সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
Delhi Removes Jantar Mantar from Protest Sites: দিল্লিতে প্রতিবাদ, ধরনা ও বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনল দিল্লি পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনকারীদের অন্যতম পরিচিত ঠিকানা যন্তর মন্তরকে সরকারি ভাবে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পরিবর্তে রাজধানীর তিনটি জায়গাকে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, নতুন জায়গাগুলি হল রামলীলা ময়দান, বুড়ারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দান।
দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমারের জারি করা নির্দেশে এই পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের গঠিত একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে।
Delhi Removes Jantar Mantar from Protest Sites: যন্তর মন্তরে আর হবে না বিক্ষোভ?
দিল্লির যন্তর মন্তর দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও নাগরিক দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত কেন্দ্র ছিল। বিভিন্ন সংগঠন, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষ তাঁদের দাবি জানাতে এই জায়গায় ধরনা ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।
কিন্তু নতুন নির্দেশিকার ফলে যন্তর মন্তর আর সরকারি ভাবে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল থাকছে না। ফলে ভবিষ্যতে সেখানে আগের মতো বিক্ষোভ বা ধরনা আয়োজনের সুযোগ থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত বিকল্প জায়গাগুলিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও প্রযোজ্য নিয়ম মেনে চলতে হবে।
বিক্ষোভের জন্য নতুন তিনটি জায়গা কোথায়?
দিল্লি পুলিশের নির্দেশিকায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য যে তিনটি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেগুলি হল:
১. রামলীলা ময়দান: দিল্লির অন্যতম পরিচিত জনসভা ও রাজনৈতিক কর্মসূচির জায়গা। বিভিন্ন বড় সমাবেশের জন্য এই ময়দান আগে থেকেই পরিচিত।
২. বুড়ারি ময়দান: উত্তর দিল্লির এই এলাকাকে নতুন নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলগুলির মধ্যে রাখা হয়েছে।
৩. সিবিডি ময়দান, পূর্ব দিল্লি: পূর্ব দিল্লির এই জায়গাটিও প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই তিনটি জায়গায় বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য বিস্তারিত নিয়ম ও স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) পরে প্রকাশ করা হবে বলে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে।
Delhi Removes Jantar Mantar from Protest Sites: কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল?
যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের পিছনে নির্দিষ্ট কারণ হিসেবে কোনও একটি বিষয়কে চূড়ান্তভাবে উল্লেখ করা ঠিক হবে না। যান চলাচল, নিরাপত্তা এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয় দিল্লিতে বিক্ষোভস্থল নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু এই নির্দেশিকায় সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
দিল্লি পুলিশের নতুন নির্দেশটি আগের ২৮ এপ্রিল ২০২২ তারিখের Standing Order No. L&O/48/22-এর আংশিক সংশোধন। নতুন নির্দেশের নম্বর L&O/48/2026।
প্রতিবাদের অধিকার কি বন্ধ হয়ে গেল?
যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলেই প্রতিবাদ করার অধিকার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়। ভারতের সংবিধানের ১৯(১)(ক) অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ১৯(১)(খ) অনুচ্ছেদে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হওয়ার অধিকার স্বীকৃত। তবে এই অধিকারগুলির উপর সংবিধানের ১৯(২) ও ১৯(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্দিষ্ট যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে।
অর্থাৎ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সাংবিধানিক অধিকার হলেও নির্দিষ্ট জায়গায় বিক্ষোভ আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক অনুমতি, জনশৃঙ্খলা ও প্রযোজ্য আইন মেনে চলার প্রয়োজন হতে পারে। নতুন নির্দেশের বাস্তব প্রয়োগ এবং বিকল্প স্থানগুলির জন্য প্রকাশিতব্য নিয়মগুলি এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
Delhi Removes Jantar Mantar from Protest Sites: কী বদলাবে সাধারণ মানুষের জন্য?
এই সিদ্ধান্তের ফলে দিল্লিতে বিক্ষোভ আয়োজন করতে চাওয়া রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, ছাত্র সংগঠন এবং অন্যান্য নাগরিক গোষ্ঠীকে নতুন নির্ধারিত স্থানগুলির নিয়ম সম্পর্কে জানতে হবে। যন্তর মন্তরকে কেন্দ্র করে যাঁরা কর্মসূচি পরিকল্পনা করতেন, তাঁদের বিকল্প জায়গা বেছে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় অনুমতির প্রক্রিয়া সম্পর্কে খোঁজ নিতে হবে।
বিশেষ করে, নতুন জায়গাগুলির জন্য বিস্তারিত SOP প্রকাশিত হলে সেখানে জমায়েতের অনুমতি, কর্মসূচি পরিচালনা এবং অন্যান্য শর্ত সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
দিল্লির প্রতিবাদের মানচিত্রে এই পরিবর্তন তাই শুধু একটি জায়গার নাম বাদ পড়ার ঘটনা নয়। এটি রাজধানীতে ভবিষ্যতের বিক্ষোভ ও জনসমাবেশ কীভাবে আয়োজন করা হবে, তার উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
