সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
Jadavpur University Sexual Harassment Case: কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের ছাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠল। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রথম বর্ষের ছাত্রী গণিত বিভাগের এক অশিক্ষক কর্মীর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ দায়ের করেছেন। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকনোলজি ভবনে এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি সামনে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত কর্মীকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে নিষেধ করার নির্দেশ দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে টেকনোলজি ভবনের কয়েকটি তলায় নিরাপত্তা এবং সিসিটিভি ক্যামেরার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পড়ুয়ারা।
Jadavpur University Sexual Harassment Case: ঠিক কী ঘটেছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে?
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল প্রায় ৩টা ২০ মিনিট নাগাদ টেকনোলজি ভবনের সাততলার সিঁড়িতে তিনজন পড়ুয়া বসেছিলেন। সেই সময় গণিত বিভাগের এক অশিক্ষক কর্মী তাঁদের সেখান থেকে চলে যেতে বলেন বলে অভিযোগ।
এরপর দু’জন পড়ুয়া নিচে নেমে গেলেও অভিযোগকারী ছাত্রী সেখানে ছিলেন। অভিযোগ, ওই কর্মী ছাত্রীর কাছে তাঁর নাম, বিভাগ এবং ফোন নম্বর জানতে চান। এরপর তাঁকে ছয়তলায় নিয়ে যান এবং কয়েকটি বন্ধ ঘর দেখান। ওই ঘরগুলিতে আগে ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটেছিল বলে জানানো হয়েছিল।
ছাত্রীর অভিযোগ, সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সময় ওই কর্মী তাঁর সঙ্গে অনুচিত আচরণ করেন এবং তাঁকে স্পর্শ করেন। কোনওরকমে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন ওই ছাত্রী। পরে বিষয়টি বন্ধুদের জানান তিনি। এরপর পড়ুয়ারা অভিযুক্ত কর্মীর মুখোমুখি হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
তদন্তের নির্দেশ উপাচার্যের, ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
অভিযোগ সামনে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছেন। অভিযোগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি বা Internal Complaints Committee (ICC)-এর কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত অশিক্ষক কর্মীকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না দেওয়ার জন্য রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দিয়েছেন উপাচার্য। তদন্তের রিপোর্ট এবং প্রয়োজনীয় তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অভিযোগ অস্বীকার অভিযুক্ত কর্মীর
অন্যদিকে, ওই কর্মী তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি কোনওরকম অনুচিত আচরণ করেননি এবং তাঁকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, পড়ুয়ারা এমন একটি জায়গায় বসেছিলেন যেখানে তাঁদের থাকার অনুমতি ছিল না। তিনি তাঁদের পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন এবং নিরাপত্তার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও নিরাপত্তাকর্মীদের জানিয়েছিলেন।
তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ফলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখার দিকেই এখন নজর রয়েছে।
Jadavpur University Sexual Harassment Case: টেকনোলজি ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
এই ঘটনার পর টেকনোলজি ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পড়ুয়াদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, ভবনের ছয় ও সাততলায় পর্যাপ্ত সিসিটিভি নজরদারির ব্যবস্থা নেই। ফলে ওই অংশে কোনও ঘটনা ঘটলে তার প্রমাণ সংগ্রহ করা কঠিন হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত নজরদারি, দ্রুত অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং কার্যকর অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা থাকা কতটা জরুরি, তা ফের সামনে নিয়ে এসেছে এই ঘটনা।
এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটির তদন্তের দিকেই নজর রয়েছে। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে কী পদক্ষেপ করে, সেটাই দেখার।
উল্লেখ্য: এই মুহূর্তে ঘটনাটি অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত কর্মীকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না।

