সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
West Bengal Government Scheme Name Change 2026: পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পালাবদলের পাশাপাশি রাজ্যের একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ১৫ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে চালু হওয়া বেশ কয়েকটি প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করেছে নতুন বিজেপি সরকার। কিছু ক্ষেত্রে পুরনো প্রকল্পের পরিবর্তে নতুন প্রকল্প চালু হয়েছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পের সঙ্গে রাজ্যের পরিষেবাকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিবর্তে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, সবুজ সাথীর পরিবর্তে সারথি, কন্যাশ্রীর পরিবর্তে কন্যারত্ন এবং বাংলার বাড়ির পরিবর্তে পশ্চিমবঙ্গ আবাসের মতো পরিবর্তন ইতিমধ্যেই আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসাথীর পরিবর্তে আয়ুষ্মান ভারত চালু করা, কৃষকদের জন্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা সম্প্রসারণ এবং যুবকদের আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রেও নতুন পরিকল্পনা সামনে এসেছে।
কিন্তু ঠিক কোন প্রকল্পের নাম বদলেছে? কোন প্রকল্পে আর্থিক সুবিধা বাড়ানো হয়েছে? কোন প্রকল্পের জায়গায় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প এসেছে? আর কোন প্রকল্প এখনও আগের নামেই চলছে?
এই প্রতিবেদনে ২০১১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের সরকারি প্রকল্পগুলির পটভূমি, নতুন সরকারের সিদ্ধান্ত, পুরনো ও নতুন নাম এবং সাধারণ মানুষের জন্য কী কী সুবিধা রয়েছে, তার বিস্তারিত আলোচনা করা হল।
২০২৬ সালে বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদল: ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের অবসান
২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর ২০১৬ এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও জয়লাভ করে তৃণমূল সরকার।
এই ১৫ বছরে রাজ্যে একাধিক সামাজিক সুরক্ষা, নারীকল্যাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং কর্মসংস্থানমূলক প্রকল্প চালু করা হয়।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, সবুজ সাথী, স্বাস্থ্যসাথী, কৃষক বন্ধু, বাংলার বাড়ি, দুয়ারে সরকার এবং উৎকর্ষ বাংলার মতো প্রকল্প সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিচিতি লাভ করে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জয়লাভ করার পর রাজ্যে প্রথমবারের মতো বিজেপি সরকার গঠিত হয়। ৯ মে ২০২৬ শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনিক সংস্কার, সরকারি প্রকল্পের নাম পরিবর্তন, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক সুবিধার পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এর ফলে রাজ্যের পুরনো সরকারি প্রকল্পগুলির ভবিষ্যৎ এবং উপভোক্তাদের সুবিধা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
এক নজরে পুরনো ও নতুন সরকারি প্রকল্পের নাম
নিচের তালিকায় প্রকল্পগুলির পরিবর্তন, নতুন নাম এবং পরিবর্তনের ধরন তুলে ধরা হল।
| আগের সরকারের প্রকল্প | নতুন সরকারের উদ্যোগ বা নাম |
|---|---|
| লক্ষ্মীর ভাণ্ডার | অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার |
| সবুজ সাথী | সারথি (Sarathi) |
| কন্যাশ্রী | কন্যারত্ন (Kanya Ratna) |
| বাংলার বাড়ি | পশ্চিমবঙ্গ আবাস (Paschim Banga Awas) |
| স্বাস্থ্যসাথী | আয়ুষ্মান ভারত ও নতুন স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থায় রূপান্তর |
| যুবশ্রী / যুবকদের সহায়তা | যুব সাথী / ভরসা কর্মসাথী সংক্রান্ত নতুন সহায়তা |
| কৃষক বন্ধু | PM-KISAN-এর সঙ্গে রাজ্য সরকারের কৃষক সহায়তার সমন্বয় নিয়ে উদ্যোগ |
| রূপশ্রী | কন্যাবিবাহ সহায়তা সংক্রান্ত নতুন উদ্যোগের দাবি |
| উৎকর্ষ বাংলা | PM Vishwakarma-র সম্প্রসারণ ও দক্ষতা উন্নয়ন |
| দুয়ারে সরকার | জনকল্যাণ শিবির ও সুশাসন মেলার মতো পরিষেবা উদ্যোগ |
| পাঠশ্রী / রাস্তাশ্রী | PMGSY-র মাধ্যমে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন |
| শিক্ষাশ্রী | PM-YASASVI-সহ কেন্দ্রীয় বৃত্তি প্রকল্প |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই তালিকার সব কটি পরিবর্তন একইভাবে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত নয়। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, সারথি, কন্যারত্ন এবং পশ্চিমবঙ্গ আবাসের নাম পরিবর্তনের তথ্য সংবাদমাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে। অন্য কয়েকটি ক্ষেত্রে নতুন প্রকল্পের ঘোষণা, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সংযুক্তিকরণ অথবা সম্ভাব্য পরিবর্তনকে আলাদা করে দেখতে হবে। শুধু নামের মিল থাকলেই একটি প্রকল্প অন্যটির সরাসরি বিকল্প হয়ে যায় না।
১. লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার: মহিলারা পাবেন মাসে ৩,০০০ টাকা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প ছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। ২০২১ সালে এই প্রকল্প চালু হওয়ার পর রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলা প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা পেতে শুরু করেন।
প্রথম দিকে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে ৫০০ টাকা এবং SC/ST শ্রেণির মহিলারা ১,০০০ টাকা পেতেন। পরবর্তী সময়ে এই অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়। ২০২৬ সালে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিবর্তে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়।
১৮ মে ২০২৬ তারিখে রাজ্য মন্ত্রিসভা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প অনুমোদন করে। নতুন প্রকল্পে যোগ্য মহিলাদের মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে?
- প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা: ৩,০০০ টাকা।
- বছরে মোট সহায়তা: ৩৬,০০০ টাকা।
- টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।
- DBT বা Direct Benefit Transfer পদ্ধতিতে অর্থ দেওয়া হবে।
- পুরনো লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের যোগ্য উপভোক্তাদের নতুন প্রকল্পে স্থানান্তরের ব্যবস্থা রয়েছে।
যাঁরা আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেতেন, তাঁদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই বলে রাজ্য সরকার জানিয়েছিল। অন্য যোগ্য মহিলাদের জন্য নতুন আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি এবং পরিবারের দৈনন্দিন খরচে সহায়তা করা।
২. সবুজ সাথী থেকে সারথি: ছাত্রছাত্রীদের বিনামূল্যে সাইকেল
২০১৫ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সবুজ সাথী প্রকল্প চালু করে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের বিনামূল্যে সাইকেল দেওয়া হত।
বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে যাতায়াত সহজ করা এবং স্কুলছুটের হার কমানো ছিল এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।
২০২৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সবুজ সাথী প্রকল্পের নতুন নাম সারথি (SARATHI) ঘোষণা করেন।
সারথি প্রকল্পে কী সুবিধা পাওয়া যাবে?
- ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ১২.৫৯ লক্ষ ছাত্রছাত্রীকে সাইকেল দেওয়ার পরিকল্পনা।
- মোট ৮,২২৮টি স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা এই কর্মসূচির আওতায় আসবে।
- সাইকেল বিতরণের জন্য প্রায় ৫০৮ কোটি টাকার কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছে।
- সাইকেলের গুণমান যাচাইয়ের জন্য নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
- ভবিষ্যতে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদেরও অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা জানানো হয়েছে।
নতুন প্রকল্পে সাইকেলের রং ও লোগোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগের নীল রঙের পরিবর্তে নতুন ডিজাইনে গেরুয়া রঙের ব্যবহার করা হচ্ছে।
অর্থাৎ, বিনামূল্যে সাইকেল দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য বজায় রেখে প্রকল্পটির নাম ও বাস্তবায়নের কিছু পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
৩. কন্যাশ্রী থেকে কন্যারত্ন: মেয়েদের শিক্ষায় আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি
২০১৩ সালে কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করাই ছিল এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
এই প্রকল্প আন্তর্জাতিক স্তরেও স্বীকৃতি পেয়েছিল। বহু ছাত্রী কন্যাশ্রীর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন।
২০২৬ সালের ১৪ আগস্ট বিজেপি সরকার কন্যাশ্রী প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে কন্যারত্ন (Kanya Ratna) করার ঘোষণা করে। একই দিনে কন্যাশ্রী দিবসের পরিবর্তে কন্যারত্ন দিবস পালন করা হয়।
কন্যারত্ন প্রকল্পে কী সুবিধা দেওয়া হবে?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মেয়েদের শিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেন।
প্রকাশিত ঘোষণা অনুযায়ী:
- বার্ষিক আর্থিক সহায়তা ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করার পরিকল্পনা।
