সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
TMC Joraful Symbol Frozen: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল কংগ্রেসের পরিচিত ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীক এবং ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম আপাতত ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী শিবির, কোনও পক্ষই আসন্ন উপনির্বাচনে পুরনো দলীয় নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।
নির্বাচন কমিশনের এই অন্তর্বর্তী নির্দেশের ফলে সামনে থাকা নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে দুই শিবিরকেই আলাদা নাম ও নতুন নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে লড়াই করতে হবে। কমিশন দুই পক্ষকে নতুন নাম এবং ‘ফ্রি সিম্বল’-এর পছন্দ জানাতে বলেছে।
TMC Joraful Symbol Frozen: কেন জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে এই বিরোধ?
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ, দলের নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। একদিকে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির।
দুই পক্ষই নির্বাচন কমিশনের কাছে জোড়াফুল প্রতীকের দাবিতে নিজেদের বক্তব্য ও নথি পেশ করেছে। কমিশন উভয় পক্ষের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করে তাদের বক্তব্য এবং জমা দেওয়া নথি খতিয়ে দেখেছে।
এরপরই ১৭ সেপ্টেম্বর কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘Flowers & Grass’ বা ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ করল নির্বাচন কমিশন -সরকারি বিজ্ঞপ্তি: Download PDF
TMC Joraful Symbol Frozen: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে কী হবে?
এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে আসন্ন উপনির্বাচনে। নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। দুই শিবিরই নিজেদের প্রার্থী নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে রয়েছে।
কিন্তু এবার কোনও পক্ষই তৃণমূলের পুরনো জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। একইভাবে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামও ব্যবহার করা যাবে না।
অর্থাৎ, ভোটারদের কাছে দুই শিবিরকে নিজেদের পৃথক নাম ও প্রতীকের মাধ্যমে পরিচিত হতে হবে।
শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, দুই পক্ষকেই ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার মধ্যে নতুন দলের নাম এবং নির্বাচনী প্রতীকের পছন্দ জানাতে হবে। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতিটি পক্ষকে একাধিক নাম ও প্রতীকের বিকল্প দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এরপর কমিশন সেই তালিকা থেকে সংশ্লিষ্ট শিবিরের জন্য নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করবে।
ফলে এখন নজর থাকবে দুই শিবির শেষ পর্যন্ত কোন নাম এবং কোন প্রতীকের প্রস্তাব দেয়, তার দিকে।
২৮ বছর পর বদল তৃণমূলের নির্বাচনী পরিচয়ে
নির্বাচন কমিশনের এই অন্তর্বর্তী নির্দেশের তাৎপর্য আরও স্পষ্ট হয় দলের ইতিহাসের দিকে তাকালে। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস থেকে আলাদা হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের পর থেকে দলের নির্বাচনী পরিচয়ের সঙ্গে জোড়াফুল প্রতীকটি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের পরিচিত দলীয় নাম এবং ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক কোনও পক্ষের প্রার্থীর ইভিএমে থাকবে না।
আরও পড়ুন: Ritabrata Banerjee TMC District President List 2026: পশ্চিমবঙ্গের সব জেলার নতুন সভাপতিদের তালিকা
এটি কি স্থায়ী সিদ্ধান্ত?
এখনও পর্যন্ত এটি অন্তর্বর্তী নির্দেশ। অর্থাৎ জোড়াফুল প্রতীক এবং দলের নামের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও আলাদা বিষয়।
বর্তমান নির্দেশটি মূলত আসন্ন উপনির্বাচনের জন্য দুই পক্ষের নির্বাচনী অংশগ্রহণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করছে। কমিশনের সামনে দলীয় নিয়ন্ত্রণ, নাম এবং প্রতীকের দাবিকে ঘিরে বৃহত্তর বিরোধের বিষয়টিও রয়েছে।
তাই আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে দুই শিবির কোন নাম ও প্রতীক নিয়ে মাঠে নামে।
এক নজরে
- জোড়াফুল প্রতীক: আপাতত ফ্রিজ
- ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম: আপাতত ব্যবহার করা যাবে না
- কারও জন্যই পুরনো প্রতীক নয়: দুই শিবিরকেই নতুন প্রতীক নিতে হবে
- উপনির্বাচন: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর
- ভোট: ৬ অক্টোবর ২০২৬
- নতুন নাম ও প্রতীকের পছন্দ জানানোর সময়সীমা: ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা
নোট: উপরের প্রতিবেদনটি আপনার দেওয়া ভিডিওর বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট সাম্প্রতিক সংবাদসূত্র মিলিয়ে নতুন ভাষায় লেখা হয়েছে। ভিডিওর দাবি যেখানে প্রতিবেদনে এসেছে, সেখানে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশ এবং প্রকাশিত রিপোর্টের তথ্যকে ভিত্তি করা হয়েছে।
