সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ICT Teachers Protest at Bikash Bhavan 2026: পুজোর আগে চাকরি হারানোর অভিযোগ তুলে পথে নামলেন এজেন্সির মাধ্যমে নিযুক্ত কম্পিউটার শিক্ষকরা। সোমবার কলকাতায় বিকাশ ভবন অভিযানের ডাক দেন ষষ্ঠ ও সপ্তম পর্যায়ে নিযুক্ত ICT কম্পিউটার শিক্ষকরা। বইমেলা প্রাঙ্গণ থেকে মিছিল করে বিকাশ ভবনের দিকে এগোন বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন ছিল পুলিশ।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে এজেন্সির মাধ্যমে স্কুলগুলিতে কম্পিউটার শিক্ষকের কাজ করলেও তাঁদের চাকরি স্থায়ীকরণ বা সরকারি আওতায় আনার দাবি পূরণ হয়নি। এরই মধ্যে চাকরি বাতিলের নোটিস পাওয়ার অভিযোগ তুলে তাঁরা আন্দোলনে নামেন।
ICT Teachers Protest at Bikash Bhavan: ২২ তারিখে Termination-এর মেইল পাওয়ার অভিযোগ
আন্দোলনকারীদের একাংশের দাবি, গত ২২ সেপ্টেম্বর তাঁদের কাছে Termination-এর মেইল পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ৯ অক্টোবরের পর থেকে তাঁরা আর স্কুলে কাজ করতে পারবেন না বলে জানানো হয়েছে।
এক বিক্ষোভকারী বলেন, তাঁরা কোম্পানির অধীনে নিযুক্ত হয়ে গত কয়েক বছর ধরে স্কুলে কাজ করছেন। তাঁদের দাবি, প্রথম থেকে পঞ্চম পর্যায়ে নিযুক্ত অনেক কর্মীকে পরবর্তীতে সরকারি চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থায় নেওয়া হলেও ষষ্ঠ ও সপ্তম পর্যায়ের কর্মীরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
তাঁদের আরও দাবি, কাজের ধরনেও কোনও বড় পার্থক্য নেই। স্কুলের বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে তথ্য আপলোড, নম্বর তোলা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজেও তাঁদের যুক্ত থাকতে হয়।
বেতন নিয়েও ক্ষোভ
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা মাসে প্রায় ৬,৮৮২ টাকা বেতনে কাজ করছেন। আরেক বিক্ষোভকারী মাসিক বেতন হিসেবে ৭,১৩৪ টাকা পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
তাঁদের অভিযোগ, এই সামান্য পারিশ্রমিকে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করার পরও চাকরির নিরাপত্তা নেই। ফলে চাকরি বাতিলের নোটিস তাঁদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
‘এজেন্সি চাই না, সরকারি আওতায় আনতে হবে’
বিক্ষোভকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি হল এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগের পরিবর্তে তাঁদের সরকারি আওতায় আনা।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, ৬ষ্ঠ ও ৭ম পর্যায়ের মোট ৩,৭১৯ জন ICT কম্পিউটার শিক্ষককে সরকারি আওতায় নেওয়া হোক। তাঁদের স্লোগানেও বারবার উঠে আসে সরকারিকরণের দাবি।
এক আন্দোলনকারী বলেন, “আমাদের একটাই লক্ষ্য, ICT 6th ও 7th Phase-এর সরকারিকরণ অবিলম্বে করতে হবে।” তাঁদের দাবি, প্রায় পাঁচ বছর ধরে তাঁরা এজেন্সির মাধ্যমে কাজ করছেন এবং এবার তাঁদের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
আরও পড়ুন: ২০২৬-২৮ শিক্ষাবর্ষে B.Ed কলেজের তালিকা প্রকাশ | PDF ডাউনলোড করুন, ১৭২টি প্রতিষ্ঠানের নাম জানাল BSAEU
বিকাশ ভবনের সামনে বাড়ে উত্তেজনা
বিকাশ ভবন অভিযানের সময় শহরের রাজপথের একটি অংশে বিক্ষোভকারীদের জমায়েত হয়। হাতে পোস্টার ও ব্যানার নিয়ে স্লোগান দিতে দেখা যায় তাঁদের। ভিডিওতে বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারীর উপস্থিতির পাশাপাশি পুলিশের মোতায়েনও দেখা গেছে।
বিক্ষোভকারীরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁদের দাবির বিষয়টি তুলে ধরার কথাও জানান। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে আশ্বাস পাওয়ার পরও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। এবার তাঁরা সরাসরি সরকারের কাছে ৩,৭১৯ জন ICT শিক্ষককে সরকারি আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছেন।
ICT Teachers Protest at Bikash Bhavan: এখন নজর সরকারের সিদ্ধান্তে
চাকরি বাতিলের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের কম বেতন এবং সরকারি আওতায় আনার দাবিকে কেন্দ্র করে নতুন করে সরব হয়েছেন ICT কম্পিউটার শিক্ষকরা। তাঁদের আন্দোলনের পর সরকারের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ করা হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
তবে বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য স্পষ্ট, এজেন্সির মাধ্যমে কাজ নয়, চাকরির নিরাপত্তা এবং সরকারি আওতায় অন্তর্ভুক্তিই তাঁদের মূল দাবি।
