New Chief Minister in West Bengal in 2026: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হলো। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে এবার প্রথমবারের মতো বাংলার ক্ষমতায় আসছে বিজেপি।
পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের দাবি জানাতে শুক্রবার সন্ধ্যায় শুভেন্দু অধিকারী লোক ভবনে পৌঁছান। শুক্রবার ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করে; দলের রাজ্য শাখার পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে তাঁকে নির্বাচিত করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের বিষয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুক্রবার কলকাতায় পৌঁছান। পশ্চিমবঙ্গে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের জন্য শাহকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল।
New Chief Minister in West Bengal: বাংলার রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন
এই ফলাফল শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বড় মোড় বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একসময় যে রাজ্যে বিজেপি সংগঠন গড়ে তুলতেই লড়াই করত, সেই রাজ্যেই এবার তারা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে চলেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজ্যের ক্ষমতায় ছিল। তবে এবারের নির্বাচনে বিজেপির সংগঠিত প্রচার, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাধিক সভা এবং বিরোধী ভোটের মেরুকরণ শেষ পর্যন্ত রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ পুরো বদলে দেয়।
কেন শুভেন্দু অধিকারীই হলেন বিজেপির প্রথম পছন্দ
শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক যাত্রা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠনকে গ্রামীণ বাংলায় শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল। একসময় তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।
কিন্তু পরবর্তীতে দলের সঙ্গে মতবিরোধ বাড়তে থাকায় ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। তারপর থেকেই রাজ্যে বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন শুভেন্দু।
২০২১ সালের নন্দীগ্রাম নির্বাচনে তিনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। সাম্প্রতিক নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও তিনি বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। বিজেপির অন্দরে মনে করা হচ্ছে, তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনসংযোগই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রেখেছিল।
New Chief Minister in West Bengal: “ভয়ের রাজনীতি শেষ, এখন ভরসার সময়”
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বাংলার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন। তিনি জানান, ভয় ও সন্ত্রাসের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে এবার উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার উপর জোর দেবে নতুন সরকার।
তিনি আরও বলেন, বিজেপি নির্বাচনী ইশতেহারে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের দিকেই নতুন সরকার অগ্রাধিকার দেবে।
উপ-মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে জোর জল্পনা
রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে। সূত্রের খবর, বিজেপি এবার দু’জন উপ-মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। সম্ভাব্য নাম হিসেবে উঠে আসছে আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল এবং শিলিগুড়ির শঙ্কর ঘোষের নাম।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি পদ মহিলা নেত্রীর হাতে তুলে দেওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল।
ব্রিগেডে হতে চলেছে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান
নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আগামীকাল কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় নেতৃত্ব এবং একাধিক বিজেপি-শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজনৈতিকভাবে এই অনুষ্ঠানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ বাংলায় বিজেপির প্রথম সরকার গঠনের সাক্ষী হতে চলেছে ব্রিগেড।
New Chief Minister in West Bengal: শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক পরিক্রমা
অধিকারী তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রাথমিক পর্বটি তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেই গড়ে তুলেছিলেন এবং গ্রামীণ এলাকায় দলের সংগঠন বিস্তারে তিনি এক বিশাল ভূমিকা পালন করেছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মতপার্থক্য ক্রমশ বাড়তে থাকার পরেই তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি পশ্চিমবঙ্গে দলটির অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন এবং তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক প্রচারভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
বিজেপির বরিষ্ঠ নেতারা জানিয়েছেন যে, অধিকারীর শক্তিশালী সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি নির্বাচনে জয়লাভ—এই বিষয়গুলোই তাঁকে শীর্ষ পদের দাবিদার হিসেবে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। দলের অন্দরে রাসবিহারী থেকে জয়ী শমীক ভট্টাচার্য এবং স্বপন দাশগুপ্ত-সহ অন্যান্যদের নাম নিয়েও আলোচনা চললেও, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত অধিকারীর নামেই সিলমোহর দিয়েছে।
বিজেপির এই সাফল্য তৃণমূলের দেড় দশকেরও বেশি সময়ের একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান ঘটিয়েছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে দলটি তৃণমূলের সামনে এক জোরালো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেও শেষ পর্যন্ত জয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে পারেনি; তবে এবার তারা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
নতুন অধ্যায়ের সামনে পশ্চিমবঙ্গ
বাংলার রাজনীতিতে এই পরিবর্তন আগামী দিনে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করা এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের জন্যও এটি আত্মসমালোচনার সময় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘদিনের ক্ষমতার পরাজয়ের পর এখন বিরোধী রাজনীতির নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে রাজ্যে।
সব মিলিয়ে, শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অভিষেক শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলেই মনে করা হচ্ছে।
Know More: https://en.wikipedia.org/wiki/Chief_Minister_of_West_Bengal

