সরকারি স্কুলে ব্রেকফাস্ট ও মিড-ডে মিলের নতুন মেনু, সপ্তাহজুড়ে কী কী খাবার থাকবে?

সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

WhatsApp Group
Join Now

Government School Breakfast and Mid-Day Meal Menu: সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে একটি প্রস্তাব সামনে এসেছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় শুধু দুপুরের মিড-ডে মিল নয়, স্কুল পড়ুয়াদের জন্য সকালের ব্রেকফাস্টও দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই উদ্যোগে খাবারের তালিকায় রাখা হয়েছে ভাত, ডাল, বিভিন্ন ধরনের সবজি, সয়া বড়ি, দই, খিচুড়ির পাশাপাশি চিঁড়ের পোলাও, মুড়ি-ঘুগনি, সুজি, পিঠা, ইডলি-সাম্বারের মতো নানা পদ।

প্রস্তাবটি Akshaya Patra Foundation-এর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। নথিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এগুলি প্রস্তাবিত মেনু, যা পরবর্তী আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা যেতে পারে। অর্থাৎ, এই তালিকাকে এখনই সব স্কুলে চালু হয়ে যাওয়া চূড়ান্ত মেনু হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

Government School Breakfast and Mid-Day Meal Menu: সপ্তাহের কোন দিনে কী থাকছে মিড-ডে মিলে?

প্রস্তাবিত মিড-ডে মিলের তালিকায় সপ্তাহের ছয় দিনই আলাদা ধরনের খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। খাবারে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি মরশুমি ও সবুজ শাকসবজি ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

Google
Add West Bengal Times যুক্ত করুন গুগল-এ পছন্দের উৎস হিসেবে
Add Preference

সোমবার:
ভাত, ডাল এবং সবজি। সবজির ক্ষেত্রে মটর পনির, আলু-ছোলা বা আলু-চোলের মতো পদ রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

মঙ্গলবার:
ভাতের সঙ্গে মিশ্র সবজির তরকারি অথবা সয়া বড়ির তরকারি এবং দই।

বুধবার:
সবজি খিচুড়ির সঙ্গে ক্ষীর, দই, লাড্ডু, গমের কেক অথবা কুকিজের মধ্যে কোনও একটি দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

বৃহস্পতিবার:
ভাত এবং মিশ্র সবজির তরকারি অথবা সয়া বড়ির তরকারি।

শুক্রবার:
ভাত, সবজি দিয়ে তৈরি ডাল এবং দই।

শনিবার:
ভাতের সঙ্গে মিশ্র সবজির পদ, ডাল অথবা সয়া বড়ির তরকারি রাখার কথা বলা হয়েছে।

শুধু দুপুরের খাবার নয়, এবার ব্রেকফাস্টের প্রস্তাবও

এই পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল স্কুলে সকালের খাবার বা ব্রেকফাস্ট দেওয়ার উদ্যোগ। প্রস্তাবিত নথিতে বলা হয়েছে, দিনের প্রথম খাবার শিশুদের ক্লাসে মনোযোগ দিতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি দিনের প্রথমার্ধে তাদের জ্ঞানীয় সক্ষমতা ও কাজের দক্ষতা বৃদ্ধিতেও এর ভূমিকা থাকতে পারে।

পরিকল্পনাটি ধাপে ধাপে সরকারি স্কুলগুলির পড়ুয়াদের মধ্যে চালু করার কথা বলা হয়েছে। নথি অনুযায়ী, এই ব্রেকফাস্ট কর্মসূচির খরচ সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট সংস্থার পক্ষ থেকে বহন করার প্রস্তাব রয়েছে।

Government School Breakfast and Mid-Day Meal Menu: ব্রেকফাস্টে সপ্তাহজুড়ে কী খাবার?

প্রস্তাবিত ব্রেকফাস্ট মেনুতেও রাখা হয়েছে বাংলার পরিচিত খাবারের পাশাপাশি জনপ্রিয় ভারতীয় খাবার।

সোমবার: চিঁড়ের পোলাও ও চাটনি
মঙ্গলবার: মুড়ি ও ঘুগনি
বুধবার: ঝাল সুজি ও চাটনি
বৃহস্পতিবার: চিঁড়ের পোলাও অথবা খিচুড়ি ও পিঠা
শুক্রবার: মুড়ি ও লাবড়া
শনিবার: ইডলি, সাম্বার অথবা মশলা চাটনি

অর্থাৎ, প্রতিদিন একই ধরনের খাবারের পরিবর্তে মেনুতে বৈচিত্র্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। বিশেষ করে মুড়ি-ঘুগনি, চিঁড়ের পোলাও, লাবড়া, পিঠার মতো পরিচিত খাবার রাখায় স্থানীয় খাদ্যাভ্যাসের কথাও মাথায় রাখা হয়েছে বলে বোঝা যায়।

মরশুমি সবজি রাখার উপরেও জোর

নথিতে জানানো হয়েছে, খাবারের তালিকায় পুষ্টিকর, মরশুমি এবং সবুজ শাকসবজি অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে। তবে কোন সবজি ব্যবহার করা হবে, তা মূলত সেই সময়ের বাজারে তার প্রাপ্যতার উপর নির্ভর করবে।

এর ফলে একদিকে যেমন শিশুদের খাবারে বৈচিত্র্য আনার সুযোগ থাকবে, অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য সবজি ব্যবহারের মাধ্যমে মেনু পরিচালনাও তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে।

Government School Breakfast and Mid-Day Meal Menu: ডিম নিয়ে কী বলা হয়েছে?

