সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
Annamrita Foundation West Bengal: পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল বা PM POSHAN প্রকল্পের খাবার সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তুতি শুরু হল। রাজ্যের সমস্ত জেলায় স্কুলের পড়ুয়াদের খাবার সরবরাহের জন্য অন্নমৃতা ফাউন্ডেশনকে নীতিগত অনুমোদন (Approval in Principle) দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই মর্মে ৭ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে স্কুল শিক্ষা দপ্তরের PM POSHAN শাখা থেকে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশিকায় সমস্ত জেলার জেলা শাসকদের পাশাপাশি শিলিগুড়ির মহকুমা শাসক এবং GTA-র শিক্ষা বিভাগের Executive Director-কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার কথা বলা হয়েছে। স্কুলগুলির অবস্থান, পড়ুয়াদের সংখ্যা এবং Central Kitchen তৈরির জন্য উপযুক্ত জায়গা চিহ্নিত করার কাজে জেলা প্রশাসনকে অন্নমৃতা ফাউন্ডেশনকে সহযোগিতা করতে হবে।
তবে এই বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার অর্থ এই নয় যে আগামীকাল থেকেই রাজ্যের প্রতিটি স্কুলে নতুন সংস্থার মাধ্যমে খাবার পৌঁছতে শুরু করবে। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি এবং প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে এই ব্যবস্থা চালু হবে। ফলে নতুন ব্যবস্থা কবে থেকে কোন জেলায় কার্যকর হবে, সেদিকেই নজর থাকছে স্কুল পড়ুয়া ও অভিভাবকদের।
৭ নভেম্বরের সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে ঠিক কী জানানো হয়েছে?
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের School Education Department-এর অধীন PM POSHAN প্রকল্পের State Project Director-এর অফিস থেকে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তির গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলি হল:
| বিবরণ | তথ্য |
|---|---|
| বিজ্ঞপ্তির তারিখ | ৭ নভেম্বর ২০২৬ |
| Memo Number | 386(23)-ES(PMP)/GENL-06/2026(PT-II) |
| দপ্তর | School Education Department |
| প্রকল্প | PM POSHAN |
| সংস্থা | Annamrita Foundation |
| অনুমোদন | Approval in Principle |
| কার্যক্ষেত্র | পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত জেলা |
সরকারি নির্দেশে জেলা প্রশাসনকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে বলা হয়েছে:
- সংশ্লিষ্ট এলাকার স্কুলগুলির অবস্থান ও পড়ুয়াদের Enrolment সংক্রান্ত তথ্য অন্নমৃতা ফাউন্ডেশনকে দিতে হবে।
- Central Kitchen বা কেন্দ্রীয় রান্নাঘর তৈরির জন্য উপযুক্ত জায়গা চিহ্নিত করতে সহযোগিতা করতে হবে।
- ফাউন্ডেশন কাজ শুরু করার জন্য প্রস্তুত হলে পরবর্তী পর্যায়ে প্রয়োজনীয় LOA (Letter of Acceptance) জারি করা হতে পারে।
অর্থাৎ, আপাতত অনুমোদনের পর প্রশাসনিক ও পরিকাঠামোগত প্রস্তুতির পর্যায় শুরু হচ্ছে।

PM POSHAN কী? কেন এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ?
PM POSHAN-এর সম্পূর্ণ নাম Pradhan Mantri Poshan Shakti Nirman। এটি কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের অধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্প। আগে এই প্রকল্প Mid-Day Meal Scheme নামে পরিচিত ছিল।
এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলের যোগ্য পড়ুয়াদের স্কুলের কর্মদিবসে রান্না করা পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা। শিশুদের ক্ষুধা ও অপুষ্টি কমানো, স্কুলে উপস্থিতি বাড়ানো এবং পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধিতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রধানত Bal Vatika এবং প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত নির্দিষ্ট যোগ্য পড়ুয়ারা এই প্রকল্পের আওতায় সুবিধা পান।
PM POSHAN প্রকল্পে পড়ুয়ারা কী কী সুবিধা পায়?
PM POSHAN শুধুমাত্র দুপুরের খাবার দেওয়ার প্রকল্প নয়। শিশুদের পুষ্টি ও শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করাও এর অন্যতম লক্ষ্য।
এই প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য সুবিধাগুলি হল:
- পুষ্টিকর খাবার: স্কুলের কর্মদিবসে পড়ুয়াদের রান্না করা খাবার দেওয়া হয়।
- অপুষ্টি কমানো: আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিশুদের পুষ্টির ঘাটতি কমাতে সহায়তা করে।
- স্কুলে উপস্থিতি বৃদ্ধি: নিয়মিত স্কুলে আসার আগ্রহ বাড়াতে সাহায্য করে।
- পড়াশোনায় মনোযোগ: দুপুরে খাবার পাওয়ার ফলে ক্ষুধাজনিত সমস্যা কমে।
- শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া কমানো: শিশুদের স্কুলমুখী রাখতে সহায়তা করে।
- সামাজিক সমতা: বিভিন্ন আর্থিক ও সামাজিক পটভূমির শিশুরা একসঙ্গে খাবার খাওয়ার সুযোগ পায়।
- স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: পরিচ্ছন্নতা ও পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করে।
প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরে কতটা পুষ্টি দেওয়ার লক্ষ্য?
