Nana Patekar Death: ৭৫ বছরে প্রয়াত নানা পাটেকর, জানুন তাঁর সম্পূর্ণ জীবনী ও অভিনয়জীবনের কাহিনি

সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

WhatsApp Group
Join Now

ভারতীয় সিনেমার জগতে নেমে এল শোকের ছায়া। প্রয়াত হলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা, পরিচালক ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব নানা পাটেকর। ৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার সকালে গোয়ায় নিজের বাসভবনে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ৭৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকেরা প্রায় ৪৫ মিনিট CPR দেওয়ার পরও তাঁকে বাঁচাতে পারেননি। ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই বলিউড ও মারাঠি চলচ্চিত্র জগতে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। সহকর্মী, শিল্পী এবং অসংখ্য অনুরাগী তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং দীর্ঘ চলচ্চিত্রজীবনের কথা স্মরণ করছেন।

Read More : Nana Patekar Dies at 75: Veteran Actor’s Death, Biography, Career, Movies and Life Story

Google
Add West Bengal Times যুক্ত করুন গুগল-এ পছন্দের উৎস হিসেবে
Add Preference

নানা পাটেকর কে ছিলেন?

নানা পাটেকরের আসল নাম বিশ্বনাথ পাটেকর। ১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রের মুরুদ-জঞ্জিরায় তাঁর জন্ম।

ভারতীয় চলচ্চিত্রে প্রায় পাঁচ দশকের দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি হিন্দি ও মারাঠি দুই ভাষার সিনেমাতেই নিজের স্বতন্ত্র জায়গা তৈরি করেছিলেন। তাঁর অভিনয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল শক্তিশালী সংলাপ বলার ধরন, তীব্র চোখের অভিব্যক্তি, বাস্তবধর্মী অভিনয় এবং চরিত্রের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে ঢুকে যাওয়ার ক্ষমতা।

তিনি শুধু অভিনেতা ছিলেন না। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন এবং সমাজসেবার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়েছিল থিয়েটার থেকে এবং পরে তিনি ভারতীয় সিনেমার অন্যতম পরিচিত চরিত্রাভিনেতা হয়ে ওঠেন

শৈশব ও শিক্ষাজীবন

নানা পাটেকরের শৈশব কেটেছে মহারাষ্ট্রে। আর্থিকভাবে খুব স্বচ্ছল পরিবার থেকে তাঁর উঠে আসা নয়। ছোটবেলা থেকেই জীবনের নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে তাঁকে লড়াই করতে হয়েছে।

তিনি মুম্বইয়ের Sir Jamsetjee Jeejebhoy School of Art, যা Sir J.J. School of Art নামে পরিচিত, সেখানে পড়াশোনা করেন।

অভিনয়ে আসার আগে তিনি শিল্পকলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পোস্টার আঁকার কাজও করেছেন। জীবনের এই অভিজ্ঞতাগুলো পরবর্তীতে তাঁর অভিনয়ের বাস্তবধর্মী চরিত্র নির্মাণে প্রভাব ফেলেছিল।

থিয়েটার থেকে অভিনয়ের জগতে

নানা পাটেকরের অভিনয়জীবনের মূল ভিত্তি ছিল থিয়েটার।

মঞ্চে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতা, কণ্ঠস্বরের ব্যবহার এবং সংলাপ বলার নিজস্ব স্টাইল তৈরি করেন। পরবর্তীতে সিনেমায় এসেও তাঁর অভিনয়ে থিয়েটারের সেই প্রভাব স্পষ্ট ছিল।

১৯৭৮ সালে ‘Gaman’ ছবির মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্রজীবনের সূচনা হয়। এরপর ধীরে ধীরে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজের জায়গা তৈরি করতে থাকেন।

‘অঙ্কুশ’ থেকে পরিচিতি

১৯৮০-এর দশকে নানা পাটেকর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ছবিতে অভিনয় করেন।

‘Ankush’, ‘Pratighaat’, ‘Mohre’-এর মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের নজর কাড়ে।

