সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
Nepal Flash Flood 2026: নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যস্ত পরিস্থিতি। রাসুয়া জেলার রাসুয়াগাড়ি ও তিমুরে এলাকার কাছে আচমকা জল, কাদা ও পাথরের স্রোতে বহু মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তালিকায় ১০৫ জন ভারতীয় পর্যটক নিখোঁজ থাকার কথা জানানো হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে অনেকেই কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে নেপালের এই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। পরবর্তী আপডেটে নিখোঁজ ভারতীয়ের সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
Nepal Flash Flood 2026: রাসুয়াগাড়ির কাছে আচমকা বিপর্যয়
বুধবার, ২৬ আগস্ট সকালে নেপালের রাসুয়া জেলার ভোতে কোশি নদী এবং সংলগ্ন এলাকায় আচমকা ভয়াবহ জলস্রোত নেমে আসে। রাসুয়াগাড়ি-তিমুরে করিডরটি নেপাল ও তিব্বতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ এবং একই সঙ্গে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার অন্যতম রুট।
প্রচণ্ড স্রোতে রাস্তা, সেতু, গাড়ি, দোকানপাট এবং একাধিক পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় ওই এলাকায় থাকা বহু পর্যটক ও তীর্থযাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
১০৫ ভারতীয় পর্যটক নিখোঁজের খবর
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী, বন্যার পর ৩৮৪ জন পর্যটক ও যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। তাঁদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালের নাগরিক ছিলেন। বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ছিলেন ভারতীয়, প্রাথমিক তালিকায় ১০৫ জন ভারতীয়ের নাম ছিল।
তবে এটি ছিল প্রাথমিক হিসাব এবং তালিকাটি যাচাই করা হচ্ছিল। পরবর্তী আপডেটে ভারতীয় নিখোঁজের সংখ্যা ১৩৩ জন পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। ফলে নিখোঁজদের সংখ্যা নিয়ে সরকারি যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংখ্যাটি পরিবর্তিত হতে পারে।
আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে ২৫ হাজার সরকারি চাকরির বড় উদ্যোগ | PSC-র মাধ্যমে নিয়োগে জোর, গ্রুপ A, B ও C পদে সুযোগ
Nepal Flash Flood: কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রীদের নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
রাসুয়াগাড়ি এলাকা কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিব্বতের দিকে যাওয়ার আগে বহু ভারতীয় তীর্থযাত্রী এই নেপাল সীমান্তপথ ব্যবহার করেন।
এই কারণেই হড়পা বান আছড়ে পড়ার পর কৈলাস-মানস সরোবরগামী ভারতীয় যাত্রীদের নিয়ে উদ্বেগ দ্রুত বাড়তে থাকে। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ৪০০ জন কৈলাসযাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ভারতীয় ছাড়াও নেপালি ও অন্যান্য দেশের যাত্রী ছিলেন।
Affected Area Google Map Location: https://maps.app.goo.gl/gmtTXWZzgEoi9t54A
কী কারণে এত ভয়াবহ হড়পা বান?
প্রাথমিকভাবে ঘটনার কারণ নিয়ে একাধিক সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। প্রথমদিকে বৃষ্টির কারণে এই বিপর্যয় হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। কিন্তু নেপালের আবহাওয়া ও জলবিদ্যা সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাসুয়া এলাকায় সেই সময়ের বৃষ্টিপাত দিয়ে এত দ্রুত নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না।
পরবর্তী পর্যবেক্ষণে তুষার-বরফ ও পাথরের ধস নদীর গতিপথে বড় ধরনের বাধা তৈরি করে আচমকা সেই জল ও ধ্বংসাবশেষ নীচের দিকে নেমে আসার সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে। ICIMOD-এর প্রাথমিক বিশ্লেষণেও বরফ ও পাথরের বিশাল অংশ নদীতে পড়ে আকস্মিক স্রোত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘটনার চূড়ান্ত কারণ নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে।
Nepal Flash Flood: উদ্ধারকাজে নেপাল প্রশাসন
পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপাল সেনা, সশস্ত্র পুলিশ এবং নেপাল পুলিশকে উদ্ধার অভিযানে নামানো হয়েছে। হেলিকপ্টারের পাশাপাশি ড্রোন এবং অন্যান্য অনুসন্ধান প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিখোঁজদের খোঁজ চালানো হচ্ছে।
ধ্বংসস্তূপ, কাদা এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। একাধিক জায়গায় রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকারী দলকে দুর্গম এলাকার দিকে পৌঁছতেও সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।
ভারতীয়দের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
নেপালে আটকে পড়া এবং নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিকদের বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নেপালের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। বিভিন্ন রাজ্য থেকেও নিখোঁজ বা আটকে পড়া নাগরিকদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর বেশ কয়েকজন যাত্রীও এই ঘটনায় প্রভাবিত হয়েছেন বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে এসেছে। কলকাতা থেকে যাওয়া একটি ৩২ সদস্যের কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রীদলের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক
নেপালের এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে শুধু পর্যটক নয়, স্থানীয় বাসিন্দা, নিরাপত্তাকর্মী এবং পরিকাঠামোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২৭ আগস্টের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ১৬০ পেরিয়ে গেছে এবং এখনও কয়েকশো মানুষ নিখোঁজ। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হল, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে নিখোঁজদের প্রকৃত সংখ্যা ও তাঁদের অবস্থান নিশ্চিত করতে সময় লাগছে। ফলে ১০৫ জন ভারতীয় নিখোঁজের প্রাথমিক খবরটি এখন পুরনো হিসাব, এবং পরবর্তী সরকারি যাচাইয়ে সংখ্যাটি আরও পরিবর্তিত হতে পারে।
এই মুহূর্তে নিখোঁজ ভারতীয় পর্যটক ও কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রীদের পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ চরমে। উদ্ধারকারী দল যত দ্রুত সম্ভব তাঁদের সন্ধান ও নিরাপদ উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। পরিস্থিতির প্রতি মুহূর্তের পরিবর্তনের দিকে ভারত ও নেপাল, দুই দেশের প্রশাসনেরই নজর রয়েছে।
