কালীপুজো ও ছটপুজোয় বাজি ফাটানোর সময় বেঁধে দিল রাজ্য, কখন থেকে কখন বাজি পোড়ানো যাবে?

Share

সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

WhatsApp Group
Join Now

WB Sets Firecracker Timings: কালীপুজো ও ছটপুজোকে সামনে রেখে বাজি ফাটানোর সময়সীমা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা সামনে এল। উৎসবের মরশুমে বাজি পোড়ানোকে কেন্দ্র করে শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাজি ফাটানোর নিয়ম জানিয়েছে রাজ্য। স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কালীপুজোর দিন রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত এবং ছটপুজোর দিন সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত বাজি ফাটানো যাবে। ফলে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে নির্ধারিত সময়সীমা এবং প্রযোজ্য নিরাপত্তাবিধি মেনে চলতে হবে।

কালীপুজো এবং ছটপুজো পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। এই দুই উৎসবকে ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় আলোকসজ্জা, পুজোর আয়োজন, পারিবারিক মিলন এবং নানা সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনেকের কাছেই বাজি ফাটানো উৎসবের একটি পরিচিত অংশ। তবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাজি পোড়ালে পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে এবং শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি, অসুস্থ মানুষ ও পোষ্যদের সমস্যা বাড়তে পারে। সেই কারণেই বাজি ফাটানোর সময়সীমা মেনে চলার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

WB Sets Firecracker Timings: কালীপুজোয় কখন বাজি ফাটানো যাবে?

রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কালীপুজোর দিন বাজি ফাটানোর নির্ধারিত সময় রাত ৮টা থেকে ১০টা। অর্থাৎ, এই দুই ঘণ্টার সময়সীমার মধ্যেই বাজি পোড়ানোর অনুমতি থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

Google
Add West Bengal Times যুক্ত করুন গুগল-এ পছন্দের উৎস হিসেবে
Add Preference

কালীপুজোর রাতে বহু এলাকায় পুজো মণ্ডপ, বাড়ি এবং বিভিন্ন আবাসনে উৎসবের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যার পর থেকেই উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। তবে বাজি ফাটানোর ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময় মেনে চলা জরুরি। রাত বেশি হয়ে যাওয়ার পর বাজির শব্দে আশপাশের বাসিন্দাদের অসুবিধা হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি এবং অসুস্থ মানুষের ঘুম ও বিশ্রাম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তাই কালীপুজোর আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে সময়সীমার বিষয়টি উপেক্ষা করা উচিত নয়। বাজি কেনা, ব্যবহার এবং পোড়ানোর পরিকল্পনা করার সময় সরকারি নির্দেশিকা সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন।

ছটপুজোয় বাজি ফাটানোর সময় কতটা?

ছটপুজোর ক্ষেত্রে বাজি ফাটানোর সময়সীমা কালীপুজোর তুলনায় আলাদা। স্বরাষ্ট্রসচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছটপুজোর দিন সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত বাজি ফাটানো যাবে।

ছটপুজো মূলত সূর্যদেবের উপাসনাকে কেন্দ্র করে পালিত হয়। ভোরের আলো ফুটতেই বহু মানুষ নদী, পুকুর বা নির্দিষ্ট জলাশয়ের ঘাটে সমবেত হন। অর্ঘ্য নিবেদন এবং অন্যান্য ধর্মীয় আচার পালনের মাধ্যমে উৎসব সম্পন্ন হয়। এই সময় ঘাট ও সংলগ্ন এলাকায় প্রচুর মানুষের সমাগম হতে পারে। ফলে বাজি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সময় মেনে চলার পাশাপাশি নিরাপত্তার দিকেও নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি।

সকাল ৬টা থেকে ৮টার নির্ধারিত সময়সীমার বাইরে বাজি ফাটানোর আগে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সর্বশেষ নির্দেশিকা জেনে নেওয়া উচিত। বিশেষ করে জনবহুল ঘাট, রাস্তা এবং জলাশয়ের আশপাশে বাজি পোড়ানোর সময় দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্ক থাকা দরকার।

WB Sets Firecracker Timings: এক নজরে বাজি ফাটানোর সময়সীমা

কালীপুজো ও ছটপুজোর বাজি সংক্রান্ত সময়সীমা সহজে বুঝে নেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলি একসঙ্গে দেখে নিন।

