সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
WB Pass-Fail System from Class 5 or 6: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলে আবারও পাশ-ফেল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এবার পঞ্চম অথবা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে এই ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার পক্ষে মত দিয়েছে রাজ্যের সিলেবাস ও পাঠক্রম বিশেষজ্ঞ কমিটি। প্রস্তাবটি নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে সুপারিশ পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গিয়েছে। তবে কবে থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
শিক্ষার মান উন্নত করা, পড়ুয়াদের বুনিয়াদি জ্ঞান আরও মজবুত করা এবং উচ্চতর শ্রেণিতে ওঠার আগে তাদের শেখার ঘাটতি চিহ্নিত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। তবে পাশ-ফেল ফিরলে পড়ুয়াদের উপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ তৈরি হবে কি না, সেই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
WB Pass-Fail System from Class 5 or 6: পঞ্চম না ষষ্ঠ শ্রেণি, কোথা থেকে ফিরতে পারে পাশ-ফেল?
রাজ্যের সিলেবাস কমিটির বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, প্রাথমিক স্তরের একেবারে প্রথম দিকের শ্রেণিগুলিতে পাশ-ফেল না থাকলেও পঞ্চম অথবা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। তাঁদের বক্তব্য, বর্তমানে অনেক পড়ুয়া নবম শ্রেণিতে গিয়ে প্রথমবার পাশ-ফেলের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে। তার আগে প্রয়োজনীয় বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও পড়াশোনার ভিত তৈরি না হলে পরবর্তী শ্রেণিতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের।
এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতেই নিচু শ্রেণি থেকে মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে পঞ্চম শ্রেণি, ষষ্ঠ শ্রেণি, নাকি অন্য কোনও শ্রেণি থেকে এই নিয়ম চালু হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি।
পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে কি আবার সুযোগ পাবে পড়ুয়ারা?
প্রস্তাবিত ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলেই কোনও পড়ুয়াকে সঙ্গে সঙ্গে একই শ্রেণিতে আটকে রাখা হবে না। বরং তাকে নিজের ভুল সংশোধন করে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য অতিরিক্ত সুযোগ দেওয়ার ভাবনা রয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনও পড়ুয়া বার্ষিক পরীক্ষায় পাশ করতে না পারলে তাকে প্রায় ১৫ দিন থেকে এক মাস পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় দিয়ে বিশেষ বা সংশোধনমূলক ক্লাস করানো হতে পারে। এরপর তার জন্য পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করার কথা ভাবা হচ্ছে।
দ্বিতীয়বার পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হতে না পারলে সংশ্লিষ্ট পড়ুয়াকে একই শ্রেণিতে রেখে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। এর ফলে একদিকে যেমন পড়াশোনার প্রতি দায়িত্ববোধ বাড়ানোর চেষ্টা হবে, অন্যদিকে প্রথম পরীক্ষায় খারাপ ফল করলেই পড়ুয়ার শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।
তবে এই পুরো ব্যবস্থাটি এখনও প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত নিয়ম, পরীক্ষার পদ্ধতি এবং পুনর্মূল্যায়নের শর্ত সরকারিভাবে ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কোনও কিছুই নিশ্চিত নয়।
WB Pass-Fail System from Class 5 or 6: কেন পাশ-ফেল ফিরিয়ে আনার কথা ভাবছে সিলেবাস কমিটি?
পাশ-ফেল ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার পিছনে অন্যতম যুক্তি ছিল স্কুলছুটের হার কমানো এবং শিশুদের উপর পরীক্ষার চাপ কমানো। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, শুধুমাত্র পরবর্তী শ্রেণিতে তুলে দিলেই পড়ুয়ার প্রকৃত শিক্ষাগত অগ্রগতি নিশ্চিত করা যায় না।
তাঁদের মতে, পড়ুয়া বাংলা, ইংরেজি, গণিত বা অন্যান্য মৌলিক বিষয়ে কতটা শিখছে, তা নিয়মিতভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। কোনও বিষয়ে দুর্বলতা থাকলে সময়মতো তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে। নইলে পরবর্তী শ্রেণিতে গিয়ে সেই ঘাটতি আরও বাড়তে পারে।
সিলেবাস কমিটির আলোচনায় উঠে এসেছে, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং শিক্ষার ভিত শক্ত করার জন্য মূল্যায়ন ব্যবস্থায় পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে। সেই কারণেই পাশ-ফেল ফেরানোর প্রস্তাবটি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
শুধু পাশ-ফেল ফিরলেই কি শিক্ষার মান বাড়বে?
পাশ-ফেল চালু করা নিয়ে শিক্ষামহলে বিভিন্ন মত রয়েছে। একাংশের মতে, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার লক্ষ্য থাকলে পড়ুয়াদের নিয়মিত পড়াশোনার অভ্যাস বাড়তে পারে। শিক্ষক ও অভিভাবকেরাও পড়ুয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাবেন।
অন্যদিকে, শুধু পরীক্ষায় ফেল করিয়ে একই শ্রেণিতে আটকে রাখলেই শিক্ষার মান উন্নত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। পড়ুয়ার পারিবারিক পরিস্থিতি, স্কুলে শিক্ষকের সংখ্যা, নিয়মিত ক্লাস, উপযুক্ত শিক্ষণপদ্ধতি এবং অতিরিক্ত সহায়তার সুযোগও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তাই পাশ-ফেল ব্যবস্থা ফিরলে তার সঙ্গে দুর্বল পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ ক্লাস, নিয়মিত মূল্যায়ন, শিক্ষকদের সহায়তা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা কতটা কার্যকর করা হবে, তার উপরও সাফল্য নির্ভর করবে।
কবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকার?
সিলেবাস কমিটির তরফে রাজ্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরির আগে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আরও আলোচনা, শিক্ষকদের মতামত এবং প্রয়োজন হলে অভিভাবকদের বক্তব্য বিবেচনা করার কথাও উঠে এসেছে।
এরপর রাজ্য সরকার ও স্কুলশিক্ষা দপ্তর কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন দেখার। প্রস্তাবটি গৃহীত হলে কোন শ্রেণি থেকে পাশ-ফেল চালু হবে, কী ধরনের পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং অকৃতকার্য পড়ুয়াদের জন্য কী সুযোগ থাকবে, তা সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট হওয়ার কথা।
সুতরাং, আপাতত পশ্চিমবঙ্গের স্কুলে পাশ-ফেল ফিরতে পারে বলে আলোচনা শুরু হলেও, নিয়মটি কার্যকর হওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ বা চূড়ান্ত শ্রেণি এখনও ঘোষণা করা হয়নি। সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে তবেই পড়ুয়া, অভিভাবক ও শিক্ষকদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত হবে।

