সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
Bardhaman Private Medical College Admission Stopped: পূর্ব বর্ধমানের তালিতে অবস্থিত একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজকে ঘিরে বড়সড় পদক্ষেপ করল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। কলেজটির নিজস্ব হাসপাতাল না থাকা, পর্যাপ্ত শয্যার অভাব এবং হাসপাতাল পরিষেবা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠার পর নতুন করে পড়ুয়া ভর্তি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে এই নির্দেশের অর্থ বর্তমানে পড়াশোনা করা পড়ুয়াদের শিক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। ইতিমধ্যে যারা কলেজটিতে ভর্তি হয়েছেন, তাঁদের পঠনপাঠন চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা থাকবে বলে জানা যাচ্ছে। ফলে নতুন ভর্তি নিয়ে স্বাস্থ্য দফতরের সিদ্ধান্ত হলেও বর্তমান পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ যাতে অনিশ্চিত না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
Bardhaman Private Medical College Admission Stopped: কেন এই সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্য দফতরের?
পূর্ব বর্ধমানের তালিতে অবস্থিত East West Institute of Medical Sciences and Research-কে ঘিরেই এই সিদ্ধান্ত। প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা বর্ধমান-সিউড়ি রোডের তালিত এলাকায়। সরকারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, কলেজটিতে MBBS পঠনপাঠন শুরু হয় ২০২৪ সালে।
স্বাস্থ্য দফতরের মূল আপত্তি কলেজের হাসপাতাল পরিকাঠামো নিয়ে। একটি মেডিক্যাল কলেজে শুধুমাত্র শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনা করলেই হয় না, রোগী দেখা, চিকিৎসা পদ্ধতি শেখা এবং হাতে-কলমে ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হাসপাতাল পরিকাঠামো থাকা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য দফতরের বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কলেজের নিজস্ব হাসপাতাল নেই। কলেজ কর্তৃপক্ষ একটি বেসরকারি হাসপাতাল ভাড়া নিয়ে পরিষেবা চালানোর কথা জানিয়েছিল। কিন্তু সেই হাসপাতালও প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয় বলে স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছে।
প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের হাসপাতালের উপর নির্ভরতা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলেজের পড়ুয়াদের রোগী দেখা ও চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের উপর নির্ভর করতে হচ্ছিল। এই পরিস্থিতি নিয়েই মূলত প্রশ্ন উঠেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, হাসপাতাল ছাড়া পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল শিক্ষা সম্ভব নয়। কলেজের নিজস্ব হাসপাতাল না থাকা এবং ব্যবহৃত হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়ায় নতুন ভর্তি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
Bardhaman Private Medical College Admission Stopped: একাধিক অনিয়মের অভিযোগও সামনে
এই মেডিক্যাল কলেজকে ঘিরে শুধু হাসপাতাল পরিকাঠামো নয়, আরও একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা মালিকের মৃত্যুর পর তাঁর স্বাক্ষর নকল করে বিভিন্ন কাজ চালানোর অভিযোগও উঠেছিল। পাশাপাশি হাসপাতাল সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
তবে এই ধরনের অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই ও তার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের উপর নির্ভরশীল।
পড়ুয়াদের কী হবে?
স্বাস্থ্য দফতরের এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, বর্তমানে যারা কলেজে পড়াশোনা করছেন তাঁদের পঠনপাঠন বন্ধ করার কথা বলা হয়নি। অর্থাৎ নতুন করে ভর্তি নেওয়া বন্ধ থাকবে, কিন্তু আগে ভর্তি হওয়া পড়ুয়ারা তাঁদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবেন বলে জানা যাচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলেজের পড়ুয়ারাও জানিয়েছেন যে তাঁরা আগের মতোই পড়াশোনা চালিয়ে যাবেন। ফলে নতুন ভর্তিচ্ছুদের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও বর্তমান পড়ুয়াদের শিক্ষা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
কলেজ বন্ধ নাকি শুধু ভর্তি বন্ধ?