  • কালীপুজো: রাত ৮টা থেকে ১০টা।
  • ছটপুজো: সকাল ৬টা থেকে ৮টা।
  • নির্দেশিকার মূল উদ্দেশ্য: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাজি পোড়ানো এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
  • সাধারণ মানুষের করণীয়: সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলা এবং নিরাপদে উৎসব পালন করা।

এই সময়সীমা সম্পর্কে পরিবার, প্রতিবেশী এবং পাড়ার পুজো কমিটিগুলিকেও সচেতন করা যেতে পারে। তবে কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত বিধিনিষেধ বা আলাদা নির্দেশিকা জারি হলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিকেই গুরুত্ব দিতে হবে।

সব ধরনের বাজি কি ফাটানো যাবে?

বাজি ফাটানোর সময়সীমা নির্ধারণের অর্থ এই নয় যে সব ধরনের বাজি ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। বাজির ধরন, শব্দের মাত্রা, পরিবেশগত বিধিনিষেধ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকা আলাদাভাবে প্রযোজ্য হতে পারে।

সবুজ বাজি বা Green Crackers তুলনামূলকভাবে কম নির্গমনকারী বাজি হিসেবে পরিচিত। তবে সবুজ বাজিও সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত নয়। তাই বাজি ব্যবহারের আগে সেটি অনুমোদিত কি না, প্যাকেটে প্রয়োজনীয় পরিচয় ও তথ্য রয়েছে কি না এবং প্রযোজ্য নিয়ম মেনে বিক্রি হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা উচিত।

শব্দের মাত্রা সংক্রান্ত বিধিনিষেধও গুরুত্বপূর্ণ। অনুমোদিত সীমার বাইরে শব্দ সৃষ্টি করে এমন বাজি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা দরকার। বাজির প্যাকেটে থাকা নির্দেশিকা পড়ে নেওয়া এবং শিশুদের হাতে বাজি না দেওয়া নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

বাজি কেনার সময় অবৈধ বা অজানা উৎসের পণ্য এড়িয়ে চলুন। শুধু উৎসবের আনন্দের কথা ভেবে বিপজ্জনক বাজি ব্যবহার করলে গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাজি ফাটানোর অনুমতি থাকলেও অন্যান্য আইন ও নিরাপত্তাবিধি মানা বাধ্যতামূলক।

WB Sets Firecracker Timings: হাসপাতাল ও নীরব এলাকার আশপাশে সতর্কতা জরুরি

হাসপাতাল, নার্সিংহোম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা অন্যান্য নির্ধারিত নীরব এলাকার কাছাকাছি শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের বিশেষ বিধিনিষেধ থাকতে পারে। বিশেষ করে হাসপাতাল ও বৃদ্ধাশ্রমের আশপাশে উচ্চ শব্দে বাজি ফাটালে রোগী এবং প্রবীণ বাসিন্দাদের সমস্যা হতে পারে।

নীরব এলাকা সংক্রান্ত বিধিনিষেধের ক্ষেত্রে নির্ধারিত দূরত্ব ও অন্যান্য শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। তাই বাজি পোড়ানোর আগে স্থানীয় প্রশাসন এবং পরিবেশ সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকা যাচাই করা উচিত। কোনও এলাকায় বাজি ফাটানোর সময়সীমা থাকলেও সেখানে বাজি পোড়ানো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ হয়ে যায় না।

শহর ও গ্রাম, উভয় ক্ষেত্রেই আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের কথা মাথায় রেখে বাজি ব্যবহার করা উচিত। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বাজি ফাটানোর ফলে আগুন লাগা, ধোঁয়া ছড়ানো বা অন্যের সম্পত্তির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণ কমানো কেন জরুরি?

উৎসবের সময় বাজি পোড়ানোর ফলে বাতাসে ধোঁয়া ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র কণা ছড়িয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে বাজির শব্দ আশপাশের পরিবেশে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। যাঁদের শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ধোঁয়া ও তীব্র শব্দ বিশেষভাবে সমস্যাজনক হতে পারে।

শিশু এবং প্রবীণদের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত শব্দের প্রভাব উপেক্ষা করা উচিত নয়। পোষ্য প্রাণীরাও বাজির আকস্মিক শব্দে ভয় পেতে পারে। ফলে উৎসব পালনের সময় অন্যের অসুবিধার কথা বিবেচনা করা সামাজিক দায়িত্বের অংশ।

বাজি পোড়ানোর পরিবর্তে বাড়ি ও পুজো মণ্ডপে আলো, প্রদীপ এবং পরিবেশবান্ধব সাজসজ্জার ব্যবহার বাড়ানো যেতে পারে। এতে উৎসবের আনন্দ বজায় রেখেও দূষণ কমানোর চেষ্টা করা সম্ভব। যাঁরা বাজি পোড়াবেন, তাঁদের নির্ধারিত সময় ও প্রযোজ্য বিধিনিষেধ মেনে চলা উচিত।

বাজি ফাটানোর সময় কী কী সতর্কতা নেবেন?