প্রস্তাবিত নথিতে ডিম এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট খাদ্য উপকরণের বিষয়টিও আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে Revised Guidelines 2017 অনুযায়ী ডিমসহ অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, নথিতে এই বিষয়টি অনুরোধ বা প্রস্তাব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই এটিকে ডিম সরবরাহের চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

আরও জানুন: PM POSHAN-এ বড় সিদ্ধান্ত, ৬ এলাকায় Akshaya Patra-কে মিড-ডে মিল সরবরাহের অনুমোদন

খাবারের মান নিরাপত্তার জন্য কী ব্যবস্থা?

শুধু খাবার সরবরাহ করলেই হবে না, রান্না থেকে শুরু করে স্কুলে খাবার পৌঁছনো পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থাকে নিয়মের মধ্যে রাখার কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাবে যে বিষয়গুলির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে:

  • কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে রান্না ও খাবার বিতরণ পর্যন্ত নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ।
  • খাদ্যের নিরাপত্তা ও গুণমান নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়োগ।
  • প্রকল্পের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, রিপোর্টিং এবং রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা।
  • সময়মতো রিপোর্ট ও ব্যবহার সংক্রান্ত হিসাব জমা দেওয়া।
  • স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সততার উপর গুরুত্ব দেওয়া।
  • স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে শিশুদের সন্তুষ্টির বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রেকফাস্ট উদ্যোগ?

অনেক পড়ুয়ার ক্ষেত্রে স্কুলের সকালটা শুরু হয় খালি পেটে বা খুব সামান্য খাবার খেয়ে। ফলে ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। সেই জায়গা থেকেই স্কুলে ব্রেকফাস্ট দেওয়ার পরিকল্পনাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

মিড-ডে মিলের পাশাপাশি দিনের শুরুতেই পুষ্টিকর খাবার পেলে পড়ুয়াদের খাদ্যাভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে প্রস্তাবিত মেনুতে শস্য, ডাল, সবজি, দই এবং বিভিন্ন স্থানীয় খাবারের সমন্বয় রাখার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

এখনই কি চালু হচ্ছে এই মেনু?

না, এমনটা বলা যাবে না। ছবিতে থাকা নথি অনুযায়ী এগুলি Proposed Menu, অর্থাৎ প্রস্তাবিত খাবারের তালিকা। নথিতেই উল্লেখ করা হয়েছে যে পরবর্তী আলোচনার ভিত্তিতে মেনু চূড়ান্ত করা হতে পারে।

তাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এটি একটি প্রস্তাবিত পরিকল্পনা হিসেবে দেখা এবং সরকারি অনুমোদন বা চূড়ান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষা করা।

স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য শুধু দুপুরের খাবার নয়, দিনের শুরুতেই ব্রেকফাস্ট দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা স্কুল পুষ্টি কর্মসূচিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে। প্রস্তাবিত তালিকায় যেমন ভাত-ডাল-সবজির মতো নিয়মিত খাবার রয়েছে, তেমনই রয়েছে মুড়ি-ঘুগনি, চিঁড়ের পোলাও, পিঠা, ইডলি-সাম্বারের মতো বৈচিত্র্যময় পদ।

তবে আপাতত এটিকে প্রস্তাবিত মেনু হিসেবেই দেখা উচিত। মেনুতে ভবিষ্যতে পরিবর্তন হতে পারে এবং বাস্তবে কোথায়, কবে ও কীভাবে এই ব্যবস্থা চালু হবে, তা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।

Swastika Paul
Swastika Paulhttps://swastikapaul.in/
Swastika Paul is a distinguished innovator, educator, and the Principal of Tehatta Government ITI. Holding an M.Tech in Communication Engineering, she is dedicated to bridging the digital divide in rural India through technical skill development and inclusive leadership. A recognized voice in grassroots innovation, Swastika was honored with the "Principal of the Year" award at the Asia Education Conclave 2025. Beyond academia, she is the Co-founder of SD ONUPRON GROUP, where she has spent over 6 years curating impactful content on education, technology, and social awareness. Her dual expertise in engineering and digital media makes her a trusted authority in the evolving landscape of Indian technical education and social entrepreneurship.

Read more

Local News