স্ত্রীর নামে বাড়ি কিনলে ৩ বড় সুবিধা, হোম লোন, স্ট্যাম্প ডিউটি ও আয়করের ছাড়ের হিসাব

সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

WhatsApp Group
Join Now

Buying Property in Wife’s Name: বাড়ি কেনা জীবনের অন্যতম বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত। তাই ফ্ল্যাট বা বাড়ি কেনার আগে শুধু সম্পত্তির দাম নয়, হোম লোনের সুদ, স্ট্যাম্প ডিউটি, রেজিস্ট্রেশন খরচ এবং আয়কর সুবিধা নিয়েও হিসাব করা জরুরি।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, স্ত্রীর নামে বা স্ত্রীকে সহ-মালিক করে বাড়ি কিনলে তিন ধরনের আর্থিক সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। পোস্টটিতে কম হোম লোনের সুদ, কম স্ট্যাম্প ডিউটি এবং বেশি কর ছাড়ের কথা বলা হয়েছে।

তবে বিষয়টি একটু খুঁটিয়ে দেখা দরকার। কারণ এই সুবিধাগুলি সব রাজ্য, সব ব্যাংক এবং সব করদাতার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়।

Google
Add West Bengal Times যুক্ত করুন গুগল-এ পছন্দের উৎস হিসেবে
Add Preference

১. স্ত্রীর নামে বাড়ি কিনলে হোম লোনে সুদ কম হতে পারে

অনেক ব্যাংক ও হোম লোন প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান মহিলা আবেদনকারীকে কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ সুদের হার অফার করে। স্ত্রী যদি হোম লোনের প্রাথমিক আবেদনকারী বা সহ-আবেদনকারী হন, তাহলে নির্দিষ্ট ঋণদাতার নিয়ম অনুযায়ী সুদের হারে সামান্য ছাড় পাওয়া যেতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে ০.০৫% থেকে ০.১০% পর্যন্ত কম সুদের কথা বলা হয়েছে। তবে এটিকে কোনও সর্বজনীন নিয়ম হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ব্যাংক, ঋণের ধরন, ক্রেডিট প্রোফাইল এবং সেই সময়ের সুদের নীতির উপর প্রকৃত হার নির্ভর করে।

অর্থাৎ, শুধু স্ত্রীর নাম যোগ করলেই যে প্রতিটি ব্যাংক থেকে একই হারে ছাড় পাওয়া যাবে, এমন নয়।

ছোট্ট উদাহরণ

ধরা যাক, ৩০ বছরের জন্য ৩০ লক্ষ হোম লোন নেওয়া হল। সুদের হারে সামান্য পার্থক্যও দীর্ঘমেয়াদে মোট সুদের খরচে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বাড়ি কেনার আগে স্ত্রীকে আবেদনকারী বা সহ-আবেদনকারী করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কী সুদের হার দিচ্ছে, সেটি লিখিতভাবে জেনে নেওয়া ভালো।

২. স্ত্রীর নামে সম্পত্তি হলে স্ট্যাম্প ডিউটিতে ছাড় থাকতে পারে

এটি অনেক ক্রেতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মহিলাদের নামে সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে স্ট্যাম্প ডিউটিতে ছাড় বা বিশেষ হার রয়েছে। কিন্তু এই হার রাজ্যভেদে আলাদা। তাই কোনও একটি রাজ্যের হার সারা দেশের জন্য প্রযোজ্য নয়।

ছবিতে উদাহরণ হিসেবে মহিলার নামে সম্পত্তির জন্য ৪% এবং পুরুষের নামে ৬% স্ট্যাম্প ডিউটির কথা বলা হয়েছে।

কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে কত স্ট্যাম্প ডিউটি লাগবে তা জানতে হলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বর্তমান নিয়ম এবং সম্পত্তির অবস্থান দেখতে হবে।

এখানে আরও একটি বিষয় মনে রাখা দরকার। স্ট্যাম্প ডিউটি এবং রেজিস্ট্রেশন ফি এক জিনিস নয়। সম্পত্তির মূল্য, রাজ্যের নিয়ম এবং রেজিস্ট্রেশনের ধরন অনুযায়ী মোট খরচ নির্ধারিত হয়।

তাই শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার কোনও পোস্ট দেখে বাড়ি কেনার খরচের হিসাব করা উচিত নয়।

৩. আয়করেও কি স্বামী-স্ত্রী দু’জনের সুবিধা নেওয়া যায়?

