সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
IMA Targets West Bengal Medical Council: পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (IMA)-এর পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে কাউন্সিলের কাজকর্ম নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি ডা. সুদীপ্ত কুমার রায়।
তবে চিঠিতে ওঠা অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে এই প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যও সামনে আসা জরুরি।
IMA Targets West Bengal Medical Council: ভুয়ো চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার অভিযোগ
IMA-র চিঠিতে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলির একটি হল, প্রভাব খাটিয়ে এমন ব্যক্তিদের মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশন পাইয়ে দেওয়া হয়েছে, যাঁদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এর মাধ্যমে ভুয়ো চিকিৎসক তৈরি হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এই অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু মেডিক্যাল কাউন্সিলের প্রশাসনিক কার্যপ্রণালী নয়, রোগীদের নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিল একটি স্বশাসিত সংস্থা, যা Bengal Medical Act, 1914-এর অধীনে গঠিত। কাউন্সিলের সরকারি ওয়েবসাইটে ডা. সুদীপ্ত কুমার রায়কে বর্তমানে সভাপতি এবং ডা. সুসান্ত কুমার রায়কে সহ-সভাপতি হিসেবে দেখানো হয়েছে।
কাউন্সিলের খরচ নিয়ে প্রশ্ন
IMA-র অভিযোগপত্রে কাউন্সিলের কয়েকজন সদস্যের আর্থিক সুবিধা ও খরচের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ, কয়েকজন সদস্য প্রতি মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা করে কাউন্সিল থেকে বিভিন্ন খাতে তুলতেন। পাশাপাশি ডা. সুসান্ত কুমার রায়ের ব্যক্তিগত বিমানযাত্রার খরচও কাউন্সিলের তহবিল থেকে বহন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এই অভিযোগগুলির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নথি, আর্থিক হিসাব এবং কাউন্সিলের বক্তব্য সামনে আসা গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি কাউন্সিলের বর্তমান সদস্য তালিকায় সুসান্ত কুমার রায়কে সহ-সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তিনি Finance Committee-রও সদস্য।
নিয়োগ নিয়েও উঠেছে অভিযোগ
চিঠিতে কাউন্সিলের এক সদস্যের পরিবারের সদস্যকে Assistant Registrar পদে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কাউন্সিলের সদস্য তাপস চ্যাটার্জির ছেলেকে ওই পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সুদীপ্ত রায়ের ভূমিকা ছিল।
এই অভিযোগের ক্ষেত্রেও নিয়োগের প্রক্রিয়া, যোগ্যতা, মেধাতালিকা এবং সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ্যে এলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
আরজি কর কাণ্ডের পর পুরনো প্রশ্নও ফিরে আসছে
পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসা ব্যবস্থায় মেডিক্যাল কাউন্সিলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন অবশ্য নতুন নয়। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা নিয়ে ২০২৪ সালেই IMA Bengal পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলকে চিঠি দিয়েছিল। PTI-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, IMA কাউন্সিলের সভাপতি সুদীপ্ত রায়কে রেজিস্ট্রেশন বাতিলের বিষয়ে প্রশ্ন করেছিল।
সেই সময়ও রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে চিকিৎসক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
IMA Targets West Bengal Medical Council: ‘থ্রেট কালচার’ নিয়েও বিস্ফোরক অভিযোগ
এবারের অভিযোগপত্রে আরজি কর-কাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত অভিযুক্ত বা বিতর্কিত ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের বিভিন্নভাবে সহায়তা করার অভিযোগও তোলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর সঙ্গে তথাকথিত ‘North Bengal lobby’ এবং ‘threat culture’-এর প্রসঙ্গও উঠে এসেছে।
এই অংশটি অত্যন্ত গুরুতর। তাই অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে না দেখে, তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথির ভিত্তিতে বিষয়টি যাচাই করাই গুরুত্বপূর্ণ।
আরজি কর-কাণ্ডের সময় ‘North Bengal lobby’ নিয়ে রাজনৈতিক ও চিকিৎসক মহলে নানা অভিযোগ উঠেছিল। তবে সেই সময়ও এ ধরনের অভিযোগের পাল্টা বক্তব্য ছিল। India Today-র একটি প্রতিবেদনে ‘North Bengal’ লবির অভিযোগের পাশাপাশি সুদীপ্ত রায়ের পক্ষ থেকে এমন কোনও লবি থাকার কথা অস্বীকার করার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রীর কাছে IMA-র চিঠি, এবার কী?
IMA-র পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এই চিঠির অভিযোগগুলি সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, রাজ্য সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে কোনও তদন্ত করবে কি না।
বিশেষ করে চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন, কাউন্সিলের আর্থিক লেনদেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলি নথিভিত্তিকভাবে খতিয়ে দেখা হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসতে পারে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, অভিযোগগুলি নিয়ে কোনও সরকারি তদন্ত শুরু হয় কি না এবং পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিল ও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এর জবাবে কী বলেন।
