সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
Tulu Mondal in Dubai: বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন, বিপুল সম্পত্তির হদিশ এবং দেশ ছেড়ে দুবাইয়ে আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগের মধ্যে এবার তাঁর বিদেশে থাকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে সুপ্রিম কোর্টে। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, টুলু মণ্ডলকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে ভারতের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী পদক্ষেপ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে দুবাইয়ের একটি অ্যাকাউন্টে ৫২ কোটি টাকা স্থানান্তরের দাবি উঠেছে। পাশাপাশি দুবাইয়ে ১০ বছরের গোল্ডেন পারমিট পাওয়ার বিষয়টিও মামলায় উঠে এসেছে। গোটা ঘটনায় এখন নজর আদালতের পরবর্তী শুনানি এবং তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার সম্ভাব্য প্রক্রিয়ার দিকে।
Tulu Mondal in Dubai: ২৩ মে দেশত্যাগ, কোথায় রয়েছেন টুলু মণ্ডল?
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, টুলু মণ্ডল ওরফে মহম্মদ নাজিবুদ্দিন মণ্ডল ২০২৬ সালের ২৩ মে ভারত ছেড়েছেন। কলকাতা হাইকোর্টেও তাঁর দেশত্যাগের বিষয়টি মামলার শুনানিতে উঠে এসেছিল। পুলিশের তরফে আদালতে জানানো হয়, NATGRID-এর মাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী তিনি ২৩ মে দেশ ছেড়েছিলেন। পরবর্তীতে ৩০ জুলাই তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়।
এরপর তদন্তের স্বার্থে তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। আদালতে হাজির না হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে পলাতক সংক্রান্ত ঘোষণার প্রক্রিয়াও শুরু হয়। কলকাতা হাইকোর্ট ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ তাঁর দায়ের করা আবেদন খারিজ করে দেয়।
৫২ কোটি টাকা দুবাইয়ের অ্যাকাউন্টে, কী দাবি কেন্দ্রের?
২৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে দুবাইয়ের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৫২ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। এরপরই দুবাইয়ে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের জন্য ১০ বছরের গোল্ডেন পারমিট নিয়েছেন টুলু মণ্ডল।
কেন্দ্রের বক্তব্য, বিষয়টি শুধু বিদেশে চলে যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আর্থিক লেনদেন এবং তদন্তের বিষয়টিও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে ভারতের বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি কাজে লাগিয়ে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে।
টুলু মণ্ডলের আইনজীবীর বক্তব্য কী?
অন্যদিকে, কেন্দ্র ও রাজ্যের বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন টুলু মণ্ডলের আইনজীবী। তাঁর দাবি, টুলু মণ্ডল পরিবার নিয়ে দুবাইয়ে ছুটি কাটাতে গিয়েছেন। সেখানে তিনি ১০ বছরের ভিসা পেয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানার বৈধতা নিয়েও আদালতে আপত্তি জানিয়েছেন আইনজীবী।
অর্থাৎ, টুলু মণ্ডলের বিদেশে থাকার কারণ এবং তাঁকে দেশে ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা। এই বিষয়গুলির নিষ্পত্তি হবে আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের মাধ্যমে।
Tulu Mondal in Dubai: তদন্তে উদ্ধার বিপুল নগদ টাকা ও সোনা
টুলু মণ্ডলকে ঘিরে তদন্তের সূত্রপাতের পর থেকেই বীরভূমের মহম্মদবাজার এলাকায় বিপুল সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি সামনে এসেছে। কলকাতা হাইকোর্টে পেশ করা তদন্ত সংক্রান্ত রিপোর্টের উল্লেখ করে প্রকাশিত LiveLaw-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, টুলু মণ্ডলের এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির বাড়ি থেকে ২৮ কোটি ৫৩ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনার বার উদ্ধারের কথা আদালতে জানানো হয়েছিল।
তদন্তকারীদের সন্দেহ, উদ্ধার হওয়া সম্পত্তির সঙ্গে অপরাধলব্ধ অর্থের যোগ থাকতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, নথিপত্র এবং ইলেকট্রনিক তথ্যও তদন্তের আওতায় এসেছে। তবে এই অভিযোগ ও সম্পত্তির উৎস সংক্রান্ত বিষয়গুলি এখনও তদন্ত এবং বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ার অংশ।
আরও পড়ুন: ফের বিমানবন্দরে বোমাতঙ্ক! মহিলা টয়লেটে চিরকুট, লেখা ‘৩০ নম্বর গেটে বোমা রাখা আছে’
সরকারি প্রকল্পের কাজেও ছিল টুলুর সংস্থার নাম?
তদন্ত ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বীরভূম ছাড়াও পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান এবং বাঁকুড়ার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা নির্মাণ, মেরামতি, নদীবাঁধ ও অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের কাজের সঙ্গে টুলু মণ্ডলের নাম জড়িয়েছে।
বিশেষ করে পথশ্রী প্রকল্প এবং নদীবাঁধ সংক্রান্ত কাজের বরাত একাধিক সংস্থার মাধ্যমে পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের দাবি, পাথর ও বালি ব্যবসার পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের কাজের সঙ্গেও তাঁর ব্যবসায়িক যোগাযোগ ছিল। এই সমস্ত আর্থিক লেনদেন এবং সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
কবে পরবর্তী শুনানি সুপ্রিম কোর্টে?
২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানিতে কেন্দ্রের তরফে টুলু মণ্ডলকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চে মামলাটি ওঠে।
প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার অর্থাৎ ৩ নভেম্বর ২০২৬ মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা। এখন দেখার, দুবাই থেকে টুলু মণ্ডলকে দেশে ফেরানোর জন্য প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া কত দ্রুত এগোয় এবং পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী নির্দেশ দেয়।
বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলকে ঘিরে ৫২ কোটি টাকার আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্ক লেনদেন, ১০ বছরের গোল্ডেন পারমিট এবং বিপুল সম্পত্তি উদ্ধারের বিষয়টি এখন জাতীয় স্তরের আলোচনায়। একদিকে কেন্দ্র ও রাজ্যের তরফে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে, অন্যদিকে তাঁর আইনজীবী বিদেশে থাকার বিষয়টিকে পারিবারিক ছুটি কাটানোর সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আদৌ কবে দেশে ফিরবেন টুলু মণ্ডল? তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

