WB Teacher Transfer Portal | চলতি সপ্তাহেই শুরু হতে পারে শিক্ষক বদলির নতুন পোর্টাল, উৎসশ্রীর বদলে আসছে নতুন ব্যবস্থা

সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

WhatsApp Group
Join Now

WB Teacher Transfer Portal: পশ্চিমবঙ্গে সরকারি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দীর্ঘদিনের বদলি সমস্যার সমাধানে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। চলতি সপ্তাহেই চালু হতে পারে একটি নতুন অনলাইন শিক্ষক বদলি পোর্টাল। শিক্ষা দফতরের সূত্রের খবর, এতদিন ব্যবহৃত উৎসশ্রী’ (Utsashree) পোর্টালের পরিবর্তে নতুন একটি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।

শিক্ষক মহলে এই খবর নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বহু শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে বদলির আবেদন করেও সমাধান না পাওয়ায় নতুন পোর্টালকে ঘিরে বাড়ছে প্রত্যাশা।

WB Teacher Transfer Portal: কেন নতুন পোর্টাল আনা হচ্ছে?

শিক্ষক বদলি সংক্রান্ত পোর্টালটি এই সপ্তাহেই চালু হতে চলেছে। যদিও পোর্টালটির প্রাথমিক নাম ছিল ‘উৎসশ্রী’, তবে এর নাম পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। শিক্ষকরা সম্প্রতি বদলি সংক্রান্ত বিষয়ে দাবি জানিয়েছেন; তাঁদের একাংশ জোর দিয়ে বলছেন যে, ২০২১ সাল থেকে ‘উৎসশ্রী’ পোর্টালে পড়ে থাকা অসংখ্য আবেদনের যেন দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়। পারস্পরিক বদলি বা ‘মিউচুয়াল ট্রান্সফার’-এর জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হলেও, অভিযোগ রয়েছে যে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত একটিও বদলি কার্যকর করা হয়নি।

শিক্ষা দপ্তর সম্প্রতি বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অতিরিক্ত বা উদ্বৃত্ত শিক্ষকদের তালিকা চেয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং আধিকারিকরা শিক্ষক বদলি ও তাঁদের সুষম বণ্টনকে এই উদ্যোগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন। তবে শিক্ষক সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক চন্দন গোরাই জানিয়েছেন যে, পারস্পরিক বদলির ফলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না; তাই স্কুল শিক্ষা দপ্তরের উচিত এই আবেদনগুলিকে অনুমোদন দেওয়া।

স্কুল শিক্ষা দপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, রাজ্য সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা তৈরি করছে। উল্লেখ্য, শহরতলি ও গ্রামীণ এলাকার বহু অভিভাবকের কাছে এই স্কুলগুলি এখনও একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প। বিকাশ ভবনে বিজেপি বিধায়ক এবং স্কুল শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের সাম্প্রতিক বৈঠকেও এই বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছিল। খবর অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকা থেকে শহরে চলে আসা শিক্ষকদের পুনরায় ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

সূত্রের খবর, পোর্টালের মাধ্যমে অনেক শিক্ষক গ্রামীণ এলাকা থেকে শহরাঞ্চলে স্থানান্তরিত হয়েছেন। এছাড়া, ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ প্যানেল বাতিল হওয়ার ফলে শিক্ষক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। দপ্তর স্বীকার করছে যে, বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষকদের সুষম বণ্টন নেই। কলকাতায় এমন স্কুলও রয়েছে যেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যার চেয়ে শিক্ষকের সংখ্যা বেশি—যেমন, একটি স্কুলে ৩৫০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৩০ জনেরও বেশি শিক্ষক রয়েছেন—অথচ গ্রামীণ এলাকায় অনেক সময় ২,৫০০ জন শিক্ষার্থীর জন্যও পর্যাপ্ত শিক্ষক পাওয়া যায় না। ফলে, শহরাঞ্চল থেকে গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষকদের বদলি করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। বঙ্গীয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল দাবি জানিয়েছেন যে, ২০২১ সাল থেকে ঝুলে থাকা আবেদনগুলির প্রক্রিয়াও যেন শুরু করা হয়।

কী পরিবর্তন আসতে পারে?

শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গেছে, নতুন পোর্টালের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষিকারা অনলাইনে আবেদন, নথি যাচাই, আবেদনপত্রের অগ্রগতি এবং বদলির স্ট্যাটাস এক জায়গাতেই দেখতে পারবেন। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির সম্ভাবনা তৈরি হবে।

একই সঙ্গে আপস-বদলির ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

WB Teacher Transfer Portal: শিক্ষক ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ

শুধু বদলি নয়, রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষক ঘাটতির সমস্যাও বড় উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের অনেক স্কুলে প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক বেশি থাকলেও গ্রামীণ এলাকার বহু বিদ্যালয়ে এখনও পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই।

এর ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনায় প্রভাব পড়ছে। নতুন পোর্টালের মাধ্যমে শিক্ষক বণ্টন আরও ভারসাম্যপূর্ণ করার চেষ্টা করা হতে পারে বলে শিক্ষা মহলের একাংশের ধারণা।

রাজনৈতিক প্রশাসনিক পর্যায়েও আলোচনা

সম্প্রতি শিক্ষা দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে শিক্ষক বদলি এবং শিক্ষক বণ্টন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। গ্রাম থেকে শহরে বদলি হওয়া শিক্ষকদের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ ও পুনর্বিন্যাসের বিষয়ও আলোচনায় এসেছে।

পুরনো আবেদনকারীদের কী হবে?

শিক্ষক সংগঠনগুলির দাবি, ২০২১ সাল থেকে যেসব আবেদন এখনও মুলতুবি রয়েছে, সেগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি করা হোক। নতুন পোর্টাল চালু হলেও পুরনো আবেদনগুলি বাতিল না করে সেগুলিকে নতুন ব্যবস্থার আওতায় এনে দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: স্কুলের মিড-ডে মিলে এবার ইসকনের খাবার! বাড়ল বরাদ্দও, বদলাতে পারে পড়ুয়াদের খাবারের মান

নতুন পোর্টাল চালুর আগে যা জানা জরুরি

  • চলতি সপ্তাহেই নতুন শিক্ষক বদলি পোর্টাল চালু হতে পারে।
  • উৎসশ্রী পোর্টালের পরিবর্তে নতুন প্ল্যাটফর্ম আসার সম্ভাবনা। (https://banglarshiksha.wb.gov.in/utsashree/)
  • অনলাইনে আবেদন ও স্ট্যাটাস ট্র্যাকিং আরও সহজ হবে।
  • দীর্ঘদিনের মুলতুবি বদলির আবেদন নিষ্পত্তিতে জোর দেওয়া হবে।
  • শিক্ষক ঘাটতি বিবেচনা করে বদলি প্রক্রিয়ায় নতুন নীতি অনুসরণ করা হতে পারে।

নতুন শিক্ষক বদলি পোর্টাল চালু হলে পশ্চিমবঙ্গের হাজার হাজার সরকারি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকার জন্য বদলি প্রক্রিয়া অনেক বেশি স্বচ্ছ ও দ্রুত হতে পারে। যদিও সরকারিভাবে এখনও বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়নি, তবে শিক্ষা দফতরের প্রস্তুতি এবং প্রশাসনিক তৎপরতা দেখে মনে করা হচ্ছে, খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

শিক্ষকদের পরামর্শ, নতুন পোর্টাল চালু হলে সরকারি নির্দেশিকা ভালোভাবে পড়ে তবেই আবেদন করুন এবং শুধুমাত্র সরকারি সূত্রের তথ্যের উপর নির্ভর করুন।

Swastika Paul
Swastika Paulhttps://swastikapaul.in/
Swastika Paul is a distinguished innovator, educator, and the Principal of Tehatta Government ITI. Holding an M.Tech in Communication Engineering, she is dedicated to bridging the digital divide in rural India through technical skill development and inclusive leadership. A recognized voice in grassroots innovation, Swastika was honored with the "Principal of the Year" award at the Asia Education Conclave 2025. Beyond academia, she is the Co-founder of SD ONUPRON GROUP, where she has spent over 6 years curating impactful content on education, technology, and social awareness. Her dual expertise in engineering and digital media makes her a trusted authority in the evolving landscape of Indian technical education and social entrepreneurship.

Read more

Local News