সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী ও জনমুখী করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধাননগর হাসপাতালে সারভাইকাল ক্যান্সার প্রতিরোধে HPV টিকাকরণ কর্মসূচির সূচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তিনি স্বাস্থ্য পরিষেবা, ওষুধ সরবরাহ, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, নতুন নিয়োগ এবং অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিস্তারিত বার্তা দেন।
সরকারি হাসপাতালের নাম হবে ‘আয়ুষ্মান মন্দির’
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিকে নতুন পরিচয়ে গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, হাসপাতালগুলির নাম হবে ‘আয়ুষ্মান মন্দির’ এবং সেখানে সকলের জন্য উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ওষুধের খরচ কমাতে প্রধানমন্ত্রী জন ঔষধি কেন্দ্রগুলির সম্প্রসারণের কথাও জানান তিনি।
ভারতে কি আসছে প্লাস্টিকের নোট? কাগজের নোট কি বাতিল হবে? RBI-এর নতুন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত জানুন
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বর্তমানে যে ওষুধ কিনতে একজন রোগীর মাসে ১,০০০ টাকা খরচ হয়, জন ঔষধি কেন্দ্রের মাধ্যমে সেই একই ওষুধ অনেক কম দামে পাওয়া সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, ক্যান্সারসহ বিভিন্ন দূরারোগ্য ব্যাধির ওষুধে ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়ার জন্য ‘অমৃত’ প্রকল্পও চালু করা হবে।
শুরু হল HPV টিকাকরণ কর্মসূচি
সারভাইকাল ক্যান্সার প্রতিরোধে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে HPV টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরীদের এই টিকা দেওয়া হবে। রাজ্যের ২৩৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একযোগে কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্র সরকারের সহযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গ ৭ লক্ষ ৭২ হাজার ৬৫০ ডোজ HPV টিকা পেয়েছে। এই টিকা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। আগামী দিনে রাজ্যের ৮৮০টি কেন্দ্রে এই টিকাকরণ কর্মসূচি সম্প্রসারিত করা হবে বলে তিনি জানান।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সারভাইকাল ক্যান্সার নারীদের অন্যতম গুরুতর ক্যান্সার। সময়মতো HPV টিকা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে এই রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
হাসপাতালের দালাল চক্রের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
রাজ্যের হাসপাতালগুলিতে দালাল চক্র ও অপ্রয়োজনীয় রেফারের অভিযোগের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, স্বাস্থ্য ভবনে ২৪ ঘণ্টার একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হচ্ছে, যেখানে জেলা হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলিকে যুক্ত করে লাইভ মনিটরিং করা হবে।
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসকদের উপস্থিতি, রোগীদের অবস্থা এবং দালাল চক্রের কার্যকলাপের উপর নজরদারি চালানো হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যখাতে নতুন নিয়োগের ঘোষণা
স্বাস্থ্য পরিষেবার মান উন্নত করতে আরও চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে।
তিনি বলেন, নতুন নিয়োগের ফলে রোগী রেফারের সংখ্যা কমবে এবং জেলার হাসপাতালগুলিতেও উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে যাবে।
উত্তরবঙ্গে AIIMS ও নতুন মেডিক্যাল কলেজের উদ্যোগ
উত্তরবঙ্গে একটি নতুন AIIMS প্রতিষ্ঠার জন্য জমি নির্বাচনের কাজ চলছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলায় নতুন মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের জন্য কেন্দ্রের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে।
সরকারের লক্ষ্য, রাজ্যের কোনও জেলাই যেন মেডিক্যাল কলেজের সুবিধা থেকে বঞ্চিত না থাকে।
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা করে পাঠানো হবে। যারা নিজেরা ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, তাঁদের বাড়িতে সরকারি কর্মীরা গিয়ে ফর্ম পূরণের ব্যবস্থা করবেন।
তিনি সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রকৃত প্রাপকদের কাছেই এই আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকল্প পরিচালনা করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
উপসংহার
স্বাস্থ্য পরিষেবার আধুনিকীকরণ, বিনামূল্যে HPV টিকাকরণ, হাসপাতাল নজরদারি ব্যবস্থা, নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং অন্নপূর্ণা যোজনার মতো একাধিক উদ্যোগের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিয়েছে রাজ্য সরকার। আগামী কয়েক মাসে এই ঘোষণাগুলির বাস্তবায়ন কতটা সফল হয়, সেদিকেই নজর থাকবে সাধারণ মানুষের।