- ১৮-১৯ বছর বয়সে উচ্চশিক্ষা বা সংশ্লিষ্ট যোগ্যতার ক্ষেত্রে এককালীন অনুদান ২৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০,০০০ টাকা করার ঘোষণা।
- মেয়েদের শিক্ষায় উৎসাহ দিতে বৃত্তির সুযোগ সম্প্রসারণ।
- কেন্দ্রীয় সরকারের বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে বাস্তবায়নের উদ্যোগ।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের উদ্দেশ্য বজায় রাখা হয়েছে।
৪. বাংলার বাড়ি থেকে পশ্চিমবঙ্গ আবাস: গৃহনির্মাণ প্রকল্পে পরিবর্তন
গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র পরিবারের জন্য বাড়ি তৈরির আর্থিক সহায়তা দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বাংলার বাড়ি প্রকল্প চালু করেছিল।
এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য পরিবারগুলিকে বাড়ি নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হত।
২০২৬ সালের ৬ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, বাংলার বাড়ি প্রকল্পের নতুন নাম হবে পশ্চিমবঙ্গ আবাস (Paschim Banga Awas)।
পশ্চিমবঙ্গ আবাস প্রকল্পে কী সুবিধা রয়েছে?
- গ্রামীণ এলাকার যোগ্য পরিবারকে বাড়ি তৈরির জন্য আর্থিক সহায়তা।
- মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা সহায়তা।
- দুই কিস্তিতে অর্থ প্রদান।
- উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো।
- নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নথি যাচাইয়ের ব্যবস্থা।
২০২৬ সালের আগস্টে ১০ লক্ষের বেশি উপভোক্তার কাছে দ্বিতীয় ও শেষ কিস্তির অর্থ পাঠানোর কথা রাজ্য সরকার জানিয়েছিল।
এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, পশ্চিমবঙ্গ আবাসের নাম পরিবর্তন হলেও এটিকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার সমান বলা ঠিক নয়। এটি রাজ্যের নিজস্ব গ্রামীণ আবাসন সহায়তার ধারাবাহিকতা।
৫. স্বাস্থ্যসাথী থেকে আয়ুষ্মান ভারত: স্বাস্থ্যবিমায় বড় পরিবর্তন
স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য পরিষেবা উদ্যোগ।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্য বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা দেওয়া হত।
২০২৬ সালে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়।
সরকারি ঘোষণার ভিত্তিতে ১ জুন থেকে নতুন স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং জুলাই মাস থেকে আয়ুষ্মান ভারত কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছিল।
নতুন স্বাস্থ্য পরিষেবায় কী পরিবর্তন আসছে?
- আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে চিকিৎসার সুবিধা।
- যোগ্য উপভোক্তাদের দেশজুড়ে তালিকাভুক্ত হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ।
- স্বাস্থ্যসাথীর পুরনো উপভোক্তাদের ধাপে ধাপে নতুন ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ।
- পুরনো উপভোক্তাদের স্থানান্তর সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্যসাথীর পরিষেবা চালু রাখার কথা জানানো হয়েছিল।
- রাজ্যের নিজস্ব স্বাস্থ্যবিমা সহায়তা ব্যবস্থা নিয়েও নতুন পরিকল্পনা সামনে এসেছে।
তবে স্বাস্থ্যসাথী এবং আয়ুষ্মান ভারত সম্পূর্ণ একই প্রকল্প নয়। যোগ্যতা, হাসপাতাল নেটওয়ার্ক, পরিবারের অন্তর্ভুক্তি এবং অন্যান্য নিয়মের ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে।
তাই পুরনো স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকলেই প্রত্যেকের নতুন আয়ুষ্মান ভারত কার্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়া উচিত নয়।
৬. যুবকদের আর্থিক সহায়তা: যুবশ্রী থেকে নতুন যুব সাথী উদ্যোগ
পশ্চিমবঙ্গে বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য আগে যুবশ্রী প্রকল্প চালু ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় থাকা নির্দিষ্ট যোগ্য যুবকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইস্তাহারে যুবকদের জন্য মাসিক ৩,০০০ টাকা সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
নতুন সরকারের বাজেট ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত ঘোষণায় স্নাতক এবং অন্যান্য যোগ্য বেকার যুবকদের জন্য আলাদা আর্থিক সহায়তার কথা বলা হয়েছে।
প্রকাশিত বাজেট অনুযায়ী:
- স্নাতক যোগ্যতাসম্পন্ন বেকার যুবকদের মাসে ৩,০০০ টাকা।
- অন্যান্য যোগ্য বেকার যুবকদের মাসে ২,০০০ টাকা।
এই সহায়তা যুব সাথী এবং ভরসা কর্মসাথী নামের সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ছবিতে দেখানো ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ নামটিকে আলাদা সরকারি প্রকল্পের চূড়ান্ত নাম হিসেবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
