সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
WB HS Semester System Cancel 2026: গত দু’বছর ধরে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে চালু রয়েছে সেমেস্টার পদ্ধতি। কিন্তু এই নতুন পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে এবার নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে বলে খবর। চারটি সেমেস্টারের মাধ্যমে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নেওয়ার পরিবর্তে ফের পুরনো পদ্ধতিতে, অর্থাৎ একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির প্রচলিত পরীক্ষার নিয়মে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজ্যের শিক্ষা মহলে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি খুব শীঘ্রই বাতিল হতে চলেছে উচ্চমাধ্যমিকের সেমেস্টার ব্যবস্থা?
তবে এই মুহূর্তে সেমেস্টার পদ্ধতি বাতিলের বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিষয়টি এখনও বিবেচনাধীন। পাশাপাশি চলতি শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষার ক্ষেত্রে সেমেস্টার পদ্ধতিতেই পরীক্ষা হওয়ার কথা। তাই পরীক্ষার্থীদের এখনই পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।
WB HS Semester System Cancel: কেন সেমেস্টার পদ্ধতি তুলে দেওয়ার কথা ভাবছে রাজ্য?
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ একাদশ শ্রেণিতে সেমেস্টার পদ্ধতি চালু করে। পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে অর্থাৎ ২০২৫-২৬ থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতেও এই ব্যবস্থা কার্যকর হয়। এর ফলে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি মিলিয়ে মোট চারটি সেমেস্টারে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের মূল্যায়ন ব্যবস্থা ভাগ করা হয়।
এই পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য ছিল পড়ুয়াদের উপর একসঙ্গে পরীক্ষার চাপ কমানো এবং নিয়মিত মূল্যায়নের মাধ্যমে পড়াশোনার মান উন্নত করা। কিন্তু বাস্তবে এই ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিয়ে শিক্ষকদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, সেমেস্টার পদ্ধতিতে পড়ুয়াদের যথাযথভাবে প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে একাধিক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিলেবাস শেষ করা, নিয়মিত ক্লাস নেওয়া, পরীক্ষা পরিচালনা এবং পড়ুয়াদের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে অনেক স্কুলকে।
শিক্ষকদের একাংশের মতে, ঘন ঘন পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও সব পড়ুয়া সমানভাবে উপকৃত হচ্ছে না। বরং অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষার প্রস্তুতি ও সিলেবাস শেষ করার চাপের কারণে বিষয়ভিত্তিক গভীর জ্ঞান অর্জনের সুযোগ কমে যাচ্ছে। এই ধরনের অভিযোগই নতুন করে সেমেস্টার পদ্ধতির কার্যকারিতা পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে কী ইঙ্গিত?
উচ্চমাধ্যমিকের সেমেস্টার পদ্ধতি নিয়ে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণের বক্তব্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। TV9 Bangla-র ৩০ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষকদের একাংশের কাছ থেকে এই পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে অভিযোগ এসেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, শিক্ষকরা মনে করছেন সেমেস্টার ব্যবস্থায় ছাত্রছাত্রীরা প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছে না। একজন শিক্ষক হিসেবে বিষয়টিকে পর্যালোচনার পর্যায়ে রাখার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
অর্থাৎ, সেমেস্টার পদ্ধতি চালু থাকবে নাকি পুরনো বার্ষিক পরীক্ষা ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া হবে, তা নিয়ে শিক্ষা দফতরের মধ্যে পর্যালোচনা চলছে। তবে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বাতিলের নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়নি।
WB HS Semester System Cancel: সেমেস্টার পদ্ধতি বাতিল হলে কীভাবে হবে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা?
