Driving Licence New Rules 2026 | ড্রাইভিং লাইসেন্সের নিয়মে বড় বদলের প্রস্তাব | আবেদন থেকে ফি, কী কী পরিবর্তন হতে পারে?

Share

সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

WhatsApp Group
Join Now

Driving Licence New Rules 2026: ভারতে ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত নিয়মে একাধিক পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। লাইসেন্সের আবেদনপত্রে বয়স ও ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে কোন নথি গ্রহণ করা হবে, সরকারি চাকরির পরিচয়পত্রের ব্যবহার, লাইসেন্স পরীক্ষার পদ্ধতি এবং ফি কাঠামো নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। এই পরিবর্তনগুলি কার্যকর হলে সাধারণ গাড়িচালক থেকে শুরু করে নতুন লাইসেন্সের আবেদনকারী, সকলেরই আবেদন প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি তথ্যচিত্রে এই প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলির কয়েকটি দিক তুলে ধরা হয়েছে। তবে এগুলিকে এখনই কার্যকর সরকারি নিয়ম বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। পরিবর্তনগুলি কবে থেকে কার্যকর হবে, কোন কোন প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে এবং সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে কী বলা হয়েছে, তা সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রকের (MoRTH) আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি থেকে যাচাই করা জরুরি।

Driving Licence New Rules: ড্রাইভিং লাইসেন্সের নতুন নিয়মে কী কী পরিবর্তনের প্রস্তাব?

কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রক (MoRTH) Central Motor Vehicles Rules, 1989 সংশোধনের জন্য একটি খসড়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ২১ অক্টোবর ২০২৬-এ প্রকাশিত গেজেট সংক্রান্ত প্রতিবেদনে লাইসেন্সের আবেদন, নথি যাচাই, অনলাইন মূল্যায়ন এবং লাইসেন্স কার্ডের ফরম্যাটে একাধিক পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে।

Google
Add West Bengal Times যুক্ত করুন গুগল-এ পছন্দের উৎস হিসেবে
Add Preference

প্রস্তাবগুলি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে আবেদনকারীদের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে।

১. বয়স ও ঠিকানার প্রমাণপত্রে পরিবর্তন

ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করার সময় বয়স, পরিচয় এবং ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে কোন নথি গ্রহণ করা হবে, তার তালিকা আরও নির্দিষ্ট করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত তালিকায় রয়েছে:

  • আধার কার্ড
  • ভোটার পরিচয়পত্র
  • পাসপোর্ট
  • ই-রেশন কার্ড
  • জন্ম শংসাপত্র
  • স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মার্কশিট বা সার্টিফিকেট, যেখানে জন্মতারিখ রয়েছে
  • সরকারি বা নির্দিষ্ট সংস্থার সার্ভিস পরিচয়পত্র
  • নির্দিষ্ট শর্তে তিন মাসের বেশি পুরোনো নয় এমন বিদ্যুতের বিল ও গ্যাসের বিল

তবে সব নথি সব ধরনের প্রমাণের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে না। বয়স, পরিচয় ও ঠিকানার জন্য আলাদা আলাদা তালিকা প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ভারতে বৈধভাবে থাকার প্রমাণও লাগতে পারে।

২. হলফনামা দিয়ে বয়স ও ঠিকানা প্রমাণের সুযোগ কমতে পারে

এখনকার ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট বা নোটারির সামনে করা হলফনামা বয়স ও ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে।

নতুন খসড়ায় এই ব্যবস্থা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে জীবনবিমার পলিসিকে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র হিসেবে গ্রহণ না করার কথাও বলা হয়েছে।

এর উদ্দেশ্য হল নথি যাচাই আরও নির্ভরযোগ্য করা এবং ভুল জন্মতারিখ বা ঠিকানা দেখিয়ে লাইসেন্স পাওয়ার ঝুঁকি কমানো।

৩. অনলাইন সেফ-ড্রাইভিং পরীক্ষায় পাশের নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব

নতুন প্রস্তাবগুলির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নিরাপদে গাড়ি চালানোর অনলাইন টিউটোরিয়াল মূল্যায়নের পাশ নম্বর বাড়ানো।

বর্তমান ব্যবস্থায়

৬০%

প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আগে

নতুন প্রস্তাবে

৭৫%

প্রস্তাব কার্যকর হলে

এছাড়া নিরাপদে গাড়ি চালানোর টিউটোরিয়াল অন্তত ৩০ মিনিটের করার প্রস্তাব রয়েছে।

অর্থাৎ, প্রস্তাব কার্যকর হলে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে আবেদনকারীদের আরও বেশি নম্বর পেতে হবে। এর মাধ্যমে ট্রাফিক আইন, সড়ক নিরাপত্তা এবং নিরাপদে গাড়ি চালানোর বিষয়ে আবেদনকারীদের জ্ঞান যাচাই আরও কঠোর করার লক্ষ্য রয়েছে।

