সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
School Mid Day Meal Update: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলির মিড-ডে মিল প্রকল্প নিয়ে বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। নতুন বাজেটে প্রাথমিক স্তরের পড়ুয়াদের জন্য মাথাপিছু খাবারের বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি কলকাতার কিছু এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে মিড-ডে মিল রান্না ও সরবরাহের দায়িত্ব পেতে চলেছে ইসকন (ISKCON)। এই দুই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শিক্ষা মহল ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
School Mid Day Meal Update: মিড-ডে মিলে বাড়ল বরাদ্দ
রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিলের জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ ৬ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা ৭১ পয়সা করা হচ্ছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় প্রায় ৪৭ শতাংশ বেশি অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।
সরকারের দাবি, খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি এবং পড়ুয়াদের আরও পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন বরাদ্দ কার্যকর হলে স্কুলগুলির পক্ষে খাবারের মান উন্নত করা সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কলকাতায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে ইসকনের অংশগ্রহণ
বাজেট ঘোষণার পর মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান যে, কলকাতার কিছু অঞ্চলে পরীক্ষামূলক ভিত্তিতে ইসকনকে মিড-ডে মিল সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হবে। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বহু বছর ধরে বড় পরিসরে রান্না করা ও স্কুলে খাবার পৌঁছে দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে এই সংস্থার।
সরকারের মতে, কেন্দ্রীয় রান্নাঘর থেকে স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্পন্ন খাবার সরবরাহের ক্ষেত্রে ইসকনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে। তবে আপাতত এটি শুধুমাত্র একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবেই চালু হবে।
School Mid Day Meal Update: কোন দিনে কী খাবার দেওয়া হতে পারে?
প্রস্তাবিত সাপ্তাহিক মেনু অনুযায়ী পড়ুয়াদের জন্য বিভিন্ন দিনে ভিন্ন ভিন্ন খাবারের ব্যবস্থা রাখা হতে পারে।
- সোমবার: ভাত ও সয়াবিন
- মঙ্গলবার: ভাত, ডাল ও আলু ভর্তা
- বুধবার: পোলাও ও মটর পনির
- বৃহস্পতিবার: ভাত ও কুমড়ো-ছানা
- শুক্রবার: ভাত ও মিশ্র সবজি অথবা কাবুলি চানা
- শনিবার: খিচুড়ি ও পাঁপড় অথবা মিষ্টি
এই মেনুর মূল লক্ষ্য হল পড়ুয়াদের খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনা এবং পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করা।
পুষ্টিকর খাবারের উপর জোর
মিড-ডে মিল প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সূত্রের দাবি, নতুন ব্যবস্থায় খাবারের মেনুতে সয়াবিন, ডাল, ছানা, পনিরের মতো উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ উপাদান বেশি গুরুত্ব পেতে পারে। এর ফলে শিশুদের দৈনন্দিন পুষ্টির ঘাটতি কিছুটা হলেও পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যদিও বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, রাজ্যের সব এলাকায় একই ধরনের কেন্দ্রীয় রান্না ব্যবস্থা চালু করা সহজ হবে না। বিশেষ করে শহরের যানজট ও দূরত্বের কারণে খাবার সময়মতো পৌঁছে দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
আরও পড়ুন: দু’ইঞ্জিনের দৌড়ে সরকারি কর্মীদের বড় স্বস্তি! রাজ্যে ২০% ডিএ বৃদ্ধি, ১ লক্ষ চাকরির ঘোষণা বাজেটে
অবকাঠামো উন্নয়নেও নজর
শুধু খাবারের বরাদ্দ বৃদ্ধি নয়, স্কুলগুলির রান্নাঘর, নিরাপদ পানীয় জল এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নের দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলিতে জল পরিশোধন ব্যবস্থা এবং মিড-ডে মিলের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্যও অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
কী বলছেন অভিভাবকরা?
অনেক অভিভাবকের মতে, যদি সত্যিই খাবারের মান উন্নত হয় এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার সরবরাহ করা যায়, তাহলে তা শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে, কিছু মানুষের প্রশ্ন, দীর্ঘমেয়াদে এই ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে এবং সব স্কুলে একই মান বজায় রাখা সম্ভব হবে কি না।
মিড-ডে মিল প্রকল্পে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং ইসকনের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ পশ্চিমবঙ্গের স্কুল শিক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, পাইলট প্রকল্প কতটা সফল হয় এবং পড়ুয়ারা বাস্তবে কতটা উন্নত মানের খাবার পায়। সফল হলে ভবিষ্যতে রাজ্যের আরও অনেক এলাকায় এই মডেল সম্প্রসারিত হতে পারে।
