যতামূলক নিয়ে বড় ইঙ্গিত, এদিকে আবার শুরু SLST 2016 ‘Recovery Process’
দূষণ ও ট্রাফিক কমাতে সাহায্য করবে?
দিল্লি দীর্ঘদিন ধরেই বায়ুদূষণ এবং যানজট সমস্যার মুখোমুখি। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, নিয়মিত ওয়ার্ক ফ্রম হোম এবং সীমিত যানবাহন ব্যবহার চালু হলে:
- ট্রাফিক কমতে পারে
- জ্বালানি খরচ কমবে
- বায়ুদূষণের মাত্রা কমতে পারে
- সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সময় বাঁচবে
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া
সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বলছেন, আবার কেউ মনে করছেন বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
তবে পরিবেশ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের দিক থেকে এটি দেশের অন্যান্য রাজ্যের কাছেও একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
ভবিষ্যতে আরও নতুন নিয়ম আসতে পারে
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই পরিকল্পনা সফল হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর জ্বালানি সাশ্রয় নীতি চালু হতে পারে। বড় শহরগুলিতে অফিস টাইম পরিবর্তন, গণপরিবহণে বিশেষ ছাড় এবং হাইব্রিড ওয়ার্ক মডেল আরও বাড়ানো হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দিল্লি সরকারের এই পদক্ষেপকে অনেকেই “স্মার্ট গভর্নেন্স” এবং “সাসটেইনেবল আরবান ম্যানেজমেন্ট”-এর অংশ হিসেবে দেখছেন।

