Know Your Doctor (KYD) | ভুয়ো ডাক্তার ধরতে বড় পদক্ষেপ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের, রাজ্যের ১.১০ লক্ষ চিকিৎসকের নথি যাচাই, চালু হবে KYD ব্যবস্থা

Share

সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

WhatsApp Group
Join Now

WB KYD System 2026: পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবায় স্বচ্ছতা ফেরাতে বড় পদক্ষেপের পথে রাজ্য সরকার। এবার রাজ্যের সমস্ত নথিভুক্ত চিকিৎসকের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত তথ্য নতুন করে যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভুয়ো ডিগ্রি, জাল মেডিক্যাল সার্টিফিকেট এবং অন্য চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে চিকিৎসা করার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এই প্রক্রিয়ার আওতায় আসতে পারেন রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে নথিভুক্ত প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার চিকিৎসক। পাশাপাশি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে KYD বা ‘Know Your Doctor’ ব্যবস্থা। এর উদ্দেশ্য, সাধারণ মানুষ যাতে চিকিৎসকের পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং রেজিস্ট্রেশন সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য জানতে পারেন।

৬ নভেম্বর ২০২৬, শুক্রবার রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এই উদ্যোগের কথা জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চিকিৎসকদের নথি যাচাইয়ের জন্য সরাসরি উপস্থিতি এবং ভিডিও কনফারেন্সিং, দুই ধরনের ব্যবস্থাই বিবেচনা করা হচ্ছে।

Google
Add West Bengal Times যুক্ত করুন গুগল-এ পছন্দের উৎস হিসেবে
Add Preference

WB KYD System: কী এই KYD (Know Your Doctor) ব্যবস্থা?

KYD-এর সম্পূর্ণ নাম হল Know Your Doctor। সহজ ভাষায়, এটি এমন একটি চিকিৎসক-পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে একজন রোগী জানতে পারবেন তিনি যে চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা করাচ্ছেন, সেই ব্যক্তি আদৌ স্বীকৃত চিকিৎসক কি না।

বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই রোগীরা চিকিৎসকের নামের পাশে লেখা ডিগ্রি বা চেম্বারের সাইনবোর্ড দেখেই তাঁর যোগ্যতা সম্পর্কে ধারণা করেন। কিন্তু সেই তথ্যের সত্যতা যাচাই করা সাধারণ মানুষের পক্ষে সবসময় সম্ভব হয় না।

KYD ব্যবস্থার লক্ষ্য হল চিকিৎসকের পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং মেডিক্যাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত তথ্যকে আরও সহজে যাচাইযোগ্য করে তোলা।

ভবিষ্যতে QR Code-ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু হলে চিকিৎসকের চেম্বার বা হাসপাতালে থাকা নির্দিষ্ট QR Code স্ক্যান করে তাঁর পেশাগত পরিচয় ও রেজিস্ট্রেশনের তথ্য দেখার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে পশ্চিমবঙ্গে এই QR Code ব্যবস্থা কীভাবে কার্যকর হবে, তা এখনও সরকারিভাবে চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

রাজ্যের ১.১০ লক্ষ চিকিৎসকের নথি যাচাই হবে

এই উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, যাচাইয়ের আওতায় শুধু নতুন চিকিৎসকেরা থাকবেন না। ১৯৯৬ সাল থেকে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলে যাঁদের নাম নথিভুক্ত রয়েছে, তাঁদের তথ্যও পুনরায় পরীক্ষা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

যাচাইয়ের ক্ষেত্রে মূলত দেখা হবে:

  • চিকিৎসকের MBBS ডিগ্রি ও অন্যান্য শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র।
  • যে বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি নেওয়া হয়েছে, তার স্বীকৃতি ও শংসাপত্রের সত্যতা।
  • মেডিক্যাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর।
  • চিকিৎসকের প্রকৃত পরিচয় ও রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত তথ্যের মিল।
  • অতিরিক্ত মেডিক্যাল ডিগ্রি ও বিশেষজ্ঞ যোগ্যতার প্রমাণ, যেখানে প্রযোজ্য।

এর মাধ্যমে কোনও ব্যক্তি জাল ডিগ্রি বা অন্যের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে চিকিৎসা করছেন কি না, তা চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হবে।

WB KYD System: কীভাবে হবে চিকিৎসকদের KYD Verification?

