কলকাতা পুরসভার নিজস্ব সম্পত্তিতেই ৮৩ কোটি টাকার বেশি কর বকেয়া, CAG রিপোর্টে প্রশ্নের মুখে আদায় ব্যবস্থা

সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

WhatsApp Group
Join Now

Kolkata Municipal Corporation Property Tax Dues over 83 Crore: কলকাতা পুরসভার সম্পত্তি কর আদায় নিয়ে এবার সামনে এল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। পুরসভার সদর দফতর-সহ বিভিন্ন নিজস্ব সম্পত্তিতে প্রায় ৮৩ কোটি লক্ষ টাকা সম্পত্তি কর বকেয়া রয়েছে বলে CAG রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বকেয়া ২০১৬ সাল থেকে জমে রয়েছে বলে রিপোর্টভিত্তিক প্রকাশিত তথ্যে জানা যাচ্ছে।

বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ সম্পত্তি কর কলকাতা পুরসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজস্বের উৎস। সাধারণ নাগরিক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিত সম্পত্তি কর আদায়ের দায়িত্ব যে সংস্থার, সেই পুরসভার নিজের সম্পত্তির ক্ষেত্রেই এত বিপুল পরিমাণ কর বকেয়া থাকায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে।

২০১৬ সাল থেকে জমছে বকেয়া

প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, কলকাতা পুরসভার সদর দফতর এবং বিভিন্ন বরো অফিস-সহ পুরসভার একাধিক নিজস্ব সম্পত্তির ক্ষেত্রে ২০১৬ সাল থেকে সম্পত্তি কর বকেয়া রয়েছে। মোট বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৮৩ কোটি ৩ লক্ষ টাকা।

Google
Add West Bengal Times যুক্ত করুন গুগল-এ পছন্দের উৎস হিসেবে
Add Preference

CAG-এর তরফে জানতে চাওয়া হয়েছে, এত বছর ধরে এই বিপুল পরিমাণ কর কেন আদায় করা হয়নি এবং বকেয়া অর্থ আদায়ের জন্য পুরসভা কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।

অর্থাৎ শুধু বকেয়া টাকার পরিমাণই নয়, বকেয়া দীর্ঘদিন ধরে কেন পড়ে রইল এবং তা আদায়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, সেই বিষয়টিও অডিটের নজরে এসেছে।

Kolkata Municipal Corporation Property Tax Dues: সম্পত্তি কর ছাড় নিয়েও প্রশ্ন

CAG-এর পর্যবেক্ষণে সম্পত্তি কর সংক্রান্ত বিভিন্ন ওয়েভার বা করছাড়ের ব্যবস্থাও আলোচনায় এসেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতা পুরসভা অতীতে একাধিকবার সম্পত্তি করের বকেয়া মেটাতে ওয়েভার স্কিম চালু করেছিল। এর মাধ্যমে বকেয়া কর আদায় হলেও করছাড় দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও অডিটের প্রশ্ন রয়েছে।

এখানেই মূল প্রশ্ন, বকেয়া কর আদায়ের জন্য করছাড়ের ব্যবস্থা কতটা প্রয়োজনীয় ছিল এবং সেই ব্যবস্থার ফলে পুরসভার রাজস্বে কী প্রভাব পড়েছে।

শুধু পুরসভার নিজস্ব সম্পত্তিই নয়

রিপোর্ট নিয়ে প্রকাশিত তথ্যে সরকারি সম্পত্তির ক্ষেত্রে সম্পত্তি কর আদায়ের বিষয়টিও উঠে এসেছে। অর্থাৎ কর আদায়ের ক্ষেত্রে সরকারি ও নিজস্ব সম্পত্তিগুলির হিসাব এবং বকেয়া অর্থ উদ্ধারে পুরসভার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এর আগে CAG-এর বিভিন্ন অডিট রিপোর্টেও কলকাতা পুরসভার সম্পত্তি কর আদায় নিয়ে আপত্তি উঠেছিল। উদাহরণ হিসেবে, একটি পুরনো CAG রিপোর্টে কলকাতার Institute of Neurosciences-এর জমির ক্ষেত্রে প্রায় ২ কোটি টাকা সম্পত্তি কর বকেয়া থাকা এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য করছাড় দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: WB RRTS 4 Routes 2026 | পশ্চিমবঙ্গে দ্রুত রেল, কলকাতা থেকে মায়াপুর, আসানসোল, নন্দীগ্রাম ও মেদিনীপুরে ৪ রুটের প্রস্তাব

Kolkata Municipal Corporation Property Tax Dues: পুরসভার আর্থিক পরিস্থিতির মধ্যে প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ

কলকাতা পুরসভার আয় ও ব্যয়ের সঙ্গে সম্পত্তি করের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। পুরসভার বিভিন্ন নাগরিক পরিষেবা এবং উন্নয়নমূলক কাজের জন্য নিজস্ব রাজস্ব গুরুত্বপূর্ণ। তাই দীর্ঘদিন ধরে কয়েক কোটি টাকা বকেয়া পড়ে থাকা নিয়ে CAG-এর প্রশ্নকে আর্থিক ব্যবস্থাপনার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে দেখা হচ্ছে।

কলকাতা পুরসভার নিজস্ব ওয়েবসাইটেও সম্পত্তি কর সংক্রান্ত হিসাব ও বকেয়া করের তথ্য ব্যবস্থার উল্লেখ রয়েছে। পুরসভার অনলাইন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট সম্পত্তির Total Unpaid Property Tax Amount দেখার সুবিধাও রয়েছে।

এখন নজর পুরসভার পরবর্তী পদক্ষেপে

CAG-এর প্রশ্নের পর স্বাভাবিকভাবেই নজর থাকবে কলকাতা পুরসভা কীভাবে এই বিপুল বকেয়া সম্পত্তি কর আদায়ের উদ্যোগ নেয় এবং ভবিষ্যতে পুরসভার নিজস্ব সম্পত্তিতে এমন বকেয়া জমা হওয়া আটকাতে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

৮৩ কোটি টাকার বেশি বকেয়া শুধু একটি আর্থিক অঙ্ক নয়। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কর আদায়ের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, করছাড়ের নীতি এবং পুরসভার নিজস্ব সম্পত্তির আর্থিক ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন। এখন CAG-এর পর্যবেক্ষণের পর এই বকেয়া নিয়ে কলকাতা পুরসভার অবস্থান ও পদক্ষেপের দিকেই নজর থাকবে।

Swastika Paul
Swastika Paulhttps://swastikapaul.in/
Swastika Paul is a distinguished innovator, educator, and the Principal of Tehatta Government ITI. Holding an M.Tech in Communication Engineering, she is dedicated to bridging the digital divide in rural India through technical skill development and inclusive leadership. A recognized voice in grassroots innovation, Swastika was honored with the "Principal of the Year" award at the Asia Education Conclave 2025. Beyond academia, she is the Co-founder of SD ONUPRON GROUP, where she has spent over 6 years curating impactful content on education, technology, and social awareness. Her dual expertise in engineering and digital media makes her a trusted authority in the evolving landscape of Indian technical education and social entrepreneurship.

Read more

Local News