যুবকদের জন্য এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য চাকরির প্রস্তুতি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের অপেক্ষাকালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়া।
৭. কৃষক বন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কৃষকদের জন্য কৃষক বন্ধু প্রকল্প চালু করেছিল। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য কৃষকদের বছরে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হত।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্পে যোগ্য কৃষক পরিবার বছরে ৬,০০০ টাকা করে পেয়ে থাকেন।
২০২৬ সালে বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় কৃষক প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও রাজ্যের কৃষক সহায়তার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
তবে ছবিতে দেখানো PM-KISAN-এর সঙ্গে রাজ্যের অতিরিক্ত ৩,০০০ টাকা যুক্ত করে মোট ৯,০০০ টাকা দেওয়ার বিষয়টি সর্বজনীন ও কার্যকর সরকারি নিয়ম হিসেবে নিশ্চিত করা যায়নি।
কৃষকদের তাই কৃষক বন্ধু, PM-KISAN এবং নতুন কোনও রাজ্য সহায়তা প্রকল্পের টাকা একসঙ্গে পাওয়ার বিষয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
৮. রূপশ্রী প্রকল্পের ভবিষ্যৎ কী?
২০১৮ সালে রূপশ্রী প্রকল্প চালু করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দরিদ্র পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের প্রথম বিবাহের সময় আর্থিক সহায়তা দেওয়া ছিল এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য।
যোগ্য পরিবারের মেয়েদের বিয়ের সময় এককালীন ২৫,০০০ টাকা দেওয়া হত।
২০২৬ সালের নতুন সরকারের আমলে কন্যাবিবাহ সহায়তা নামে একটি নতুন উদ্যোগের কথা বিভিন্ন তালিকা ও প্রচারে দেখা যাচ্ছে।
তবে রূপশ্রী প্রকল্পকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কন্যা বিবাহ সহায়তা যোজনা’ নামে প্রতিস্থাপন করার বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সরকারি বিজ্ঞপ্তি নিশ্চিত করা যায়নি।
তাই এই দুই নামকে আপাতত একই প্রকল্পের নিশ্চিত নতুন ও পুরনো নাম হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়।
৯. উৎকর্ষ বাংলা ও প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা: দক্ষতা উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ
উৎকর্ষ বাংলা প্রকল্প চালু হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের যুবক-যুবতীদের বিনামূল্যে দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্দেশ্যে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হত। ITI, পলিটেকনিক, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই ধরনের প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়েছে।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা কেন্দ্রীয় সরকারের একটি পৃথক প্রকল্প। এটি মূলত ঐতিহ্যবাহী কারিগর ও শিল্পীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহায়তা এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সাহায্য করার জন্য চালু হয়েছে।
২০২৬ সালের ২২ মে কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গে PM Vishwakarma প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে।
এখানে মনে রাখা প্রয়োজন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা প্রকল্প উৎকর্ষ বাংলার নতুন নাম নয়। দুটি প্রকল্পের লক্ষ্য ও উপভোক্তা আলাদা।
১০. দুয়ারে সরকার থেকে সুশাসন মেলা ও জনকল্যাণ শিবির
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের অন্যতম বড় প্রশাসনিক উদ্যোগ ছিল দুয়ারে সরকার।
২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এর মাধ্যমে সরকারি দফতরে না গিয়ে সাধারণ মানুষ নিজের এলাকায় ক্যাম্পের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা ও পরিষেবা পেতেন।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী-সহ একাধিক প্রকল্পের আবেদন গ্রহণ করা হত এই ক্যাম্পগুলিতে।
২০২৬ সালে নতুন সরকার জনকল্যাণ শিবির, জনসেবা ক্যাম্প এবং সুশাসন মেলার মতো পরিষেবা উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
এই ধরনের শিবিরে সাধারণ মানুষ সরকারি প্রকল্পের তথ্য, আবেদন সংক্রান্ত সহায়তা, নথি সংশোধন এবং প্রশাসনিক পরিষেবা পেতে পারেন।
তবে দুয়ারে সরকার প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক নাম পরিবর্তন করে সুশাসন মেলা করা হয়েছে, এমন চূড়ান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দুটি নামকে সরাসরি সমার্থক বলা যাবে না।
১১. পাঠশ্রী ও রাস্তাশ্রী থেকে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা?
পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ এলাকার রাস্তা নির্মাণ ও মেরামতের জন্য মমতা সরকারের আমলে পাঠশ্রী ও রাস্তাশ্রী কর্মসূচি চালু হয়েছিল। গ্রামীণ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা বা PMGSY কেন্দ্রীয় সরকারের একটি পৃথক গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প। ২০২৬ সালে নতুন সরকার কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির মাধ্যমে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছে। তবে পাঠশ্রী ও রাস্তাশ্রীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবর্তন করে PMGSY করা হয়েছে, এমন নিশ্চিত বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায়নি।
১২. শিক্ষাশ্রী ও PM-YASASVI: ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি
শিক্ষাশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের তফসিলি জাতিভুক্ত পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
অন্যদিকে PM-YASASVI হল কেন্দ্রীয় সরকারের একটি বৃত্তি কর্মসূচি, যার আওতায় OBC, EBC এবং DNT শ্রেণির যোগ্য ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন স্তরে বৃত্তির সুবিধা পেতে পারে।
এই দুই প্রকল্পের উপভোক্তা শ্রেণি এবং যোগ্যতার নিয়ম এক নয়।
তাই শিক্ষাশ্রীর পরিবর্তে PM-YASASVI চালু হয়েছে, এমন দাবি নিশ্চিতভাবে করা যায় না। বরং দুটি প্রকল্পের পৃথক সুবিধা ও যোগ্যতা যাচাই করে আবেদন করা উচিত।
১৩. মুখ্যমন্ত্রী কৃষক সম্মান নিধি: কৃষকদের অতিরিক্ত সহায়তা কি পাওয়া যাবে?
কৃষকদের আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের PM-KISAN প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রকল্পে যোগ্য কৃষক পরিবার বছরে ৬,০০০ টাকা পায়।
২০২৬ সালের নতুন সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের তালিকায় রাজ্যের তরফে অতিরিক্ত ৩,০০০ টাকা সহায়তা এবং মুখ্যমন্ত্রী কৃষক সম্মান নিধির নামও দেখা যাচ্ছে।
তবে এই অতিরিক্ত ৩,০০০ টাকা, যোগ্যতা, অর্থপ্রদানের সময় এবং PM-KISAN-এর সঙ্গে একত্রে পাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে নির্দিষ্ট সরকারি নির্দেশিকা যাচাই না করে নিশ্চিত দাবি করা ঠিক হবে না।
কৃষকদের উচিত কৃষি দফতর, ব্লক কৃষি আধিকারিক এবং সরকারি পোর্টাল থেকে সর্বশেষ নির্দেশিকা জেনে নেওয়া।
নতুন সরকারের সময়ে আরও কোন কোন প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ?
উপরের প্রকল্পগুলি ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।
যেমন:
- PM-KISAN: কৃষকদের আর্থিক সহায়তা।
- PM Vishwakarma: ঐতিহ্যবাহী কারিগরদের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা।
- PM-YASASVI: যোগ্য ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি।
- আয়ুষ্মান ভারত: স্বাস্থ্যবিমা।
- PMAY: আবাসন সহায়তা।
- PMGSY: গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন।
- বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও: মেয়েদের সুরক্ষা ও শিক্ষার প্রসার।
- PM Ujjwala Yojana: যোগ্য পরিবারের মহিলাদের LPG সংযোগ।
- PM SVANidhi: রাস্তার হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণ সহায়তা।
এই প্রকল্পগুলির কিছু আগে থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে চালু ছিল। ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে বাস্তবায়ন বা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের নাম পরিবর্তন হলে পুরনো উপভোক্তাদের কী হবে?
