সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
IRCTC New Ghar Se Ghar Tak Parcel Service 2026: ভারতীয় রেলের পরিষেবায় আসতে চলেছে নতুন সুবিধা। এবার পার্সেল পাঠানোর জন্য আর বারবার রেলস্টেশনে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। বাড়িতে বসেই পার্সেল বুকিং, অনলাইন পেমেন্ট এবং ট্র্যাকিংয়ের সুবিধা দিতে চালু হচ্ছে রেলের ‘ঘর সে ঘর তক’ (Ghar Se Ghar Tak) পরিষেবা। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট শহরগুলিতে বাড়ি থেকেই পার্সেল সংগ্রহ করে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
রেলের এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ছোট ব্যবসায়ী, অনলাইন বিক্রেতা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগপতিরা বিশেষভাবে উপকৃত হতে পারেন। কীভাবে এই পরিষেবায় বুকিং করবেন, কোন কোন শহরে পাওয়া যাবে এবং পার্সেল পাঠানোর ক্ষেত্রে কী কী নিয়ম রয়েছে, জেনে নিন বিস্তারিত।
IRCTC New Ghar Se Ghar Tak Parcel Service: কোন ৮টি শহরে প্রথম চালু হবে এই পরিষেবা?
রেলওয়ে বোর্ডের ২৬ অক্টোবর ২০২৬-এর Freight Marketing Circular No. 27 of 2026 অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে দেশের আটটি বড় শহরে এই পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
- কলকাতা
- দিল্লি
- মুম্বই
- চেন্নাই
- আহমেদাবাদ
- হায়দরাবাদ
- বেঙ্গালুরু
- পুনে
অর্থাৎ, কলকাতার বাসিন্দারাও এই পরিষেবার আওতায় আসবেন। তবে মনে রাখতে হবে, আটটি শহরের নাম ঘোষণা করা হলেও পরিষেবাটি এখনও সর্বসাধারণের জন্য চালু হয়নি। CRIS-এর প্রয়োজনীয় পরীক্ষামূলক কাজ শেষ হওয়ার পর কার্যকর হওয়ার তারিখ জানানো হবে।
কীভাবে কাজ করবে রেলের ‘ঘর সে ঘর তক’ পরিষেবা?
এই পরিষেবার মূল আকর্ষণ হল, পার্সেল পরিবহণের তিনটি ধাপকে একসঙ্গে যুক্ত করা।
- প্রথম ধাপ: বাড়ি থেকে পার্সেল সংগ্রহ। নির্বাচিত Logistics Service Provider (LSP) গ্রাহকের বাড়ি বা দোকান থেকে পার্সেল সংগ্রহ করবে।
- দ্বিতীয় ধাপ: ট্রেনে পরিবহণ। পার্সেলটি সংশ্লিষ্ট রেলস্টেশনে পৌঁছে দেওয়া হবে। এরপর ভারতীয় রেল নির্দিষ্ট গন্তব্য স্টেশন পর্যন্ত সেটি পরিবহণ করবে।
- তৃতীয় ধাপ: গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া। গন্তব্য স্টেশনে পৌঁছনোর পর লজিস্টিক পার্টনার পার্সেলটি প্রাপকের বাড়ি বা নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছে দেবে।
গ্রাহক চাইলে শুধু স্টেশন থেকে স্টেশন পর্যন্ত পরিবহণও বেছে নিতে পারবেন। আবার বাড়ি থেকে সংগ্রহ এবং বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার সুবিধাও নিতে পারবেন।
IRCTC New Ghar Se Ghar Tak Parcel Service: কীভাবে বুকিং করবেন? রইল ধাপে ধাপে পদ্ধতি