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। বিভিন্ন জায়গায় খবরটি “মেডিক্যাল কলেজ বন্ধের নির্দেশ” হিসেবে ছড়ালেও প্রকাশিত প্রতিবেদনে মূল সিদ্ধান্ত হিসেবে নতুন ছাত্রছাত্রী ভর্তি বন্ধের নির্দেশের কথা বলা হয়েছে। কলেজে ইতিমধ্যে ভর্তি হওয়া পড়ুয়াদের পঠনপাঠন চালু রাখার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
অর্থাৎ আপাতত বিষয়টি নতুন ভর্তি বন্ধ করা নিয়ে। কলেজের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম এবং পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে স্বাস্থ্য দফতরের পরবর্তী সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
এখন নজর পরবর্তী পদক্ষেপে
মেডিক্যাল শিক্ষার ক্ষেত্রে হাসপাতাল, শয্যা, রোগীর সংখ্যা এবং ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তালিতের এই বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের পরিকাঠামো নিয়ে স্বাস্থ্য দফতরের আপত্তি ঘিরে এখন পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো সংক্রান্ত ঘাটতি পূরণ করা যায় কি না, তার উপরই ভবিষ্যতে নতুন করে ভর্তি শুরুর বিষয়টি নির্ভর করতে পারে।
Bardhaman Private Medical College Admission Stopped: আসলে কী ঘটেছে ইস্ট ওয়েস্ট মেডিক্যাল কলেজে? সূত্রের দাবি, ‘কলেজ বন্ধ’ নয়, বদলেছে টিচিং হাসপাতাল
ইস্ট ওয়েস্ট মেডিক্যাল কলেজকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের খবর ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও বলা হচ্ছে, স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশে মেডিক্যাল কলেজটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে সূত্র মারফত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোটা বিষয়টি আসলে কিছুটা ভিন্ন এবং ঘটনাটিকে শুধুমাত্র ‘মেডিক্যাল কলেজ বন্ধ’ হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হয় না।
সূত্রের দাবি, ইস্ট ওয়েস্ট মেডিক্যাল কলেজের টিচিং হাসপাতাল হিসেবে পূর্ব বর্ধমানের CAMRI Hospital-এর সঙ্গে চুক্তি (MoU) ছিল। সেই চুক্তির ভিত্তিতেই মেডিক্যাল কলেজটি প্রথম পর্যায়ে ৫০টি MBBS আসনের অনুমোদন পেয়েছিল বলে জানা যায়।
পরবর্তীতে প্রায় দু’বছর পর কোনও অভ্যন্তরীণ কারণ বা ব্যবস্থাপনাগত বিষয়কে কেন্দ্র করে ইস্ট ওয়েস্ট মেডিক্যাল কলেজ এবং CAMRI Hospital-এর মধ্যে সেই চুক্তির সম্পর্কের অবসান ঘটে বলে সূত্রের দাবি। এরপর CAMRI Hospital-এর পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য দফতরকে চিঠি দিয়ে জানানো হয় যে, তারা আর ইস্ট ওয়েস্ট মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গে টিচিং হাসপাতাল হিসেবে যুক্ত থাকছে না।
এখানেই তৈরি হয়েছে মূল বিভ্রান্তি। একটি মেডিক্যাল কলেজের টিচিং হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়া এবং মেডিক্যাল কলেজ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া দুটি এক বিষয় নয়। টিচিং হাসপাতাল পরিবর্তনের সুযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল কলেজকে নতুন কোনও উপযুক্ত হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করে সেই পরিবর্তনের বিষয়টি স্বাস্থ্য দফতরকে জানাতে হয়।
নতুন হাসপাতালের সঙ্গে MoU করার দাবি
সূত্রের আরও দাবি, এই পরিস্থিতিতে ইস্ট ওয়েস্ট মেডিক্যাল কলেজ ইতিমধ্যেই নতুন টিচিং হাসপাতালের ব্যবস্থা করেছে। ২২ সেপ্টেম্বর নতুন করে AHAD Multispeciality Hospital-এর সঙ্গে MoU করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এরপর নতুন হাসপাতালকে টিচিং হাসপাতাল হিসেবে যুক্ত করার বিষয়টি স্বাস্থ্য দফতরকে জানানো হয়েছে বলেও সূত্রের দাবি।
অর্থাৎ, যদি এই তথ্য সঠিক হয়, তাহলে CAMRI Hospital-এর সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়াকে সরাসরি ‘ইস্ট ওয়েস্ট মেডিক্যাল কলেজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। বরং বিষয়টি টিচিং হাসপাতাল পরিবর্তন এবং সেই সংক্রান্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।
Bardhaman Private Medical College Admission Stopped: তাহলে কলেজের পড়ুয়াদের কী হবে?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বর্তমানে যারা ইস্ট ওয়েস্ট মেডিক্যাল কলেজে পড়াশোনা করছেন, তাঁদের পঠনপাঠন বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আলাদা করে দেখতে হবে। টিচিং হাসপাতাল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নতুন হাসপাতালের পরিকাঠামো, রোগীর সংখ্যা, শয্যা, ক্লিনিক্যাল ট্রেনিংয়ের সুযোগ এবং অন্যান্য নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ হচ্ছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
তাই CAMRI Hospital-এর সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়া মানেই কলেজের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। নতুন টিচিং হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর কলেজের পরবর্তী কার্যক্রম কীভাবে চলবে, সেটিই এখন মূল বিষয়।
তবে নতুন AHAD Multispeciality Hospital-এর সঙ্গে ২২ সেপ্টেম্বরের MoU এবং তার ভিত্তিতে টিচিং হাসপাতাল পরিবর্তনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি বা স্বাস্থ্য দফতরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিয়ে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ফলে এই মুহূর্তে ‘কলেজ বন্ধ’ বা ‘কোনও সমস্যা নেই’ এই দুই ধরনের চূড়ান্ত দাবি না করে পুরো বিষয়টি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত।
