সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
৩০ জুন পর্যন্ত Morning School: পশ্চিমবঙ্গে গরমের কারণে ফের বাড়ানো হল Morning School-এর মেয়াদ। ১২ জুন ২০২৬-এ School Education Department নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। ৩০ জুন পর্যন্ত সকাল শিফটে ক্লাস নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ফের নতুন নির্দেশ স্কুলগুলির জন্য
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পশ্চিমবঙ্গে তীব্র গরম এবং অস্বস্তিকর আবহাওয়ার কারণে স্কুলের সময়সূচি নিয়ে একাধিকবার নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্যের School Education Department। প্রথমে কয়েক দিনের জন্য সকাল শিফটে ক্লাস চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। পরে সেই সময়সীমা আরও বাড়ানো হয়।
এদিকে বিভিন্ন জেলায় এখনও গরমের প্রকোপ পুরোপুরি কমেনি। অনেক জায়গায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের উপরে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে আবারও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
১২ জুন ২০২৬ তারিখে School Education Department-এর পক্ষ থেকে নতুন একটি অফিসিয়াল মেমো জারি করা হয়েছে, যেখানে Morning School বা সকাল শিফটে ক্লাস নেওয়ার অনুমতি আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

কী বলছে নতুন সরকারি নির্দেশ?
স্কুল শিক্ষা দপ্তরের Deputy Secretary কর্তৃক জারি করা নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে যে, কিছু জেলায় এখনও গরমের পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। সেই কারণে সংশ্লিষ্ট জেলার স্কুল কর্তৃপক্ষদের প্রয়োজনে Morning Shift-এ একাডেমিক ক্লাস পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, এই সুবিধা ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত চালু থাকবে।
তবে সমস্ত স্কুলকে একই নিয়ম মানতেই হবে এমন নয়। স্থানীয় আবহাওয়া, ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা এবং স্কুলের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
আগের নির্দেশগুলিতে কী বলা হয়েছিল?
১ জুন ২০২৬
প্রথম নির্দেশিকায় কিছু জেলায় গরমের পরিস্থিতি বিবেচনা করে সকাল শিফটে ক্লাস নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
৫ জুন ২০২৬
গরম অব্যাহত থাকায় Morning School-এর সময়সীমা ১৫ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
৮ জুন ২০২৬
আরও একটি নির্দেশিকায় আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয় এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হয়।
১২ জুন ২০২৬
সর্বশেষ নির্দেশিকায় Morning School-এর অনুমতি ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
কেন এই নির্দেশ জারি করা হল?
সরকারের মতে, বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতিতে দুপুরের প্রচণ্ড গরমে ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে যাতায়াত ও ক্লাস করা অনেক ক্ষেত্রে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশেষ করে:
- Heatwave-এর ঝুঁকি
- ডিহাইড্রেশনের সম্ভাবনা
- দীর্ঘ সময় রোদে থাকা
- ছোট শিশুদের স্বাস্থ্য সমস্যা
এসব বিষয় বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্কুলগুলির জন্য কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে?
নতুন মেমো অনুযায়ী:
- স্থানীয় আবহাওয়া বিবেচনা করতে হবে
- ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে
- পড়াশোনার ক্ষতি যেন না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে
- শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের আগাম জানাতে হবে
- প্রয়োজন অনুযায়ী Morning Shift চালু রাখতে হবে
অভিভাবকদের কী জানা দরকার?
স্কুলের সময়সূচি একেক জেলায় একেক রকম হতে পারে। তাই অভিভাবকদের নিজেদের সন্তানের স্কুল থেকে সরাসরি সময়সূচি জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
স্কুল কর্তৃপক্ষ যদি Morning Shift চালু রাখে, তাহলে সেই অনুযায়ী ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে পাঠাতে হবে।
ছাত্রছাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতিতে:
- পর্যাপ্ত জল পান করুন
- হালকা পোশাক পরুন
- ছাতা বা টুপি ব্যবহার করুন
- স্কুলে পানির বোতল নিয়ে যান
- অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত শিক্ষক বা অভিভাবককে জানান
এই নির্দেশ থেকে কী বোঝা যাচ্ছে?
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার এখনও গরমের প্রভাবকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। তাই ৩০ জুন পর্যন্ত Morning School-এর অনুমতি বহাল রাখা হয়েছে।
তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়। স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী স্কুল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।
আবহাওয়ার পরিস্থিতির উন্নতি হলে পরবর্তীতে নতুন নির্দেশিকা জারি হতে পারে। তাই ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের স্কুল শিক্ষা দপ্তরের পরবর্তী আপডেটের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
১২ জুন ২০২৬-এ জারি হওয়া নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার স্কুলগুলিকে ৩০ জুন পর্যন্ত সকাল শিফটে ক্লাস নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনা করে।