প্রস্তাবিত Rail Parcel App অথবা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বুকিং করা যাবে। বুকিংয়ের জন্য পদ্ধতিটি হবে নিম্নরূপ:
১. অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন: প্রথমে Rail Parcel App বা ওয়েবসাইটে মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে User ID তৈরি করতে হবে।
২. লজিস্টিক পার্টনার নির্বাচন করুন: অ্যাপে উপলব্ধ Logistics Service Provider (LSP)-দের মধ্যে থেকে পছন্দের পরিষেবা প্রদানকারী নির্বাচন করতে হবে।
৩. পার্সেলের বিবরণ দিন: কোথা থেকে পার্সেল পাঠাবেন, কোন স্টেশনে যাবে, প্রেরক ও প্রাপকের ঠিকানা, পার্সেলের ওজন, আকার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।
৪. পিকআপ ও ডেলিভারি বেছে নিন: বাড়ি থেকে পার্সেল সংগ্রহ এবং গন্তব্যে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার পরিষেবা প্রয়োজন হলে সেটি নির্বাচন করতে হবে। দুই সুবিধা একসঙ্গে নিলে একই LSP-কে উভয় পরিষেবা দিতে হবে।
৫. চার্জ দেখে পেমেন্ট করুন: রেলের পরিবহণ খরচ এবং লজিস্টিক পার্টনারের পরিষেবা খরচ আলাদাভাবে দেখানো হবে। সবকিছু যাচাই করে অনলাইনে পেমেন্ট করতে হবে।
৬. পার্সেল ট্র্যাক করুন: বুকিং সম্পন্ন হলে ডিজিটাল রসিদ ও Parcel Railway Receipt (PRR) তৈরি হবে। অ্যাপ এবং রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে পার্সেলের অবস্থান ও ডেলিভারি সংক্রান্ত আপডেট পাওয়া যাবে।
IRCTC New Ghar Se Ghar Tak Parcel Service: কতদিন আগে বুকিং করতে হবে?
রেলের নতুন নিয়ম অনুযায়ী:
- সর্বোচ্চ ১৫ দিন আগে পার্সেল বুকিং করা যাবে।
- নির্ধারিত ট্রেন ছাড়ার অন্তত এক দিন আগে বুকিং করতে হবে।
- ট্রেনে পার্সেল বহনের জায়গা থাকা সাপেক্ষে বুকিং নিশ্চিত হবে।
- নির্বাচিত LSP-কে ট্রেন ছাড়ার ১২ ঘণ্টা থেকে ১ ঘণ্টা আগে সংশ্লিষ্ট স্টেশনে পার্সেল জমা দিতে হবে।
- অ্যাপে গ্রাহকরা উপলব্ধ পিকআপ স্লট দেখে নিজেদের সুবিধামতো সময় বেছে নিতে পারবেন।
পার্সেল পাঠাতে কত টাকা খরচ হবে?
এই পরিষেবার জন্য এখনও কোনও নির্দিষ্ট সর্বজনীন চার্জ ঘোষণা করা হয়নি। পার্সেলের খরচ নির্ভর করবে কয়েকটি বিষয়ের উপর:
- পার্সেলের ওজন ও আকার।
- যাত্রাপথের দূরত্ব।
- কোন ধরনের ট্রেনে পার্সেল পাঠানো হচ্ছে।
- রেলের নির্ধারিত P, R অথবা S স্কেল অনুযায়ী পরিবহণ খরচ।
- বাড়ি থেকে সংগ্রহ ও গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার লজিস্টিক চার্জ।
- প্যাকেজিং, স্টোরেজ বা অন্যান্য অতিরিক্ত পরিষেবা।
তবে গ্রাহকদের সুবিধার জন্য রেল পরিবহণ এবং লজিস্টিক পরিষেবার খরচ আলাদা করে দেখানো হবে। UPI, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড ও নেট ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে একবারেই পেমেন্ট করা যাবে।
বুকিং বাতিল করলে কি টাকা ফেরত পাওয়া যাবে?