৪. আধার দিয়ে অনলাইনে পরিষেবা নিলে ফি মকুব হতে পারে

ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত কয়েকটি অনলাইন পরিষেবায় আধার-ভিত্তিক প্রমাণীকরণ ব্যবহার করলে ফি মকুব করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে লাইসেন্সের ব্যক্তিগত তথ্য পরিবর্তন, নাম সংশোধন এবং ঠিকানা বা যোগাযোগের তথ্য আপডেট করার মতো পরিষেবা রয়েছে। তবে কোন পরিষেবায় কী শর্তে ফি মকুব হবে, তা চূড়ান্ত নিয়মের ওপর নির্ভর করবে।

এই প্রস্তাব কার্যকর হলে লাইসেন্সের তথ্য সংশোধনের খরচ কমতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের নাম, ঠিকানা বা মোবাইল নম্বরে পরিবর্তন হয়েছে, তাঁদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: SBI Data Leak 2026 | ডার্ক ওয়েবে ৩.৭৫ লক্ষ রেকর্ড, তদন্ত শুরু, ৩,৮৯৭ গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য ঘিরে উদ্বেগ

৫. লাইসেন্সের তথ্য সংশোধনে ১৫ দিনের সময়সীমা (Driving Licence New Rules)

লাইসেন্সে নাম, ঠিকানা বা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তির জন্য কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিনের মধ্যে অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত জানাতে হবে, এমন প্রস্তাবও রয়েছে।

আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হলে তার কারণ জানানোর ব্যবস্থাও প্রস্তাবিত হয়েছে। ঠিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে খসড়ায় অতিরিক্ত সময়সীমা-সংক্রান্ত বিধানও রয়েছে।

এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে আবেদনকারীরা তাঁদের আবেদনের সিদ্ধান্ত পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করার সমস্যার কিছুটা সমাধান পেতে পারেন।

৬. ড্রাইভিং লাইসেন্সের কার্ডেও আসতে পারে পরিবর্তন

প্রস্তাবিত সংশোধনে ভারতীয় নাগরিক এবং বিদেশি নাগরিকদের জন্য আলাদা রঙের বা ফরম্যাটের ড্রাইভিং লাইসেন্স চালুর কথা রয়েছে।

এছাড়া লাইসেন্সে আরও কিছু তথ্য যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যেমন:

  • লাইসেন্সধারীর জাতীয়তা
  • রক্তের গ্রুপ
  • মোবাইল নম্বর
  • জরুরি যোগাযোগের নম্বর

লাইসেন্সের তথ্য পড়ার প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাতেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। এর লক্ষ্য পরিচয় যাচাই এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া সহজ করা।

তবে কার্ডের রং, চূড়ান্ত ফরম্যাট এবং কোন তথ্য কীভাবে ছাপা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তিই হবে নির্ভরযোগ্য নির্দেশিকা।

কবে থেকে কার্যকর হবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের নতুন নিয়ম?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই পরিবর্তনগুলি এখনও প্রস্তাবিত সংশোধন, চূড়ান্তভাবে কার্যকর নিয়ম নয়। খসড়া বিজ্ঞপ্তিতে জনসাধারণের আপত্তি ও পরামর্শ জানানোর জন্য ৩০ দিনের সময় রাখা হয়েছে। প্রস্তাবগুলি পর্যালোচনা করে সরকার চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে তবেই সংশ্লিষ্ট পরিবর্তনগুলি কার্যকর হবে।

তাই নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা বা লাইসেন্সের তথ্য সংশোধনের আগে বর্তমান নিয়ম মেনে চলুন। শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট দেখে কোনও নথি বাদ দেবেন না কিংবা ফি মকুব হয়েছে ধরে নেবেন না।

সরকারি তথ্য যাচাই করতে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রকের ওয়েবসাইট morth.gov.in অথবা সরকারি পরিবহণ পরিষেবা পোর্টাল Parivahan দেখতে পারেন।

Swastika Paul
Swastika Paulhttps://swastikapaul.in/
Swastika Paul is a distinguished innovator, educator, and the Ex-Principal of Tehatta Government ITI. Holding an M.Tech in Communication Engineering, she is dedicated to bridging the digital divide in rural India through technical skill development and inclusive leadership. A recognized voice in grassroots innovation, Swastika was honored with the "Principal of the Year" award at the Asia Education Conclave 2025.Beyond academia, she is the Co-founder of SD ONUPRON GROUP, where she has spent over 6 years curating impactful content on education, technology, and social awareness. Her dual expertise in engineering and digital media makes her a trusted authority in the evolving landscape of Indian technical education and social entrepreneurship.

Read more

Local News