সাধারণ মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, কোনও প্রকল্পের নাম পরিবর্তন হলে আগের উপভোক্তাদের কী হবে?
এর উত্তর সব প্রকল্পের ক্ষেত্রে এক নয়। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ক্ষেত্রে পুরনো লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের যোগ্য উপভোক্তাদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থানান্তরের ব্যবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল। সারথির ক্ষেত্রে আগের সাইকেল বিতরণ কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন নাম ও নতুন ডিজাইনে সাইকেল দেওয়া হচ্ছে।কন্যারত্নের ক্ষেত্রে মেয়েদের শিক্ষায় আর্থিক সহায়তার মূল উদ্দেশ্য বজায় রেখে অনুদান বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ আবাসের ক্ষেত্রে আগের গ্রামীণ আবাসন প্রকল্পের উপভোক্তাদের অর্থ প্রদান অব্যাহত রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্যসাথীর ক্ষেত্রে পুরনো উপভোক্তাদের নতুন স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থায় স্থানান্তরের প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে। অন্য প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে উপভোক্তাদের নতুন বিজ্ঞপ্তি ও যোগ্যতার নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
১৫ বছরের শাসনের পর প্রকল্পের নাম বদল: সাধারণ মানুষের লাভ কতটা?
সরকার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন প্রকল্পের নাম পরিবর্তন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
একদিকে নতুন সরকারের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে রাজ্যের পরিষেবাকে যুক্ত করলে উপভোক্তারা আরও বেশি সুবিধা পেতে পারেন। অন্যদিকে বিরোধীদের বক্তব্য, আগের সরকারের জনপ্রিয় প্রকল্পগুলির নাম পরিবর্তন করে নতুন সরকারের রাজনৈতিক পরিচয় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল প্রকল্পের নাম নয়, বরং প্রকৃত সুবিধা।
কোনও প্রকল্পে মাসিক অনুদান বাড়লে সেটি উপভোক্তার আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি করে। কোনও প্রকল্পে নতুন যোগ্যতা যুক্ত হলে আরও বেশি মানুষ সুবিধা পেতে পারেন। আবার পুরনো প্রকল্পের জায়গায় নতুন প্রকল্প চালু হলে আগের উপভোক্তারা যাতে বাদ না পড়েন, সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তাই নতুন সরকারের প্রকল্প পরিবর্তনের সাফল্য বিচার করতে হলে কয়েকটি বিষয় দেখতে হবে:
১. আগের উপভোক্তারা নিয়মিত সুবিধা পাচ্ছেন কি না।
২. নতুন যোগ্য ব্যক্তিরা প্রকল্পে যুক্ত হতে পারছেন কি না।
৩. আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়ছে কি না।
৪. প্রকল্পের বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা বজায় থাকছে কি না।
৫. আবেদন ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ হচ্ছে কি না।
৬. সরকারি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না।
উপসংহার
পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের রাজনৈতিক পালাবদলের পর সরকারি প্রকল্পগুলিতে যে পরিবর্তন এসেছে, তা রাজ্যের প্রশাসনিক ও জনকল্যাণমূলক ব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, সবুজ সাথী থেকে সারথি, কন্যাশ্রী থেকে কন্যারত্ন এবং বাংলার বাড়ি থেকে পশ্চিমবঙ্গ আবাসের মতো পরিবর্তন ইতিমধ্যেই বাস্তবায়িত হয়েছে।
পাশাপাশি স্বাস্থ্যসাথী থেকে আয়ুষ্মান ভারত ব্যবস্থায় স্থানান্তর এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সম্প্রসারণের উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে প্রতিটি প্রকল্পের নাম পরিবর্তন হয়েছে, এমনটা বলা ঠিক নয়। কিছু ক্ষেত্রে পুরনো প্রকল্পের ধারাবাহিকতা রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে নতুন আর্থিক সুবিধা যুক্ত হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রকল্পের নাম যাই হোক না কেন, যোগ্য উপভোক্তারা যেন তাঁদের প্রাপ্য সুবিধা সময়মতো পান। নতুন সরকারের এই প্রকল্প পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত রাজ্যের মহিলাদের, ছাত্রছাত্রীদের, কৃষকদের, যুবকদের এবং দরিদ্র পরিবারের কতটা উপকার করে, সেটাই আগামী দিনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