তাঁর অভিনয়ের ধরন ছিল সেই সময়ের প্রচলিত নায়কোচিত অভিনয় থেকে অনেকটাই আলাদা। তিনি বরং সাধারণ মানুষ, অপরাধী, পুলিশ, রাজনৈতিক চরিত্র বা সমাজের নানা স্তরের মানুষের চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

‘Salaam Bombay!’ এবং ‘Parinda’

১৯৮৮ সালের ‘Salaam Bombay!’ ছবিতে অভিনয়ের পর তাঁর পরিচিতি আরও বাড়ে।

এর পরের বছর, ১৯৮৯ সালে মুক্তি পায় ‘Parinda’। এই ছবিতে নানা পাটেকরের অভিনয় তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

‘Parinda’-র জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ সহ-অভিনেতা এবং Filmfare Award লাভ করেন। তাঁর তীব্র অভিনয় তাঁকে ভারতীয় সিনেমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রাভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

‘প্রহার’: অভিনেতার পাশাপাশি পরিচালক

১৯৯১ সালে নানা পাটেকর নতুন ভূমিকায় আত্মপ্রকাশ করেন।

তিনি ‘Prahaar: The Final Attack’ ছবিটি পরিচালনা করেন এবং নিজেও অভিনয় করেন।

এই ছবির মাধ্যমে বোঝা যায়, সিনেমা নিয়ে তাঁর আগ্রহ শুধুমাত্র অভিনয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। গল্প, পরিচালনা এবং চরিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রেও তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ছিল।

‘ক্রান্তিবীর’: ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অধ্যায়

১৯৯৪ সালের ‘Krantiveer’ নানা পাটেকরের অভিনয়জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ছবি।

ছবিতে তাঁর অভিনীত চরিত্রটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তাঁর সংলাপ বলার ধরন, আবেগ এবং চরিত্রের তীব্রতা তাঁকে সেই সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতায় পরিণত করে।

‘Krantiveer’-এর জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা এবং Filmfare Best Actor পুরস্কার পান।

আজও ছবিটির বহু সংলাপ ভারতীয় দর্শকদের কাছে পরিচিত। তাঁর মৃত্যুর পর ‘Krantiveer’-এর একটি শক্তিশালী মনোলগও নতুন করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

‘Agni Sakshi’ এবং আরও একটি জাতীয় পুরস্কার

১৯৯৬ সালের ‘Agni Sakshi’ ছবিতেও নানা পাটেকরের অভিনয় ব্যাপক প্রশংসিত হয়।

এই ছবির জন্য তিনি আবারও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ সহ-অভিনেতা হন।

এর ফলে তাঁর জাতীয় পুরস্কারের সংখ্যা দাঁড়ায় তিনে।

নব্বইয়ের দশকে একের পর এক স্মরণীয় ছবি

নানা পাটেকরের নব্বইয়ের দশকের উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে:

  • ‘Tirangaa’
  • ‘Krantiveer’
  • ‘Agni Sakshi’
  • ‘Khamoshi: The Musical’
  • ‘Yeshwant’
  • ‘Ghulam-E-Mustafa’
  • ‘Wajood’
  • ‘Hu Tu Tu’

এই সময় তিনি কখনও কঠিন চরিত্রে, কখনও আবেগঘন চরিত্রে আবার কখনও নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করেন।

‘Ab Tak Chhappan’: পুলিশের চরিত্রে নতুন পরিচয়

২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘Ab Tak Chhappan’ ছবিতে নানা পাটেকর একজন পুলিশ অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করেন।

ছবিতে তাঁর চরিত্র ছিল অত্যন্ত কঠোর এবং বাস্তবধর্মী। তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা পায়।

এরপর ‘Apaharan’, ‘Shakti: The Power’, ‘Taxi No. 9211’-সহ একাধিক ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যায় তাঁকে।