PM POSHAN প্রকল্পে পড়ুয়াদের বয়স ও শিক্ষার স্তর অনুযায়ী পৃথক পুষ্টির মান নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাথমিক স্তর (Primary)
450 ক্যালোরি
প্রতি পড়ুয়া, প্রতিদিন
- প্রোটিন: ১২ গ্রাম
- খাদ্যশস্য: ১০০ গ্রাম
700 ক্যালোরি
প্রতি পড়ুয়া, প্রতিদিন
- প্রোটিন: ২০ গ্রাম
- খাদ্যশস্য: ১৫০ গ্রাম
উল্লেখিত মানগুলি প্রকল্পের নির্ধারিত পুষ্টিগত মান, খাবারের প্রতিটি দিনের মেনু নয়।
এই পুষ্টির মানের উদ্দেশ্য হল স্কুলের শিশুদের জন্য বয়স ও শিক্ষার স্তর অনুযায়ী পর্যাপ্ত শক্তি এবং প্রোটিনের যোগান নিশ্চিত করা।
অন্নমৃতা ফাউন্ডেশন কী? কীভাবে স্কুলে খাবার পৌঁছে দেবে?
অন্নমৃতা ফাউন্ডেশন একটি অলাভজনক সংস্থা, যা স্কুলের শিশুদের জন্য পুষ্টিকর রান্না করা খাবার সরবরাহের কাজ করে। সংস্থাটি Food for Life উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত।
সংস্থাটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মডেল হল Central Kitchen বা কেন্দ্রীয় রান্নাঘর। এই ব্যবস্থায় একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বড় পরিসরে খাবার প্রস্তুত করা হয়। এরপর পরিবহণের মাধ্যমে বিভিন্ন স্কুলে সেই খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়।
কলকাতার একাধিক স্কুলে ইতিমধ্যেই অন্নমৃতা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। এবার সেই পরিষেবা রাজ্যের অন্যান্য জেলায় সম্প্রসারণের জন্য নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
কবে থেকে সমস্ত জেলায় মিড-ডে মিল সরবরাহ শুরু হবে?
এখনই এই প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ ৭ নভেম্বরের বিজ্ঞপ্তিতে কোনও নির্দিষ্ট শুরুর তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
পরবর্তী পর্যায়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে হবে:
- জেলা অনুযায়ী স্কুল ও পড়ুয়ার সংখ্যা সংগ্রহ।
- Central Kitchen তৈরির উপযুক্ত জায়গা নির্বাচন।
- রান্নাঘরের পরিকাঠামো ও খাবার পরিবহণের ব্যবস্থা তৈরি।
- প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন সম্পন্ন করা।
- কাজ শুরু করার প্রস্তুতি হলে LOA জারি করা।
- এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন জেলায় পরিষেবা সম্প্রসারণ করা হবে।
স্কুলের রান্নার কর্মী ও ডিম সরবরাহের ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন হবে?
নতুন সিদ্ধান্ত ঘিরে স্কুল শিক্ষক, অভিভাবক এবং মিড-ডে মিলের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের মধ্যে কয়েকটি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে:
- স্কুলের নিজস্ব রান্নার কর্মীদের ভবিষ্যৎ কী হবে?
- নতুন ব্যবস্থায় রান্নার কর্মীদের কাজের দায়িত্বে পরিবর্তন আসবে কি?
- পড়ুয়াদের খাবারের মেনুতে আগের মতো ডিম দেওয়া হবে কি?
- ডিম সরবরাহের দায়িত্ব স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে থাকবে, নাকি নতুন সংস্থা তা পরিচালনা করবে?
- খাবার পরিবহণ ও গুণমান পরীক্ষা কীভাবে হবে?
এই বিষয়গুলির বিস্তারিত ৭ নভেম্বরের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ নেই। তাই পরবর্তী সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এসব বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।
অভিভাবকদের কি নতুন করে আবেদন করতে হবে?
না। ৭ নভেম্বরের বিজ্ঞপ্তিটি কোনও ছাত্রছাত্রী ভর্তি, নিবন্ধন বা আবেদন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি নয়। এটি PM POSHAN প্রকল্পের খাবার সরবরাহের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে জারি করা হয়েছে।
যোগ্য পড়ুয়াদের জন্য প্রকল্পের সুবিধা চালু থাকবে। নতুন ব্যবস্থার বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য স্কুল ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জানা যাবে।
সব মিলিয়ে কী জানা গেল?
পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত জেলায় PM POSHAN প্রকল্পের খাবার সরবরাহের জন্য অন্নমৃতা ফাউন্ডেশনকে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল পরিচালনার ক্ষেত্রে Central Kitchen-ভিত্তিক নতুন ব্যবস্থার সম্প্রসারণের পথ তৈরি হল।
তবে পরিষেবা কবে থেকে শুরু হবে, কোন জেলায় প্রথম চালু হবে, খাবারের মেনু কী থাকবে এবং রান্নার কর্মীদের দায়িত্বে কী পরিবর্তন আসবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পরবর্তী সরকারি নির্দেশিকার উপরই এখন নজর থাকবে।