যদি রাজ্য সরকার শেষ পর্যন্ত পুরনো পরীক্ষা পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে উচ্চমাধ্যমিকের মূল্যায়ন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
বর্তমান সেমেস্টার ব্যবস্থায় একাদশ শ্রেণিতে প্রথম ও দ্বিতীয় সেমেস্টার এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে তৃতীয় ও চতুর্থ সেমেস্টার রয়েছে।
অন্যদিকে, পুরনো পদ্ধতি ফিরলে পরীক্ষার কাঠামো আগের মতো হতে পারে। সেক্ষেত্রে পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে প্রি-টেস্ট, টেস্ট এবং চূড়ান্ত বোর্ড পরীক্ষার মতো প্রচলিত ব্যবস্থার গুরুত্ব বাড়বে।
সম্ভাব্য পরিবর্তনগুলি হল:
- একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে চারটি সেমেস্টারের পরিবর্তে পুরনো বার্ষিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা ফিরে আসতে পারে।
- দ্বাদশ শ্রেণিতে একটি চূড়ান্ত উচ্চমাধ্যমিক বোর্ড পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা চালু হতে পারে।
- স্কুলের প্রি-টেস্ট ও টেস্ট পরীক্ষার মাধ্যমে বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে।
- সিলেবাস শেষ করা এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য স্কুলগুলি তুলনামূলকভাবে বেশি সময় পেতে পারে।
তবে এগুলি সম্ভাব্য পরিবর্তনের চিত্র। সরকার বা উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের চূড়ান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট পরীক্ষার কাঠামো নিশ্চিত করে বলা যাবে না।
চলতি শিক্ষাবর্ষে কি পরীক্ষা পদ্ধতি বদলাচ্ছে?
এই প্রশ্নের উত্তর আপাতত না। চলতি শিক্ষাবর্ষের পড়ুয়াদের জন্য এখনই পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনের কোনও ঘোষণা নেই। সেমেস্টার পদ্ধতি অনুযায়ীই পরীক্ষা পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে।
উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ২০২৬ সালের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনায় দ্বাদশ শ্রেণির তৃতীয় ও চতুর্থ সেমেস্টারের উল্লেখ রয়েছে। এমনকী ২০২৭ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য তৃতীয় ও চতুর্থ সেমেস্টারের রুটিনও সংসদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। ফলে কোনও নতুন সরকারি নির্দেশিকা না আসা পর্যন্ত বর্তমান নিয়ম মেনেই পড়ুয়াদের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই কি ফিরতে পারে পুরনো নিয়ম?
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষা দফতর সেমেস্টার ব্যবস্থার সুবিধা ও অসুবিধাগুলি পর্যালোচনা করছে বলে জানা যাচ্ছে।
নতুন শিক্ষাবর্ষে পুরনো পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। পাশাপাশি, পরিবর্তন কার্যকর হলে কোন শিক্ষাবর্ষের পড়ুয়ারা নতুন নিয়মের আওতায় আসবেন, সেটিও স্পষ্ট নয়।
এক্ষেত্রে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন হলে তার সঙ্গে সিলেবাস, মূল্যায়ন, প্রশ্নপত্রের ধরন এবং পরীক্ষার সময়সূচির মতো একাধিক বিষয় জড়িত থাকবে।
পড়ুয়া ও অভিভাবকদের কী করা উচিত?
সেমেস্টার পদ্ধতি বাতিলের সম্ভাবনার খবর সামনে আসতেই একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে পড়াশোনার পরিকল্পনা পরিবর্তন করার কোনও প্রয়োজন নেই।
পড়ুয়া ও অভিভাবকদের কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি:
- সংসদের প্রকাশিত সিলেবাস ও পরীক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশিকা অনুসরণ করতে হবে।
- সেমেস্টার পরীক্ষা বাতিলের কোনও অনানুষ্ঠানিক খবরের ভিত্তিতে পড়াশোনা বন্ধ করা যাবে না।
- স্কুলের শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের দেওয়া নির্দেশ মেনে প্রস্তুতি নিতে হবে।
- পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনের কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে সেটি ভালোভাবে পড়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
- নিয়মিত আপডেটের জন্য পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সরকারি ওয়েবসাইট দেখতে হবে।
সরকারি ওয়েবসাইট: WBCHSE Official Website
উচ্চমাধ্যমিকের সেমেস্টার পদ্ধতি চালুর পর থেকে এই ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষামহলে বিভিন্ন ধরনের মতামত উঠে এসেছে। একদিকে নিয়মিত মূল্যায়নের সুবিধা রয়েছে, অন্যদিকে শিক্ষক ও পড়ুয়াদের একাংশের অভিযোগও উপেক্ষা করার মতো নয়। তাই পরীক্ষা ব্যবস্থার বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে শিক্ষা দফতর কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেমেস্টার পদ্ধতি বাতিলের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সরকারি ঘোষণা হয়নি। তাই এখনই পুরনো নিয়মে পরীক্ষা হবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। শিক্ষা দফতর ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের পরবর্তী নির্দেশিকার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