স্বাস্থ্য দফতরের ঘোষণায় চিকিৎসকদের নথি যাচাইয়ের জন্য দুটি পদ্ধতির কথা উঠে এসেছে।

১. সরাসরি উপস্থিত হয়ে নথি যাচাই (Physical Verification)

চিকিৎসকেরা নির্ধারিত জায়গায় উপস্থিত হয়ে তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল শংসাপত্র, মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি জমা দিয়ে যাচাই করাতে পারবেন।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া ডিগ্রি ও অন্যান্য শংসাপত্রের সত্যতাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে।

২. ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যাচাই (Online Verification)

বয়স্ক, অসুস্থ অথবা দূরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী চিকিৎসকদের জন্য ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যাচাইয়ের সুযোগ রাখার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।

এর ফলে প্রত্যেক চিকিৎসককে শুধুমাত্র নথি যাচাইয়ের জন্য কলকাতায় আসতে নাও হতে পারে। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় ও প্রয়োজনীয় নথি পরীক্ষা করা সম্ভব হবে।

এই কাজের জন্য একটি বেসরকারি সংস্থার সাহায্য নেওয়ার কথাও জানিয়েছে রাজ্য সরকার।

The official Maharashtra KYD platform: https://www.kyd.co.in/

মৃত বা চিকিৎসা বন্ধ করেছেন, এমন চিকিৎসকদের নাম বাদ যাবে?

নতুন উদ্যোগের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল মেডিক্যাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন তালিকা হালনাগাদ করা।

যেসব চিকিৎসক ইতিমধ্যে মারা গিয়েছেন, বিদেশে স্থায়ীভাবে চলে গিয়েছেন অথবা ভারতে চিকিৎসা করা বন্ধ করেছেন, তাঁদের নাম কাউন্সিলের নথিভুক্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর ফলে কাউন্সিলের রেজিস্টারে প্রকৃতপক্ষে সক্রিয় চিকিৎসকদের তথ্য আরও সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

বিশেষ করে অন্যের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে কেউ যাতে চিকিৎসা করতে না পারেন, সেই বিষয়েও নজর দেওয়া হবে।

WB KYD System: চিকিৎসকদের বর্তমান রেজিস্ট্রেশন কি বাতিল হয়ে যাবে?

এই ঘোষণা সামনে আসার পর অনেক চিকিৎসকের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে, তাঁদের বর্তমান মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশন কি বাতিল হয়ে যাবে?

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, নতুন সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বর্তমানে চালু থাকা সমস্ত রেজিস্ট্রেশন বৈধ থাকবে।

অর্থাৎ, KYD বা নথি পুনরায় যাচাইয়ের ঘোষণা হয়েছে বলেই চিকিৎসকদের বর্তমান রেজিস্ট্রেশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে না।

যাচাইয়ের উদ্দেশ্য হল শিক্ষাগত যোগ্যতা ও রেজিস্ট্রেশনের সত্যতা নিশ্চিত করা।

রোগীরা কীভাবে চিকিৎসকের পরিচয় যাচাই করতে পারবেন?

KYD ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য হল সাধারণ মানুষের হাতে চিকিৎসকের পরিচয় যাচাই করার সুবিধা পৌঁছে দেওয়া।

ভবিষ্যতে QR Code-ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু হলে সম্ভাব্য পদ্ধতিটি এমন হতে পারে:

  1. চিকিৎসকের চেম্বার বা হাসপাতালে প্রদর্শিত সরকারি KYD QR Code খুঁজে নিতে হবে।
  2. স্মার্টফোনের ক্যামেরা দিয়ে QR Code স্ক্যান করতে হবে।
  3. সংশ্লিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইট বা ভেরিফিকেশন পেজ খুলবে।
  4. সেখানে চিকিৎসকের নাম, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য দেখা যাবে।
  5. প্রদর্শিত তথ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরিচয় মিলিয়ে নিতে হবে।

তবে এই পদ্ধতিটি সম্ভাব্য ব্যবস্থা মাত্র। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে এখনও KYD-এর চূড়ান্ত QR Code ব্যবস্থা বা রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট ব্যবহারবিধি প্রকাশ করা হয়নি।

আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গের নতুন শিল্পনীতি ২০২৬ | বিনিয়োগে ১২০% পর্যন্ত সহায়তা, মহিলাদের জন্য বিশেষ সুবিধা

KYD-এর জন্য কি আলাদা ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ আসবে?

এটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। মহারাষ্ট্রে ইতিমধ্যেই KYD-এর QR Code-ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সেই মডেলে চিকিৎসকের পরিচয়, রেজিস্ট্রেশন এবং পেশাগত যোগ্যতা যাচাই করার সুবিধা পাওয়া যায়।

পশ্চিমবঙ্গেও ভবিষ্যতে এমন ব্যবস্থা চালু হতে পারে। সম্ভাব্য সুবিধাগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • অনলাইনে চিকিৎসকের তথ্য খোঁজার ব্যবস্থা।
  • QR Code স্ক্যান করে পরিচয় যাচাই।
  • চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান।
  • যাচাইকৃত চিকিৎসকদের ডিজিটাল ডেটাবেস।
  • মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য দেখার সুবিধা।

কিন্তু এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের জন্য নির্দিষ্ট KYD ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ বা QR Code ডাউনলোডের লিঙ্ক ঘোষণা করা হয়নি। তাই কোনও অননুমোদিত ওয়েবসাইটে চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত নথি বা টাকা জমা দেওয়া থেকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

সাধারণ মানুষের কী কী সুবিধা হতে পারে?

KYD ব্যবস্থা সঠিকভাবে কার্যকর হলে রোগী ও চিকিৎসক, উভয় পক্ষই উপকৃত হতে পারেন।

রোগীদের ক্ষেত্রে:

  • ভুয়ো চিকিৎসক চিহ্নিত করতে সুবিধা হবে।
  • চিকিৎসকের প্রকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই করা সহজ হবে।
  • রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সত্যতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।
  • চিকিৎসক নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়বে।
  • গ্রাম ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষও উপকৃত হতে পারেন।

প্রকৃত চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে:

  • যোগ্য ও নিবন্ধিত চিকিৎসকদের পরিচিতি আরও শক্তিশালী হবে।
  • অন্য কেউ তাঁদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করতে পারবেন না, এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।
  • পেশাগত বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে।
  • চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে আস্থা আরও মজবুত হতে পারে।

কবে থেকে চালু হবে পশ্চিমবঙ্গের KYD System?

৬ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে রাজ্য সরকার KYD উদ্যোগ এবং চিকিৎসকদের নথি পুনরায় যাচাইয়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। তবে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনও প্রকাশিত হয়নি।

বিশেষ করে চিকিৎসকদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ফর্ম, নথি আপলোডের লিঙ্ক, যাচাইয়ের তারিখ, QR Code এবং রোগীদের জন্য KYD পোর্টাল চালুর দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

প্রথম পর্যায়ে প্রায় ১.১০ লক্ষ চিকিৎসকের নথি যাচাইয়ের বিষয়টিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী নির্দেশিকা প্রকাশিত হলে চিকিৎসকেরা কীভাবে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন, তা আরও স্পষ্ট হবে।

চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে রোগীর সবচেয়ে বড় ভরসা হল চিকিৎসকের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা। কিন্তু সেই পরিচয় যাচাই করার সহজ ব্যবস্থা না থাকলে সাধারণ মানুষ অনেক সময় সমস্যায় পড়েন।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রস্তাবিত KYD উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসকের পরিচয় ও যোগ্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এই ব্যবস্থার সাফল্য নির্ভর করবে সঠিক নথি যাচাই, নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং সাধারণ মানুষের কাছে পরিষেবাটি সহজলভ্য করার উপর।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, চিকিৎসা করানোর আগে চিকিৎসকের যোগ্যতা ও বৈধ মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া।

Swastika Paul
Swastika Paulhttps://swastikapaul.in/
Swastika Paul is a distinguished innovator, educator, and the Ex-Principal of Tehatta Government ITI. Holding an M.Tech in Communication Engineering, she is dedicated to bridging the digital divide in rural India through technical skill development and inclusive leadership. A recognized voice in grassroots innovation, Swastika was honored with the "Principal of the Year" award at the Asia Education Conclave 2025.Beyond academia, she is the Co-founder of SD ONUPRON GROUP, where she has spent over 6 years curating impactful content on education, technology, and social awareness. Her dual expertise in engineering and digital media makes her a trusted authority in the evolving landscape of Indian technical education and social entrepreneurship.

Read more

Local News