‘Welcome’-এ উদয় শেঠি হয়ে নতুন প্রজন্মের প্রিয়

নানা পাটেকরের অভিনয়জীবনের সবচেয়ে বড় চমকগুলির একটি ছিল ‘Welcome’।

২০০৭ সালের এই ছবিতে তিনি উদয় শেঠি চরিত্রে অভিনয় করেন।

এর আগে তাঁর পরিচিতি মূলত তীব্র, সিরিয়াস এবং শক্তিশালী চরিত্রের অভিনেতা হিসেবে ছিল। কিন্তু ‘Welcome’-এ তাঁর কমেডি টাইমিং, সংলাপ এবং অনিল কাপুরের সঙ্গে রসায়ন দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়।

উদয় শেঠি চরিত্রটি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম জনপ্রিয় কমেডি চরিত্র হয়ে ওঠে।

পরবর্তীতে ‘Welcome Back’ ছবিতেও তিনি এই চরিত্রে ফিরে আসেন।

‘Raajneeti’ ও পরবর্তী সময়

২০১০ সালে প্রকাশিত ‘Raajneeti’ ছবিতেও নানা পাটেকর গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন।

এর পরবর্তী সময়েও তিনি নিয়মিত সিনেমায় কাজ করেছেন। হিন্দির পাশাপাশি মারাঠি সিনেমাতেও তাঁর সক্রিয়তা অব্যাহত ছিল।

তিনি কখনও মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমায়, আবার কখনও শক্তিশালী গল্পভিত্তিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন।

‘Natsamrat’: মারাঠি সিনেমায় অসাধারণ প্রত্যাবর্তন

২০১৬ সালের মারাঠি ছবি ‘Natsamrat’ নানা পাটেকরের পরবর্তী জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিনেমা।

একজন অবসরপ্রাপ্ত মঞ্চ অভিনেতার চরিত্রে তিনি অভিনয় করেন। বয়স, পরিবার, স্মৃতি, সম্পর্ক এবং শিল্পীর জীবনের একাকিত্বকে কেন্দ্র করে তৈরি এই চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের গভীরভাবে স্পর্শ করে।

‘Natsamrat’-এর অভিনয় আবারও প্রমাণ করে যে বয়স বাড়লেও তাঁর অভিনয়ের শক্তি কমেনি।

তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার

নানা পাটেকরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন তাঁর তিনটি National Film Award।

তিনি পেয়েছেন:

  • ‘Parinda’-র জন্য শ্রেষ্ঠ সহ-অভিনেতার জাতীয় পুরস্কার
  • ‘Krantiveer’-এর জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জাতীয় পুরস্কার
  • ‘Agni Sakshi’-র জন্য শ্রেষ্ঠ সহ-অভিনেতার জাতীয় পুরস্কার

এছাড়াও তিনি একাধিক Filmfare Award এবং Marathi Filmfare Award পেয়েছেন।

পদ্মশ্রী সম্মান

ভারতীয় চলচ্চিত্রে তাঁর দীর্ঘ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৩ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে।

এই সম্মান তাঁর দীর্ঘ অভিনয়জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।

অভিনয়ের বাইরে সমাজসেবা

নানা পাটেকরের জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সমাজসেবা।

তিনি অভিনেতা মকরন্দ অনাসপুরে-র সঙ্গে Naam Foundation-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই সংস্থা মহারাষ্ট্রের কৃষক, খরাপ্রবণ এলাকার মানুষ এবং গ্রামীণ সমাজের বিভিন্ন সমস্যায় সহায়তার জন্য কাজ করেছে।

সিনেমার জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সমস্যার দিকে নজর দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন নানা পাটেকর।

তাঁর এই সামাজিক কর্মকাণ্ড তাঁকে শুধু অভিনেতা হিসেবে নয়, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ একজন মানুষ হিসেবেও পরিচিত করে।

ব্যক্তিগত জীবন

নানা পাটেকর নীলকান্তি পাটেকরকে বিয়ে করেছিলেন। তাঁদের একটি ছেলে রয়েছে, তাঁর নাম মালহার পাটেকার।

