তরুণের স্বপ্ন প্রকল্প বন্ধ | ১০ হাজার টাকার ট্যাব-সহায়তা নিয়ে বড় জল্পনা, কী জানা যাচ্ছে

সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

WhatsApp Group
Join Now

Taruner Swapno Scheme 2026: পশ্চিমবঙ্গের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য চালু থাকা তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পের ১০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মূল বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে পড়ুয়াদের মোবাইল ও স্মার্টফোন ব্যবহারের প্রশ্ন এবং ভবিষ্যতে এই প্রকল্পের কাঠামো বদলানো হবে কি না।

সম্প্রতি শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে পড়ুয়াদের অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সেই বক্তব্যের পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, অনলাইন শিক্ষার প্রয়োজন থেকে শুরু হওয়া ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্প কি আগের মতোই চলবে, নাকি এতে কোনও পরিবর্তন আসতে পারে?

তবে একটি বিষয় শুরুতেই পরিষ্কার করা জরুরি। প্রকল্প বন্ধ হয়ে গিয়েছে বা ১০ হাজার টাকা দেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করার সরকারি চূড়ান্ত নির্দেশ ইতিমধ্যেই জারি হয়েছে, এমন তথ্য বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে না। বরং সরকারি পোর্টালে এখনও ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পের অধীনে ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার কথা উল্লেখ রয়েছে।

Google
Add West Bengal Times যুক্ত করুন গুগল-এ পছন্দের উৎস হিসেবে
Add Preference

Taruner Swapno Scheme: ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্প কী?

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্প মূলত পড়ুয়াদের প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করে ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছিল।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির আওতায় যোগ্য পড়ুয়াদের ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এই অর্থ দিয়ে ট্যাবলেট, স্মার্টফোন বা ব্যক্তিগত কম্পিউটার কেনার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে একাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারাও এই সুবিধার আওতায় রয়েছে।

প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য ছিল ডিজিটাল শিক্ষায় পড়ুয়াদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং প্রযুক্তির অভাবে যাতে কোনও ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনা ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করা।

করোনা পর্ব থেকেই কেন এই প্রকল্পের প্রয়োজন তৈরি হয়েছিল?

২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় স্কুল-কলেজ দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। ক্লাসরুমের পরিবর্তে অনলাইন ক্লাসই হয়ে উঠেছিল পড়াশোনার অন্যতম প্রধান মাধ্যম।

কিন্তু প্রত্যেক পরিবারের কাছে স্মার্টফোন বা কম্পিউটার ছিল না। ফলে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের ছাত্রছাত্রীরা অনলাইন শিক্ষায় সমস্যায় পড়ছিল।

এই পরিস্থিতিতে প্রযুক্তিগত বৈষম্য কমাতে ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

পরে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও প্রকল্পটি চালু রাখা হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির যোগ্য পড়ুয়ারা এই সুবিধা পেতে পারেন।

Taruner Swapno Scheme: তাহলে হঠাৎ প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন উঠল কেন?

এর পিছনে রয়েছে পড়ুয়াদের অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের বিষয়টি

শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে পড়ুয়াদের মধ্যে মোবাইল ফোনের আসক্তি এবং তার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একইসঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার পরিকাঠামো উন্নয়ন, স্কুলে মোবাইল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষার মান বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।

এখান থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, যে প্রকল্পের মাধ্যমে পড়ুয়াদের স্মার্টফোন বা ট্যাব কেনার জন্য টাকা দেওয়া হচ্ছে, সেটি ভবিষ্যতে একইভাবে চালু থাকবে কি না।

তবে মোবাইল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণের কথা বলা এবং ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত নেওয়া এক বিষয় নয়।

এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ।

১০ হাজার টাকা কি এবার আর দেওয়া হবে না?

এই মুহূর্তে এমন কোনও চূড়ান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যাচ্ছে না, যেখানে বলা হয়েছে যে ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে বা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের ১০ হাজার টাকা আর দেওয়া হবে না।

বরং ২০২৬ সালেও সরকারি ব্যবস্থায় প্রকল্পটির কার্যক্রমের প্রমাণ রয়েছে। সরকারি ‘তরুণের স্বপ্ন’ পোর্টালে এখনও যোগ্য একাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।

এছাড়াও সরকারি নোটিসে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে একাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পের requisition সংক্রান্ত কার্যক্রমের উল্লেখ রয়েছে।

অর্থাৎ, এখনই ‘১০ হাজার টাকা বন্ধ’ বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

Taruner Swapno Scheme: প্রকল্পের নিয়মে কী পরিবর্তন আসতে পারে?

বর্তমান বিতর্কের পর ভবিষ্যতে প্রকল্পটির টাকা কীভাবে ব্যবহার হবে, তা নিয়ে নতুন নিয়ম আসতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে, সরকার চাইলে সরাসরি মোবাইল কেনার পরিবর্তে:

  • নির্দিষ্ট ধরনের শিক্ষামূলক ডিভাইসের উপর জোর দিতে পারে
  • ট্যাব বা কম্পিউটার ব্যবহারে গুরুত্ব বাড়াতে পারে
  • শিক্ষামূলক কাজে অর্থ ব্যবহারের উপর নজরদারি বাড়াতে পারে
  • স্কুলের ডিজিটাল পরিকাঠামো উন্নয়নে বেশি অর্থ দিতে পারে
  • পড়ুয়াদের ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে আলাদা নির্দেশিকা আনতে পারে

তবে এগুলি সম্ভাব্য পরিবর্তনের দিক, কোনও চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত নয়।

তরুণের স্বপ্ন’ বন্ধ হলে পড়ুয়াদের কী প্রভাব পড়তে পারে?

