সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
Modi-Adani Video Controversy: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শিল্পপতি গৌতম আদানিকে নিয়ে তৈরি একটি বিতর্কিত ভিডিও ঘিরে বড়সড় আইনি পদক্ষেপ করল কলকাতা হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্ট ভিডিও এবং তার বিভিন্ন অংশ সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে ভিডিওটি পুনরায় আপলোড, প্রকাশ বা শেয়ার করার উপরেও অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই মামলায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন বিচারপতি আর্যক দত্ত।
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, আদানি এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডের দায়ের করা মানহানির মামলার শুনানিতে এই নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ইউটিউব, এক্স এবং ইনস্টাগ্রাম-সহ সংশ্লিষ্ট সামাজিক মাধ্যমগুলিকে বিতর্কিত ভিডিওটির প্রচার বন্ধ করতে হবে। আপাতত ৩১ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত অথবা আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
Modi-Adani Video Controversy: কী নিয়ে বিতর্ক মোদি-আদানি ভিডিও ঘিরে?
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও আদানি গোষ্ঠীর সম্পর্ক নিয়ে তৈরি একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ‘Bcubed (Breaking Boundaries with Sabeer Bhatia)’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ভিডিওটির বিষয়বস্তু এবং শিরোনাম নিয়ে আপত্তি জানায় আদানি এন্টারপ্রাইজেস।
সংস্থাটির অভিযোগ, ভিডিওতে তাদের ব্যবসায়িক কার্যকলাপ, সরকারি নীতি এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর সম্পর্ক নিয়ে এমন কিছু বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে, যা অসত্য ও মানহানিকর। এর ফলে সংস্থার ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
আদানি এন্টারপ্রাইজেসের বক্তব্য, মূল ভিডিওটির প্রচার বন্ধ হওয়ার পরেও বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেল, এক্স অ্যাকাউন্ট এবং ইনস্টাগ্রাম রিলসের মাধ্যমে সেটি আবার ছড়িয়ে পড়ছিল। তাই শুধু মূল ভিডিও সরানো নয়, তার বিভিন্ন অংশ, পুনঃপ্রকাশ এবং অনুরূপ সংস্করণের প্রচার বন্ধ করারও আবেদন জানানো হয় আদালতে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে কী নির্দেশ দিল আদালত?
বিচারপতি আর্যক দত্তের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট ভিডিওটি এবং তার সঙ্গে যুক্ত আপত্তিকর বক্তব্যের অংশ থাকা ক্লিপ বা পুনঃপ্রকাশিত সংস্করণ সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নির্দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি হল:
- ভিডিও সরানো: মামলায় চিহ্নিত লিঙ্কগুলিতে থাকা বিতর্কিত ভিডিও সরাতে হবে অথবা তার অ্যাক্সেস বন্ধ করতে হবে।
- পুনরায় প্রচার বন্ধ: ভিডিওর ক্লিপ, অংশবিশেষ এবং মূল ভিডিওর সঙ্গে কার্যত অভিন্ন সংস্করণ পুনরায় প্রকাশ, আপলোড বা শেয়ার করা যাবে না।
- শেয়ার ও রিপোস্ট বন্ধ: সংশ্লিষ্ট লিঙ্কের মাধ্যমে ভিডিওটি যাতে রিপোস্ট, শেয়ার বা অন্যান্য উপায়ে দেখা না যায়, সেই ব্যবস্থাও করতে হবে।
- অ্যাকাউন্টের তথ্য সংরক্ষণ: সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের রেজিস্ট্রেশন তথ্য, গ্রাহক-পরিচিতি সংক্রান্ত তথ্য এবং আইপি ও অ্যাক্সেস লগ সংরক্ষণ করতে হবে।
- পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য জমা: যেসব অ্যাকাউন্টের ব্যবহারকারীর পরিচয় স্পষ্ট নয়, তাদের প্রাথমিক গ্রাহক-পরিচিতির তথ্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিল করা খামে হলফনামার মাধ্যমে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজেদের বক্তব্য হলফনামার মাধ্যমে জানাতে হবে।
Modi-Adani Video Controversy: হলফনামা জমার নির্দেশ, পরবর্তী শুনানি কবে?
মামলার শুনানিতে আদানি এন্টারপ্রাইজেসের তরফে ভিডিওটির বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তি জানানো হয়। সংস্থার বক্তব্য, ভিডিওতে করা অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন এবং তার ফলে তাদের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অন্যদিকে, মামলার অন্যান্য পক্ষকেও নিজেদের অবস্থান জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে হবে। এরপর মামলাকারী আদানি এন্টারপ্রাইজেস তাদের জবাব দেওয়ার জন্য আরও দুই সপ্তাহ সময় পাবে।
আপাতত ভিডিওটির প্রচার বন্ধ রাখার জন্য অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এবং মানহানির অভিযোগের মেরিট নিয়ে সিদ্ধান্ত পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়ার বিষয়।
আরও পড়ুন: ফের বিমানবন্দরে বোমাতঙ্ক! মহিলা টয়লেটে চিরকুট, লেখা ‘৩০ নম্বর গেটে বোমা রাখা আছে’
৩১ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, বিতর্কিত ভিডিওটি প্রকাশ, পুনঃপ্রকাশ, আপলোড বা শেয়ার করার উপর নিষেধাজ্ঞা ৩১ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, যদি তার আগে আদালত অন্য কোনও নির্দেশ না দেয়। মামলাটি আগামী জানুয়ারিতে নিয়মিত বেঞ্চের তালিকায় শুনানির জন্য আসবে।
এই নির্দেশের ফলে সংশ্লিষ্ট ভিডিওটির অনলাইন প্রচার আপাতত বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে মামলার সব অভিযোগ এখনও চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি। তাই আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশকে চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
আদানি গোষ্ঠী বা সরকারি নীতি নিয়ে সব সমালোচনা কি বন্ধ?
এই মামলায় আদালতের নির্দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, নিষেধাজ্ঞার পরিধি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আদালত স্পষ্ট করেছে, বিতর্কিত ভিডিও, তার পুনঃপ্রকাশ এবং মামলায় চিহ্নিত মানহানিকর বক্তব্যের বাইরে আদানি গোষ্ঠী বা সরকারি নীতি নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা কিংবা তথ্যভিত্তিক সংবাদ পরিবেশনে এই নির্দেশ বাধা সৃষ্টি করবে না।
অর্থাৎ, এই নির্দেশকে মোদি, আদানি বা সরকারি নীতি সম্পর্কে সমস্ত ধরনের সংবাদ ও সমালোচনা নিষিদ্ধ করার নির্দেশ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যাবে না। নিষেধাজ্ঞাটি নির্দিষ্ট বিতর্কিত ভিডিও এবং মামলায় উল্লিখিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই জারি করা হয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই মামলা?
সামাজিক মাধ্যমে কোনও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সেটি সরিয়ে দেওয়ার পরেও বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে পুনরায় প্রকাশিত হতে পারে। এই মামলায় আদালতের নির্দেশে ভিডিও সরানোর পাশাপাশি পুনঃপ্রকাশ বন্ধ করা এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের তথ্য সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
একই সঙ্গে, মানহানির অভিযোগ, ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সুনামের অধিকার এবং তথ্যভিত্তিক সমালোচনা ও সংবাদ পরিবেশনের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য রাখার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
এখন নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির হলফনামা, পরবর্তী শুনানি এবং আদালতের ভবিষ্যৎ নির্দেশের দিকে। আপাতত কলকাতা হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশ অনুযায়ী বিতর্কিত ভিডিওটির প্রচার বন্ধ রাখতে হবে। তবে এই মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি।