পরবর্তীতে নানা পাটেকর ও নীলকান্তির বিবাহিত জীবনের সমাপ্তি ঘটে।

নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তিনি সাধারণত খুব বেশি প্রচারমুখী ছিলেন না। বলিউডের অন্যান্য তারকার মতো ব্যক্তিগত জীবনকে সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরার পরিবর্তে তিনি মূলত নিজের কাজের মাধ্যমে পরিচিত ছিলেন।

শেষ সময় পর্যন্ত অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন

জীবনের শেষ পর্যায়েও নানা পাটেকর অভিনয় থেকে পুরোপুরি সরে যাননি।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতেও তাঁকে সিনেমায় দেখা গিয়েছে। ‘Housefull 5’, ‘O’ Romeo’ এবং ‘Subedaar’-এর মতো কাজের সঙ্গে তাঁর নাম যুক্ত ছিল।

মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিন আগেও তাঁকে গোয়ার একটি অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল। ৪ অক্টোবর গোয়ার একটি অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতিই তাঁর শেষ প্রকাশ্য উপস্থিতিগুলির একটি হয়ে দাঁড়ায়।

মৃত্যুর দিন কী ঘটেছিল?

৮ অক্টোবর ২০২৬ সকালে গোয়ার ডোনা পাওলায় নিজের বাড়িতে নানা পাটেকর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অচেতন অবস্থায় তাঁকে পাওয়া যায়।

তাঁকে দ্রুত Manipal Hospital-এ নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তাঁর গুরুতর cardiac arrest হয়েছিল। চিকিৎসকেরা প্রায় ৪৫ মিনিট CPR দিয়ে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হয়নি।

ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। চিকিৎসক ড. শেখর সালকার জানিয়েছেন, ঘটনায় একটি medico-legal case নথিভুক্ত হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়াও নেওয়া হয়েছে।

শেষ প্রকাশ্য উপস্থিতি

মৃত্যুর মাত্র চার দিন আগে, ৪ অক্টোবর গোয়ায় একটি অনুষ্ঠানে নানা পাটেকরকে দেখা গিয়েছিল।

সেখানে তিনি বক্তব্যও রাখেন। সেই অনুষ্ঠানই তাঁর জীবনের শেষ প্রকাশ্য উপস্থিতিগুলির একটি হয়ে রয়েছে।

নানা পাটেকরের জনপ্রিয় সিনেমা

নানা পাটেকরের দীর্ঘ চলচ্চিত্রজীবনের উল্লেখযোগ্য ছবিগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • Gaman (1978)
  • Ankush (1986)
  • Salaam Bombay! (1988)
  • Parinda (1989)
  • Prahaar: The Final Attack (1991)
  • Angaar (1992)
  • Tirangaa (1993)
  • Krantiveer (1994)
  • Agni Sakshi (1996)
  • Khamoshi: The Musical (1996)
  • Shakti: The Power (2002)
  • Ab Tak Chhappan (2004)
  • Apaharan (2005)
  • Taxi No. 9211 (2006)
  • Welcome (2007)
  • Raajneeti (2010)
  • Welcome Back (2015)
  • Natsamrat (2016)
  • Housefull 5 (2025)

নানা পাটেকরের অভিনয়ের বিশেষত্ব

নানা পাটেকরের অভিনয়কে আলাদা করে চেনার মতো কয়েকটি বৈশিষ্ট্য ছিল।

তাঁর কণ্ঠস্বর, সংলাপ বলার ধরন, চোখের অভিব্যক্তি এবং শরীরী ভাষা খুব সহজেই দর্শকের নজর কাড়ত।

তিনি এমন চরিত্রে অভিনয় করেছেন যেগুলি সবসময় প্রচলিত অর্থে নায়কোচিত ছিল না। অনেক সময় তাঁর চরিত্র ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন, রাগী, কঠোর কিংবা ভেতরে ভেতরে ভাঙা একজন মানুষ।

আবার ‘Welcome’-এর মতো ছবিতে তিনি একই সঙ্গে দর্শকদের হাসিয়েছেন।

এই বৈচিত্র্যই তাঁকে ভারতীয় সিনেমার অন্যতম স্বতন্ত্র অভিনেতা করে তুলেছিল।

কেন নানা পাটেকরকে মনে রাখবে ভারতীয় সিনেমা?