রেলের নির্ধারিত নিয়মে বুকিং বাতিলের ক্ষেত্রেও কিছু শর্ত রাখা হয়েছে।
- পার্সেল সংগ্রহের আগে বুকিং বাতিল করলে রেলের পরিবহণ খরচ থেকে ১০ টাকা Clerkage Charge কেটে বাকি টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
- বাড়ি থেকে সংগ্রহ এবং গন্তব্যে ডেলিভারির জন্য দেওয়া টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট LSP-র নিজস্ব Refund Policy অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
- LSP পার্সেল সংগ্রহ করে নেওয়ার পর সাধারণত বুকিং বাতিল করা যাবে না এবং টাকা ফেরতের সুবিধাও থাকবে না।
- PRR তৈরি হওয়ার পর বাতিলের ক্ষেত্রে সাধারণত রিফান্ড পাওয়া যাবে না। তবে নির্দিষ্ট ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে রেলের নিয়ম অনুযায়ী বিবেচনা করা হতে পারে।
কোন কোন জিনিস পার্সেল হিসেবে পাঠানো যাবে না?
এই পরিষেবায় পার্সেল পাঠানোর ক্ষেত্রে রেলের নির্ধারিত নিরাপত্তা বিধি মানতে হবে। বিপজ্জনক, বিস্ফোরক, দাহ্য এবং আইনত নিষিদ্ধ সামগ্রী পরিবহণ করা যাবে না।
এছাড়া পার্সেল সঠিকভাবে প্যাকিং করতে হবে। প্রয়োজন হলে LSP-র কাছ থেকে প্যাকেজিং পরিষেবাও নেওয়া যাবে। কিছু বিশেষ সামগ্রীর ক্ষেত্রে রেলের নির্ধারিত প্যাকেজিং বিধি মানা বাধ্যতামূলক।
ছোট ব্যবসায়ী ও অনলাইন বিক্রেতাদের জন্য বড় সুবিধা
রেলের এই উদ্যোগ শুধু ব্যক্তিগতভাবে পার্সেল পাঠানোর ক্ষেত্রে নয়, ব্যবসার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসায়ী, ই-কমার্স বিক্রেতা এবং ক্ষুদ্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা উপকৃত হতে পারেন।
ধরা যাক, কলকাতার কোনও ছোট ব্যবসায়ী দিল্লিতে পণ্য পাঠাতে চান। আগে তাঁকে পণ্য প্যাক করে রেলস্টেশনে নিয়ে যেতে হতো এবং গন্তব্যে পৌঁছনোর পর প্রাপককে নিজে গিয়ে পার্সেল সংগ্রহ করতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় বাড়ি বা দোকান থেকেই পার্সেল সংগ্রহ এবং গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার সুবিধা পাওয়া যাবে।
এছাড়া ডিজিটাল বুকিং, অনলাইন পেমেন্ট, পার্সেল ট্র্যাকিং এবং OTP-ভিত্তিক হস্তান্তর ব্যবস্থার ফলে পরিষেবাটি আরও সহজ ও স্বচ্ছ হতে পারে।
কবে থেকে চালু হবে এই পরিষেবা?
এখনই এই পরিষেবায় বুকিং শুরু হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। রেলওয়ে বোর্ডের ২৬ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, Rail Parcel App-এর Android, iOS এবং ওয়েব সংস্করণ তৈরি করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষামূলক কাজ শেষ হওয়ার পর পরিষেবা চালুর তারিখ জানানো হবে।
তাই আপাতত যাঁরা এই পরিষেবার মাধ্যমে পার্সেল পাঠাতে চান, তাঁদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
সব মিলিয়ে, ভারতীয় রেলের ‘ঘর সে ঘর তক’ পরিষেবা চালু হলে পার্সেল পরিবহণে নতুন দিগন্ত খুলতে পারে। বিশেষ করে কলকাতা-সহ আটটি শহরের মানুষের কাছে বাড়ি থেকে পার্সেল পাঠানোর সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। তবে পরিষেবাটি বাস্তবে চালু হওয়ার পরই এর বুকিং ব্যবস্থা, খরচ এবং কার্যকারিতা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

