সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
Cyclone Murasu 2026: বঙ্গোপসাগরে আবারও তৈরি হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের পরিস্থিতি। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের ক্ষত শুকানোর আগেই নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ (Cyclone Murasu)। রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD) জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ও পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। আগামী ২ থেকে ৩ নভেম্বরের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আপলোড করা ভিডিওতেও নতুন এই ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ এবং অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগিয়ে আসার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তবে সর্বশেষ সরকারি বুলেটিন অনুযায়ী, এটি আর শুধু সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় নয়, ইতিমধ্যেই ‘মুরাসু’ নামে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে।
Cyclone Murasu: কোথায় অবস্থান করছে ঘূর্ণিঝড় মুরাসু?
আবহাওয়া দফতরের ১ নভেম্বর সন্ধ্যার বুলেটিন অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় মুরাসু দক্ষিণ-পশ্চিম ও সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপরে অবস্থান করছে। এর কেন্দ্রের অবস্থান ছিল প্রায় ১২.৪° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৪.৬° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।
সেই সময় ঘূর্ণিঝড়টি:
- চেন্নাই থেকে প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে।
- অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর থেকে প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে।
- মাচিলিপত্তনম থেকে প্রায় ৫৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে।
- বিশাখাপত্তনম থেকে প্রায় ৬১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছিল।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে ২ নভেম্বর সকালের মধ্যে আরও শক্তিশালী হয়ে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে (Severe Cyclonic Storm) পরিণত হতে পারে।
কতটা শক্তিশালী হবে ঘূর্ণিঝড় মুরাসু?
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করছে ঝড়ের সম্ভাব্য গতিবেগ। IMD-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ পৌঁছতে পারে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত।
২ নভেম্বর রাত ১১টা ৩০ মিনিট থেকে ৩ নভেম্বর ভোর ৪টের মধ্যে নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, সোমবার রাত থেকেই উপকূলবর্তী এলাকায় ঝড়ের প্রভাব মারাত্মকভাবে বাড়তে পারে।
Cyclone Murasu: কোন কোন রাজ্যে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা?
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে শুধু অন্ধ্রপ্রদেশ নয়, দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশ: উপকূলবর্তী এলাকায় ২ ও ৩ নভেম্বর অত্যন্ত ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। ৪ নভেম্বরও ভারী বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে।
রায়লসীমা: ২ ও ৩ নভেম্বর অতি ভারী বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ওড়িশা: ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ২ নভেম্বর থেকে বৃষ্টি শুরু হতে পারে। ৩ ও ৪ নভেম্বর বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: মোদি-আদানি ভিডিও বিতর্কে কড়া কলকাতা হাইকোর্ট, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরানোর নির্দেশ
মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কবার্তা
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র পরিস্থিতি উত্তাল থেকে অতি উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। উপকূলবর্তী এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া, ভারী বৃষ্টি এবং দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সমুদ্রবন্দরগুলিতেও সতর্কতামূলক সংকেত জারি করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার এবং যাঁরা ইতিমধ্যে সমুদ্রে রয়েছেন তাঁদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে ফিরে আসার নির্দেশ মেনে চলা জরুরি।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের পর ফের কেন বাড়ছে উদ্বেগ?
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব কাটতে না কাটতেই নতুন ঘূর্ণিঝড়ের আবির্ভাব স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকায় যাঁরা বসবাস করেন, তাঁদের জন্য আগামী কয়েক দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর সম্ভাব্য গতিপথ, শক্তি এবং স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময় নিয়ে আবহাওয়া দফতর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সতর্কবার্তাতেও পরিবর্তন আসতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে সরাসরি ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার কোনও পূর্বাভাস এই বুলেটিনে নেই। তাই বাংলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা বা আবহাওয়ার পরিবর্তন সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে IMD-র পরবর্তী পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, নভেম্বরের শুরুতেই বঙ্গোপসাগরে নতুন ঘূর্ণিঝড় মুরাসুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোরের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে এর সম্ভাব্য আঘাত কতটা ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়, এখন সেদিকেই নজর আবহাওয়াবিদদের।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস পরিবর্তনশীল। সর্বশেষ সতর্কবার্তার জন্য ভারতের আবহাওয়া দফতরের সরকারি ওয়েবসাইট অনুসরণ করুন।
সরকারি আবহাওয়া আপডেট: IMD Official Website

