সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
WB Fake Doctor Case CID Investigation: পশ্চিমবঙ্গে ভুয়ো চিকিৎসক সংক্রান্ত অভিযোগ ঘিরে তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানোর দাবি উঠল। এবার রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিল অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট হসপিটালস অ্যান্ড নার্সিংহোমস (APHN)। সংগঠনের পক্ষ থেকে গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য CID বা CBI-এর মতো স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি ভুয়ো নথি ব্যবহার করে চিকিৎসক হিসেবে রেজিস্ট্রেশন নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও চিকিৎসকদের নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। ইতিমধ্যে পাঁচ জনের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার পদক্ষেপ করেছে পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিল। অভিযোগ, ওই ব্যক্তিরা ভিন্রাজ্যের মেডিক্যাল নথি ব্যবহার করে এ রাজ্যে চিকিৎসা করার অনুমতি পেয়েছিলেন।
WB Fake Doctor Case CID Investigation: স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে কেন চিঠি?
APHN-এর রাজ্য সম্পাদক রাজীব পাণ্ডে এই ঘটনায় আরও গভীর তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি শুধুমাত্র কয়েক জন ভুয়ো চিকিৎসকের নথি জালিয়াতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কীভাবে ওই ব্যক্তিরা মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশন পেলেন, সেই প্রক্রিয়ায় কোথাও গাফিলতি হয়েছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট নথি কীভাবে যাচাই করা হয়েছিল, তা তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ভুয়ো চিকিৎসকদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ বা সতর্কবার্তা আসার পরও যথাযথ পদক্ষেপ হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। সেই কারণেই রাজ্য পুলিশের সাধারণ তদন্তের পাশাপাশি CID বা CBI-এর মতো সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
পাঁচ চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন বাতিল
ভুয়ো নথি ব্যবহার করে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে রেজিস্ট্রেশন নেওয়ার অভিযোগে পাঁচ জন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ করা হয়েছে। তাঁদের রেজিস্ট্রেশন বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে বিষয়টি জানানোর কথাও বলা হয়েছে।
এর পাশাপাশি ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে রেজিস্ট্রেশন নেওয়া চিকিৎসকদের নথি পুনরায় যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অন্য রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে MBBS পাশ করে পশ্চিমবঙ্গে রেজিস্ট্রেশন নেওয়া চিকিৎসকদের নথি খতিয়ে দেখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিদেশ থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ে এ রাজ্যে রেজিস্ট্রেশন নেওয়া চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেও যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: Nestlé Baby Food Row | শিশুখাদ্য নিয়ে FSSAI-এর ৩ মামলা, বায়োটিন ও বিজ্ঞাপনের দাবি ঘিরে প্রশ্ন
WB Fake Doctor Case CID Investigation: সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাতেও উঠেছে প্রশ্ন
এই বিতর্ক আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ অভিযোগের আওতায় থাকা কয়েক জনের মধ্যে দু’জন সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার অধীনে কাজ করা দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধেও নথি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জেলা স্বাস্থ্য দফতর তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠালেও কোনও জবাব পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, সরকারি নিয়োগের সময় একাধিক স্তরে নথি যাচাই হওয়ার কথা থাকলেও কীভাবে বিতর্কিত রেজিস্ট্রেশন থাকা ব্যক্তিরা চিকিৎসক হিসেবে কাজের সুযোগ পেলেন।
স্বাস্থ্যসাথী নিয়েও প্রশ্ন
এই ঘটনায় স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। APHN-এর অভিযোগ অনুযায়ী, ভুয়ো চিকিৎসক হিসেবে অভিযুক্ত কয়েক জন স্বাস্থ্যসাথী ব্যবস্থার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। বিষয়টি সত্য কি না এবং কোনও সরকারি অর্থ ভুলভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
মেডিক্যাল কাউন্সিলের বক্তব্য কী?
অভিযোগ ওঠার পর পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলের পক্ষ থেকেও নথি পুনরায় যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কাউন্সিলের সভাপতি সুদীপ্ত রায় জানিয়েছেন, ভিন্রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজ বা কাউন্সিলের নথি ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গে রেজিস্ট্রেশন নেওয়া চিকিৎসকদের নথি পুনরায় যাচাই করা হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে যে সময় সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছিল, সেই সময় তিনি কাউন্সিলের সভাপতি ছিলেন না।
অন্যদিকে, APHN-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্তে কেবল অভিযুক্ত চিকিৎসকদের নথি নয়, পুরো রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াটিই খতিয়ে দেখা দরকার।
WB Fake Doctor Case CID Investigation: এখন নজর তদন্তের দিকে
ভুয়ো চিকিৎসক সংক্রান্ত অভিযোগের জেরে ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য দফতর ও মেডিক্যাল কাউন্সিলের স্তরে একাধিক পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। পাঁচ জনের রেজিস্ট্রেশন বাতিল, পুরনো রেজিস্ট্রেশন পুনরায় যাচাই এবং সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কর্মরত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি এবার CID বা CBI তদন্তের দাবিও জোরালো হয়েছে।
তবে অভিযোগগুলি এখনও তদন্তাধীন। কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে ধরে নেওয়ার আগে তদন্তের ফল এবং আইনি প্রক্রিয়ার দিকে তাকানোই গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনে তদন্তে নথি যাচাইয়ের গাফিলতি, জাল নথি তৈরির উৎস এবং রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না, তার উত্তর মিলবে কি না, এখন সেটাই দেখার।
