বিজয়া দশমী ২০২৬ | কলকাতায় কড়া নিরাপত্তা, বাজে কদমতলা ঘাটে ৪টি ক্রেন, মোতায়েন NDRF

সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

WhatsApp Group
Join Now

Durga Idol Immersion 2026: দুর্গাপুজোর আনন্দের পর আজ বিজয়া দশমী। এবার মাকে বিদায় জানানোর পালা। শহরজুড়ে একাধিক ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জনকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন। বিসর্জনের সময় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য নিরাপত্তা থেকে শুরু করে গঙ্গার দূষণ নিয়ন্ত্রণ, প্রতিটি বিষয়েই বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিসর্জনস্থল বাজে কদমতলা ঘাটে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য রাখা হয়েছে চারটি ক্রেন, পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে NDRF, সিভিল ডিফেন্স এবং রিভার পুলিশের কর্মীদের। প্রতিমা বিসর্জনের পর কাঠামো দ্রুত জল থেকে তুলে নেওয়া এবং গঙ্গাকে দূষণমুক্ত রাখাই প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য।

প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কলকাতা শহরের মোট ২২টি নিরঞ্জন ঘাটেও নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। ফলে এবারের বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করাই কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি পুরসভা ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

Google
Add West Bengal Times যুক্ত করুন গুগল-এ পছন্দের উৎস হিসেবে
Add Preference

Durga Idol Immersion: বাজে কদমতলা ঘাটে বিশেষ ব্যবস্থা, থাকছে ৪টি ক্রেন

বিজয়া দশমীতে বাজে কদমতলা ঘাটে বহু প্রতিমা বিসর্জন হওয়ার কথা। সেই কথা মাথায় রেখেই ঘাটে প্রতিমা নামানো, জলে নিরঞ্জন এবং কাঠামো তুলে নেওয়ার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘাটে মোট চারটি ক্রেন রাখা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ক্রেন থাকবে বার্জে, একটি থাকবে ঘাটের পাড়ে এবং বাকি দুটি ক্রেনও নিরঞ্জনের কাজে ব্যবহার করা হবে। প্রতিমার কাঠামো জলে পড়ার পর দ্রুত তুলে নেওয়ার জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিমা ও প্রতিমাবাহকদের ঘাট পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার জন্য বিশেষ ট্রলির ব্যবস্থা রয়েছে। এর ফলে প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার সময় ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং ঘাটের কাজকর্ম পরিচালনা করা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

২২টি বিসর্জন ঘাটে নিরাপত্তা জোরদার

কলকাতা শহরের চিহ্নিত ২২টি ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি ঘাটে যাতে সুষ্ঠুভাবে বিসর্জন সম্পন্ন হয়, তার জন্য পুলিশ, পুরকর্মী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার পথ সচল রাখা এবং বিসর্জনের সময় কোনও দুর্ঘটনা এড়ানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ঘাটগুলিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখাও এই প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

Durga Idol Immersion: NDRF, SDRF ও রিভার পুলিশ মোতায়েন

বিসর্জনের সময় নদীতে দুর্ঘটনা এড়াতে বিপর্যয় মোকাবিলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মীদের মোতায়েন করা হচ্ছে। বাজে কদমতলা ঘাটে NDRF-এর কর্মীরা রয়েছেন। পাশাপাশি সিভিল ডিফেন্স, SDRF এবং কলকাতা রিভার পুলিশের কর্মীদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কলকাতা শহরজুড়ে বিসর্জনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকির জন্য ১২ জন IPS আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের অধীনে বিভিন্ন ঘাটে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার কাজ পরিচালিত হবে।

ঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক ও কর্মীদের বসার জন্যও নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করা হয়েছে, যাতে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া সহজ হয়।

আরও পড়ুন: চোরবাগান দুর্গাপুজোয় পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু, নিহতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ও সরকারি চাকরির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

গঙ্গা দূষণ রুখতে ফুল-মালা সরানোর নির্দেশ

প্রতিমা বিসর্জনের সঙ্গে গঙ্গার দূষণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও এবার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রতিমার সঙ্গে থাকা ফুল, মালা এবং অন্যান্য সামগ্রী জলে ফেলে দেওয়া যাবে না। নিরঞ্জনের আগে প্রতিমা থেকে এসব সামগ্রী খুলে আলাদা করে ফেলতে হবে।

পুরকর্মীদের এই বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনের পর কাঠামোও দ্রুত জল থেকে তুলে নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে নদীতে বর্জ্য জমে না থাকে।

দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নির্দেশিকা মেনে প্রতিমা নিরঞ্জন সম্পন্ন করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি নদীর পরিবেশ রক্ষা করাও প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য।

নির্বিঘ্নে বিসর্জন সম্পন্ন করাই প্রশাসনের লক্ষ্য

বিজয়া দশমীতে কলকাতার বিভিন্ন ঘাটে প্রচুর মানুষের সমাগম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নদীতে নজরদারি এবং দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, সবকিছুর উপরই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাজে কদমতলা ঘাটে চারটি ক্রেন, ট্রলি, NDRF এবং অন্যান্য বাহিনীর প্রস্তুতি থেকে স্পষ্ট যে প্রতিমা নিরঞ্জনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে প্রশাসন একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছে।

এখন নজর থাকবে, সমস্ত নির্দেশিকা মেনে কতটা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় প্রতিমা বিসর্জন। উৎসবের শেষ দিনেও যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং গঙ্গার পরিবেশ অক্ষুণ্ণ থাকে, সেটাই প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

Swastika Paul
Swastika Paulhttps://swastikapaul.in/
Swastika Paul is a distinguished innovator, educator, and the Ex-Principal of Tehatta Government ITI. Holding an M.Tech in Communication Engineering, she is dedicated to bridging the digital divide in rural India through technical skill development and inclusive leadership. A recognized voice in grassroots innovation, Swastika was honored with the "Principal of the Year" award at the Asia Education Conclave 2025. Beyond academia, she is the Co-founder of SD ONUPRON GROUP, where she has spent over 6 years curating impactful content on education, technology, and social awareness. Her dual expertise in engineering and digital media makes her a trusted authority in the evolving landscape of Indian technical education and social entrepreneurship.

Read more

Local News