সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
WB Janatar Darbar: সরকারি দফতরে গিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ বা সমস্যার কথা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের কাছে সরাসরি জানানো আরও সহজ করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এবার থেকে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দু’দিন সরকারি দফতরের আধিকারিকদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে তাঁদের অভিযোগ শুনতে হবে। এর জন্য কোনও আগাম অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রয়োজন হবে না।
২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের Personnel & Administrative Reforms Department-এর তরফে জারি করা নির্দেশে এই ব্যবস্থা চালুর কথা জানানো হয়েছে। নির্দেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।
WB Janatar Darbar: সপ্তাহে কোন দু’দিন ‘জনতার দরবার’?
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতি মঙ্গলবার এবং বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দফতরে থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করতে হবে।
এই সময়ে নাগরিকরা তাঁদের অভিযোগ, সমস্যা বা প্রশাসনিক বিষয়ে সরাসরি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। এর জন্য আগে থেকে কোনও Appointment নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
অর্থাৎ, কোনও সরকারি পরিষেবা নিয়ে সমস্যা হলে বা কোনও অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকলে নির্দিষ্ট দিনে দফতরে গিয়ে সরাসরি দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের কাছে বিষয়টি তুলে ধরার সুযোগ থাকছে।
কারা এই ব্যবস্থার আওতায়?
শুধু জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরাই নন, নির্দেশের আওতায় বিভিন্ন স্তরের Field-Level Officer-দের রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন জেলা থেকে ব্লক স্তরের বিভিন্ন প্রশাসনিক আধিকারিক, পুলিশ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট আধিকারিক, বন দফতরের আধিকারিক এবং অন্যান্য Line Department-এর Field-Level Officer-রা।
নির্দেশ অনুযায়ী, এই ব্যবস্থার আওতায় পড়বেন যেমন:
- জেলা শাসক
- মহকুমাশাসক
- অতিরিক্ত জেলা শাসক
- BDO বা ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক
- পুর কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট Urban Local Body-এর আধিকারিক
- পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন Field-Level Officer
- থানার Inspector/Officer-in-Charge
- বন দফতরের সংশ্লিষ্ট আধিকারিক
- বিভিন্ন দফতরের জেলা, মহকুমা ও ব্লক স্তরের আধিকারিক
ফলে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ আরও বাড়বে।
WB Janatar Darbar: ওই সময়ে অফিসে অন্য কাজ বা মিটিং?
সরকারের নির্দেশে এই বিষয়টিও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৩০টা থেকে দুপুর ১টার নির্ধারিত সময়ে যতটা সম্ভব কোনও সরকারি মিটিং, ট্যুর বা অন্য অফিসিয়াল ব্যস্ততা রাখা যাবে না।
অর্থাৎ, এই সময়টিকে সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনা এবং তাঁদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের জন্য গুরুত্ব দিতে হবে।
দফতরের বাইরে থাকবে সময়সূচি ও যোগাযোগের তথ্য
সাধারণ মানুষ যাতে আগে থেকেই জানতে পারেন কোন দিনে এবং কখন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করা যাবে, সেজন্য অফিসের দৃশ্যমান জায়গায় এই সময়সূচি prominently display করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের সরকারি ই-মেল ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বরও অফিসে সহজে দেখা যায় এমন জায়গায় প্রকাশ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট দফতর বা অফিসের সরকারি ওয়েবসাইটেও এই তথ্য প্রকাশ করার কথা বলা হয়েছে।
এর ফলে সরাসরি যোগাযোগের পথ আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
WB Janatar Darbar: অনলাইন অভিযোগের পাশাপাশি এবার সরাসরি সাক্ষাৎ
বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি দফতরে অনলাইনে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে। তবে ডিজিটাল পরিষেবা ব্যবহারের সুযোগ বা সক্ষমতা সবার সমান নয়। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই এই নতুন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