নানা পাটেকরের জীবন শুধু একজন সফল অভিনেতার গল্প নয়।

এটি থিয়েটার থেকে সিনেমায় উঠে আসা একজন শিল্পীর গল্প। এমন একজন শিল্পীর গল্প, যিনি প্রচলিত নায়ক হওয়ার পথ না বেছে চরিত্রাভিনয়কে নিজের শক্তি করেছিলেন।

‘Parinda’, ‘Krantiveer’, ‘Ab Tak Chhappan’, ‘Welcome’, ‘Natsamrat’-এর মতো সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের ছবিতে তিনি নিজের অভিনয়ের বিভিন্ন দিক দেখিয়েছেন।

তাঁর অভিনয়ের মধ্যে যেমন ছিল তীব্রতা, তেমনই ছিল আবেগ, হাস্যরস এবং মানবিকতা।

নানা পাটেকর: সংক্ষিপ্ত জীবনী

বিষয় তথ্য
আসল নাম বিশ্বনাথ পাটেকর
জনপ্রিয় নাম নানা পাটেকর
জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৫১
জন্মস্থান মুরুদ-জঞ্জিরা, মহারাষ্ট্র
পেশা অভিনেতা, পরিচালক
শিক্ষা Sir J.J. School of Art, Mumbai
চলচ্চিত্রে অভিষেক Gaman, 1978
পরিচালনায় অভিষেক Prahaar: The Final Attack, 1991
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ৩টি
Filmfare Awards ৪টি
Padma Shri ২০১৩
স্ত্রী নীলকান্তি পাটেকর
সন্তান মালহার পাটেকর
মৃত্যু ৮ অক্টোবর ২০২৬
মৃত্যুকালে বয়স ৭৫ বছর
মৃত্যুস্থান গোয়া

জন্ম, শিক্ষা, পেশা, পরিবার ও পুরস্কারের তথ্য Indian Express-এর জীবনী ও পুরস্কার সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

শেষ কথা

নানা পাটেকরের প্রয়াণে ভারতীয় সিনেমা এমন একজন শিল্পীকে হারালেন, যিনি প্রায় পাঁচ দশক ধরে দর্শকদের বিনোদন দেওয়ার পাশাপাশি চরিত্রাভিনয়ের একটি আলাদা মানদণ্ড তৈরি করেছিলেন।

থিয়েটার থেকে শুরু করে হিন্দি ও মারাঠি সিনেমা, অভিনয় থেকে পরিচালনা, জাতীয় পুরস্কার থেকে পদ্মশ্রী, এবং চলচ্চিত্রের বাইরে কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য সামাজিক কাজ, তাঁর জীবন ছিল বহুমাত্রিক।

আজ তিনি পর্দার আড়ালে চলে গেলেও ‘Parinda’-র তীব্রতা, ‘Krantiveer’-এর আগুন, ‘Ab Tak Chhappan’-এর কঠোরতা, ‘Welcome’-এর হাস্যরস এবং ‘Natsamrat’-এর আবেগ ভারতীয় দর্শকের স্মৃতিতে থেকে যাবে।

নানা পাটেকর নেই, কিন্তু তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে।

Syed Mosharaf Hossain
Syed Mosharaf Hossainhttps://syedmosharafhossain.in/
Syed Mosharaf Hossain is a visionary educator, technical innovator, and the Ex-Principal of Purbasthali-II Government ITI, West Bengal. An Electronics & Communication Engineer, he is the creator of the internationally recognized "Arduino-based Smart Shoe" for women’s safety, featured in the World Book of Records. As the Founder of SD ONUPRON GROUP, Syed has over six years of expertise in SEO, web development, and digital journalism. Honored as the "Principal of the Year" at the Asia Education Conclave 2025, he remains dedicated to driving technical innovation and mentoring future professionals in India's education sector.

Table of contents [hide]

Read more

Local News