উৎসবের সময় দুর্ঘটনা এড়াতে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।

প্রথমত, বাজি সব সময় খোলা ও নিরাপদ জায়গায় পোড়ান। ঘরের ভিতরে, বন্ধ বারান্দায় বা দাহ্য পদার্থের কাছাকাছি বাজি ব্যবহার করবেন না। দ্বিতীয়ত, বাজি পোড়ানোর সময় শিশুদের অবশ্যই বড়দের তত্ত্বাবধানে রাখতে হবে। তৃতীয়ত, জ্বলন্ত বাজির কাছে মুখ নিয়ে যাওয়া বা হাতে ধরে বাজি পোড়ানো বিপজ্জনক।

বাজি জ্বালানোর জন্য নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন এবং প্রয়োজনে লম্বা আগুন ধরানোর কাঠি ব্যবহার করুন। কাছে জল বা বালির ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে, যাতে ছোটখাটো দুর্ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কোনও বাজি না ফাটলে সেটির কাছে সঙ্গে সঙ্গে যাওয়া বা পুনরায় আগুন দেওয়া উচিত নয়।

উৎসবের সময় আগুন লাগা বা কেউ আহত হলে দ্রুত স্থানীয় জরুরি পরিষেবার সাহায্য নিতে হবে। পোড়ার আঘাত গুরুতর হলে চিকিৎসা নিতে দেরি করা উচিত নয়।

আরও পড়ুন: বিজয়া দশমী ২০২৬ | কলকাতায় কড়া নিরাপত্তা, বাজে কদমতলা ঘাটে ৪টি ক্রেন, মোতায়েন NDRF

নিয়ম ভাঙলে কি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে?

নির্ধারিত সময়ের বাইরে বাজি ফাটানো বা অন্য কোনও প্রযোজ্য বিধিনিষেধ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে, তা সংশ্লিষ্ট আইন, বিজ্ঞপ্তি এবং পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে।

তাই শুধু সময়সীমা জানলেই চলবে না, বাজির ধরন, শব্দের মাত্রা এবং নির্দিষ্ট এলাকার বিধিনিষেধ সম্পর্কেও সচেতন থাকা দরকার। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং পরিবেশ সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকা অনুসরণ করলে অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা এড়ানো সহজ হবে।

উৎসবের আনন্দ বজায় থাকুক, নিরাপত্তাও নিশ্চিত হোক

কালীপুজো ও ছটপুজো দুটিই মানুষের আবেগ, বিশ্বাস ও সামাজিক মিলনের সঙ্গে জড়িত। এই উৎসবগুলিকে আনন্দময় করে তুলতে বাজি ফাটানোর সময়সীমা মেনে চলার পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কালীপুজোয় রাত ৮টা থেকে ১০টা এবং ছটপুজোয় সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত বাজি ফাটানোর সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎসবের প্রস্তুতির সময় এই সময়সীমা মনে রাখুন এবং সর্বশেষ সরকারি নির্দেশিকা যাচাই করে চলুন।

সচেতনভাবে উৎসব পালন করুন। নিজের আনন্দের পাশাপাশি প্রতিবেশী, শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ মানুষের নিরাপত্তার কথাও ভাবুন।

Swastika Paul
Swastika Paulhttps://swastikapaul.in/
Swastika Paul is a distinguished innovator, educator, and the Ex-Principal of Tehatta Government ITI. Holding an M.Tech in Communication Engineering, she is dedicated to bridging the digital divide in rural India through technical skill development and inclusive leadership. A recognized voice in grassroots innovation, Swastika was honored with the "Principal of the Year" award at the Asia Education Conclave 2025.Beyond academia, she is the Co-founder of SD ONUPRON GROUP, where she has spent over 6 years curating impactful content on education, technology, and social awareness. Her dual expertise in engineering and digital media makes her a trusted authority in the evolving landscape of Indian technical education and social entrepreneurship.

Read more

Local News