সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
Ritabrata Banerjee TMC District President List 2026: ৪ মে ২০২৬। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে দিনটি ইতিমধ্যেই এক ঐতিহাসিক মোড় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দীর্ঘদিনের শাসক অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাজ্যে সরকার গঠন করে। এরপর শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এবং নতুন সরকার কাজ শুরু করে।
সরকার গঠনের পর স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিধানসভায় নিজেদের অবস্থান গ্রহণ করে। কিন্তু ঠিক সেই সময় থেকেই দলের অন্দরে শুরু হয় ব্যাপক অস্থিরতা। একের পর এক রাজনৈতিক ঘটনায় পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায়, যা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আগে খুব কমই দেখা গিয়েছে।
৬০ বিধায়কের বিদ্রোহ, নতুন নেতৃত্বের দাবি
রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ৬০ জন বিধায়ক একত্রিত হয়ে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তাঁদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন রয়েছে। এরপর তাঁরা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজেদের নেতা হিসেবে ঘোষণা করেন এবং বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁর নাম নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হয় বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়।
যদিও বিষয়টি নিয়ে আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ হয়নি, তবুও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনীতিতে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে।
Read More : অনুপূর্ণা ভাণ্ডার Edit (Correction) শুরু | আবেদন সংশোধন করে Final Submit করবেন কীভাবে?
দুই শিবিরে বিভক্ত তৃণমূল?
এই ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, কার্যত তৃণমূল কংগ্রেস দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
একদিকে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মূল সংগঠন, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নতুন একটি গোষ্ঠী নিজেদের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এই দুই শিবিরের মধ্যে কে প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস, দলীয় প্রতীক ও সাংগঠনিক অধিকার কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
নতুন জেলা সভাপতিদের তালিকা ঘোষণা
Ritabrata Banerjee TMC District President List 2026 :এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার নতুন জেলা সভাপতিদের নাম ঘোষণা করেছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী নিম্নলিখিত ব্যক্তিরা দায়িত্ব পেয়েছেন।
| জেলা | জেলা সভাপতি |
|---|---|
| আলিপুরদুয়ার | বিনোদ মিত্র |
| জলপাইগুড়ি | মহুয়া গোপ |
| দার্জিলিং | রঞ্জন সরকার |
| উত্তর দিনাজপুর | সন্দীপ বিশ্বাস |
| দক্ষিণ দিনাজপুর | আনিসুর রহমান |
| মালদহ | প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় |
| মুর্শিদাবাদ | অপূর্ব সরকার (ডেভিড) |
| কোচবিহার | দেবব্রত ঘোষ |
| বাঁকুড়া | রবীন বন্দ্যোপাধ্যায় |
| পুরুলিয়া | উজ্জ্বল কুমার |
| বীরভূম | অনুব্রত মণ্ডল |
| আরামবাগ | উত্তম কুণ্ডু |
| মেদিনীপুর পশ্চিম | প্রদীপ সরকার |
| ঘাটাল | সঞ্জয় পান |
| পূর্ব বর্ধমান | রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় |
| পশ্চিম বর্ধমান | নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী |
| উত্তর কলকাতা | সন্দীপন সাহা |
| দক্ষিণ কলকাতা | দেবাশিস কুমার |
| বসিরহাট | বুরহানুল মুকাদ্দিস (লিটন) |
| সুন্দরবন | গণেশ মণ্ডল |
| হাওড়া (শহরাঞ্চল) | সৃষ্টিধর ঘোষ |
| হাওড়া (গ্রামীণ) | অরূপাত সেন (রাজা) |
| হুগলি-শ্রীরামপুর | সত্যজয় সিং (পাপ্পু) |
| ঝাড়গ্রাম-যাদবপুর | শুভাশিস দাস |
দ্রষ্টব্য: উপরের তালিকাটি সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত একটি তালিকার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। এই নিয়োগগুলির বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
এখন মূল লড়াই কোথায়?
বর্তমানে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, কোন শিবির ভবিষ্যতে তৃণমূল কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাবে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশন, আদালত এবং দলীয় সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।
এদিকে দুই পক্ষই নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করছে। ফলে আগামী দিনে এই রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
উপসংহার
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি বর্তমানে এক নতুন অধ্যায়ের সামনে দাঁড়িয়ে। বিজেপির সরকার গঠনের পর বিরোধী শিবিরের এই ভাঙন রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নতুন জেলা সভাপতিদের তালিকা প্রকাশ সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
তবে এই সমস্ত রাজনৈতিক পরিবর্তনের চূড়ান্ত বৈধতা নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশন, আদালত এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার উপর। তাই পরবর্তী সরকারি ঘোষণা ও সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।