সরকারি নির্দেশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই ‘জনতার দরবার’ ব্যবস্থা অনলাইন grievance-redressal ব্যবস্থার বিকল্প নয়, বরং তার পরিপূরক। অর্থাৎ অনলাইনে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা যেমন থাকবে, তেমনই যাঁরা সরাসরি আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করে সমস্যা জানাতে চান, তাঁরাও সুযোগ পাবেন।
বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার বা ডিজিটাল পরিষেবা ব্যবহারে সমস্যায় থাকা মানুষের জন্য এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ পোর্টালেও নজর
নির্দেশে ‘আপনার সরকার আপনার পাশে’ (ASAP) পোর্টাল-এর ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার কথাও বলা হয়েছে। এই পোর্টালের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে হওয়া জনসাধারণের অভিযোগ এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার রেকর্ড রাখার ব্যবস্থা আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুধু অভিযোগ গ্রহণ করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না। অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেটিও নথিভুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রয়োজনে উচ্চতর আধিকারিকরা অভিযোগের Disposition এবং Review-ও করবেন। ফলে অভিযোগের পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়টিও প্রশাসনিক নজরদারির মধ্যে থাকবে।
আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গ ৭ম পে কমিশন ২০২৬: অনলাইনে Memorandum ও Suggestions জমা শুরু, শেষ তারিখ ৩১ অক্টোবর
শুধু অভিযোগ শোনা নয়, সমাধানের দিকেও নজর
নতুন ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, এটি শুধুমাত্র অভিযোগ গ্রহণের একটি নতুন পদ্ধতি হিসেবে দেখা হচ্ছে না। অভিযোগ পাওয়ার পর তার ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেটিও পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে।
জেলা ও অন্যান্য উচ্চতর প্রশাসনিক স্তরের আধিকারিকদের মাধ্যমে এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যালোচনার কথাও নির্দেশে উল্লেখ রয়েছে।
অর্থাৎ, কোনও সাধারণ মানুষ অভিযোগ জানালেন এবং তারপর বিষয়টি কোথায় গেল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার জন্য প্রশাসনিক স্তরে একটি accountability বা দায়বদ্ধতার কাঠামো তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের জন্য কী বদল আসতে পারে?
এই নির্দেশ কার্যকর হলে কোনও সরকারি দফতরে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা সমস্যা নিয়ে সাধারণ মানুষকে শুধুমাত্র অনলাইন পোর্টাল বা চিঠিপত্রের ওপর নির্ভর করতে হবে না। নির্দিষ্ট মঙ্গলবার বা বৃহস্পতিবার দফতরে গিয়ে সরাসরি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ থাকবে।
সবচেয়ে বড় সুবিধা হতে পারে, আগাম Appointment ছাড়াই নির্দিষ্ট সময়ে আধিকারিকের কাছে পৌঁছনোর সুযোগ।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। এই ব্যবস্থা সরকারি দফতরের নির্ধারিত কাজের নিয়মকে বাতিল করছে না। বরং সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনা, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এবং সেই পদক্ষেপের রেকর্ড রাখার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই নির্দেশ।
এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
| বিষয় | নির্দেশ |
| ‘জনতার দরবার’ | প্রতি সপ্তাহে ২ দিন |
| দিন | মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার |
| সময় | সকাল ১০:৩০টা থেকে দুপুর ১টা |
| Appointment | আগাম প্রয়োজন নেই |
| কারা শুনবেন | সংশ্লিষ্ট Field-Level Officer |
| ই-মেল ও মোবাইল | অফিস ও সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ |
| অনলাইন অভিযোগ | চালু থাকবে |
| ASAP পোর্টাল | অভিযোগ ও পদক্ষেপের রেকর্ড জোরদার |
| কার্যকর | নির্দেশ জারির সঙ্গে সঙ্গে |
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই নতুন নির্দেশে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সপ্তাহে দু’দিন নির্দিষ্ট সময়ে আধিকারিকদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করতে হবে। ফলে সরকারি পরিষেবা, প্রশাসনিক সমস্যা বা অভিযোগ নিয়ে সাধারণ নাগরিকের সরাসরি কথা বলার একটি নির্দিষ্ট ও সহজ পথ তৈরি হতে চলেছে।