প্রকল্পটি বন্ধ বা বড়ভাবে পরিবর্তন করা হলে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠবে আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের পড়ুয়াদের নিয়ে।

অনলাইন ক্লাসের প্রয়োজন কমলেও আজকের শিক্ষাব্যবস্থায় ডিজিটাল রিসোর্সের প্রয়োজন শেষ হয়নি। অনলাইন স্টাডি ম্যাটেরিয়াল, ডিজিটাল লাইব্রেরি, শিক্ষামূলক ভিডিও, বিভিন্ন সরকারি শিক্ষা পোর্টাল এবং অনলাইন পরীক্ষার প্রস্তুতিতে স্মার্ট ডিভাইস গুরুত্বপূর্ণ।

ফলে শুধু ‘মোবাইল আসক্তি’ কমানোর জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা হলে তার অন্য একটি সমস্যা তৈরি হতে পারে।

মূল বিষয় হতে পারে প্রযুক্তির ব্যবহার বন্ধ করা নয়, বরং শিক্ষার কাজে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।

টাকা বাড়বে, কিন্তু মোবাইলের জন্য নয়?

এখনকার বিতর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারি অর্থ বরাদ্দের অগ্রাধিকার।

শিক্ষার পরিকাঠামো, স্কুল ভবন, ল্যাবরেটরি, স্মার্ট ক্লাসরুম, শিক্ষক নিয়োগ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বেশি অর্থ খরচ করার দাবি সামনে এসেছে। শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে শিক্ষাক্ষেত্রে পরিকাঠামো উন্নয়ন ও নতুন ধরনের মডেল স্কুল তৈরির বিষয়েও ঘোষণা করা হয়েছে।

তাই আগামী দিনে সরকার যদি ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পের টাকা অন্য কোনও শিক্ষা পরিকাঠামো খাতে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয়, সেটি হবে একটি নীতিগত পরিবর্তন।

কিন্তু এখন পর্যন্ত এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসেনি।

২০২৬ সালেও প্রকল্পের কার্যক্রমের প্রমাণ

এই জায়গাটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ‘তরুণের স্বপ্ন’ এখনও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি চালু শিক্ষা প্রকল্প হিসেবে তালিকাভুক্ত। যোগ্য পড়ুয়াদের জন্য ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার কথাও সরকারি পোর্টালে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

এমনকি ২০২৬ সালের বিভিন্ন সরকারি নোটিসেও ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রকল্পের requisition এবং সংশোধন সংক্রান্ত কাজের উল্লেখ পাওয়া যাচ্ছে।

তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় বা বিভিন্ন পোস্টে তরুণের স্বপ্ন বন্ধ’, ‘১০ হাজার টাকা বাতিল’ ধরনের দাবি দেখলে সরকারি বিজ্ঞপ্তি না দেখে সেটিকে নিশ্চিত খবর হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

আরও পড়ুন: যুবশক্তি যোজনায় অনলাইন আবেদন শুরু ২০ সেপ্টেম্বর, কারা আবেদন করতে পারবেন? জানুন বয়সসীমা ও প্রয়োজনীয় নথি

পড়ুয়াদের জন্য এখন কী জানা জরুরি?

বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, যোগ্য পড়ুয়ারা যেন তাঁদের স্কুল এবং সরকারি পোর্টালে নিজেদের তথ্যের অবস্থা যাচাই করেন।

‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পে টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ছাত্রছাত্রীর তথ্য, Aadhaar verification এবং স্কুলের মাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের মতো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি ব্যবস্থায় এই তথ্য যাচাই ও DBT প্রক্রিয়া নিয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশনাও রয়েছে।

তাই কোনও ছাত্র বা অভিভাবকের টাকা না এলে সরাসরি প্রকল্প বন্ধ হয়েছে ধরে না নিয়ে প্রথমে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

তাহলে আসল খবর কী?

তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্প নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে, কারণ পড়ুয়াদের মোবাইল ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে সরকারের তরফে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু ১০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে, এমন কোনও চূড়ান্ত সরকারি নির্দেশ বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে না।

বরং সরকারি পোর্টালে প্রকল্পটি এখনও সক্রিয় এবং ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার তথ্য রয়েছে।

তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন প্রকল্প বন্ধ হচ্ছে কি না’ নয়, বরং ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার জন্য এই প্রকল্পের কাঠামো বদলানো হবে কি না।

সরকার যদি নতুন কোনও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, তখনই স্পষ্ট হবে পড়ুয়াদের জন্য ১০ হাজার টাকার সহায়তা আগের মতো থাকবে, নাকি তার নিয়ম ও ব্যবহার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসবে।

Swastika Paul
Swastika Paulhttps://swastikapaul.in/
Swastika Paul is a distinguished innovator, educator, and the Principal of Tehatta Government ITI. Holding an M.Tech in Communication Engineering, she is dedicated to bridging the digital divide in rural India through technical skill development and inclusive leadership. A recognized voice in grassroots innovation, Swastika was honored with the "Principal of the Year" award at the Asia Education Conclave 2025. Beyond academia, she is the Co-founder of SD ONUPRON GROUP, where she has spent over 6 years curating impactful content on education, technology, and social awareness. Her dual expertise in engineering and digital media makes her a trusted authority in the evolving landscape of Indian technical education and social entrepreneurship.

Read more

Local News