এখানেই বিষয়টি সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে।

ছবিতে বলা হয়েছে, একজনের ক্ষেত্রে প্রায় ৩.৫ লক্ষ এবং স্বামী-স্ত্রী সহ-মালিক ও সহ-ঋণগ্রহীতা হলে মোট ৭ লক্ষ পর্যন্ত কর ছাড় পাওয়া যেতে পারে।

এর পিছনে একটি হিসাব রয়েছে, কিন্তু এটিকে সরাসরি ₹লক্ষের কর ছাড় বলা ঠিক নয়।

বর্তমান আয়কর নিয়ম অনুযায়ী, পুরনো কর ব্যবস্থায় যোগ্য করদাতা নিজের বাড়ির হোম লোনের সুদের ক্ষেত্রে Section 24(b)-এর অধীনে নির্দিষ্ট শর্তে সর্বোচ্চ লক্ষ পর্যন্ত deduction পেতে পারেন। পাশাপাশি হোম লোনের principal repayment Section 80C-এর সামগ্রিক ১.৫০ লক্ষ সীমার মধ্যে deduction-এর জন্য যোগ্য হতে পারে।

অর্থাৎ, যোগ্য পরিস্থিতিতে একজন করদাতার ক্ষেত্রে ২ লক্ষ + ১.৫০ লক্ষ = ৩.৫০ লক্ষ পর্যন্ত deduction-এর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

যদি স্বামী ও স্ত্রী দু’জনেই প্রকৃতভাবে co-owner এবং co-borrower হন এবং প্রত্যেকের নিজের নিজের করযোগ্য আয় ও যোগ্যতা থাকে, তাহলে প্রত্যেকে নিজের অংশের জন্য প্রযোজ্য deduction দাবি করতে পারেন। সেই কারণে পরিবারের মোট কর-সুবিধা বেশি হতে পারে।

তবে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যেক দম্পতির ক্ষেত্রে ৭ লক্ষ হবে না।

আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা, ৬ অক্টোবর 2026 ভোট | রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে লড়াই

Buying Property in Wife’s Name: নতুন কর ব্যবস্থায় বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ

অনেকেই এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভুলে যান।

বর্তমান আয়কর নিয়মে নতুন কর ব্যবস্থা এবং পুরনো কর ব্যবস্থার মধ্যে হোম লোন সংক্রান্ত deduction-এর পার্থক্য রয়েছে।

আয়কর দফতরের তথ্য অনুযায়ী, self-occupied property-এর জন্য Section 24(b)-এর ২ লক্ষ পর্যন্ত সুদের deduction পুরনো কর ব্যবস্থায় প্রযোজ্য। একইভাবে Section 80C-এর ১.৫০ লক্ষ সীমার deduction-ও পুরনো কর ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত।

তাই শুধু “স্বামী-স্ত্রীর নামে বাড়ি কিনলে ৭ লক্ষ tax deduction” শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। আপনি কোন tax regime-আছেন, বাড়িটি self-occupied নাকি rented, loan কীভাবে নেওয়া হয়েছে এবং মালিকানা কীভাবে রাখা হয়েছে, সবকিছু বিবেচনা করতে হবে।

Buying Property in Wife’s Name: তাহলে কি স্ত্রীর নামে বাড়ি কেনা বেশি লাভজনক?

কিছু পরিস্থিতিতে অবশ্যই হতে পারে। বিশেষ করে যদি সংশ্লিষ্ট রাজ্যে মহিলাদের জন্য স্ট্যাম্প ডিউটিতে ছাড় থাকে এবং ব্যাংক মহিলা borrower-কে কম সুদের হার দেয়।

একই সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী দু’জনের নাম property ownership ও home loan-এ থাকলে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে দু’জনের আয়কর সুবিধাও আলাদাভাবে কাজে লাগতে পারে।

তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এই চারটি বিষয় অবশ্যই যাচাই করুন:

  1. ব্যাংক মহিলা borrower-কে কত সুদের হার দিচ্ছে
  2. আপনার রাজ্যে মহিলার নামে সম্পত্তির স্ট্যাম্প ডিউটি কত
  3. স্বামী-স্ত্রীর ownership ও loan liability কীভাবে রাখা হবে
  4. পুরনো না নতুন tax regime-কোনটি আপনার জন্য বেশি সুবিধাজনক

স্ত্রীর নামে বা স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে বাড়ি কেনা শুধুমাত্র সামাজিক বা পারিবারিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি একটি আর্থিক পরিকল্পনার বিষয়ও হতে পারে। কম সুদের হার, রাজ্যভেদে স্ট্যাম্প ডিউটির সুবিধা এবং যোগ্য ক্ষেত্রে দুইজনের আয়কর deduction মিলিয়ে দীর্ঘমেয়াদে কিছুটা সাশ্রয় হতে পারে।

তবে ৪% স্ট্যাম্প ডিউটি, ০.১০% কম সুদ বা ₹লক্ষ tax deduction-কে সর্বজনীন নিয়ম ধরে নেওয়া যাবে না। প্রতিটি সুবিধার জন্য আলাদা যোগ্যতা ও স্থানীয় নিয়ম রয়েছে।

বাড়ি কেনার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এবং রাজ্যের রেজিস্ট্রেশন কর্তৃপক্ষের বর্তমান নিয়ম যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

Swastika Paul
Swastika Paulhttps://swastikapaul.in/
Swastika Paul is a distinguished innovator, educator, and the Principal of Tehatta Government ITI. Holding an M.Tech in Communication Engineering, she is dedicated to bridging the digital divide in rural India through technical skill development and inclusive leadership. A recognized voice in grassroots innovation, Swastika was honored with the "Principal of the Year" award at the Asia Education Conclave 2025. Beyond academia, she is the Co-founder of SD ONUPRON GROUP, where she has spent over 6 years curating impactful content on education, technology, and social awareness. Her dual expertise in engineering and digital media makes her a trusted authority in the evolving landscape of Indian technical education and social entrepreneurship.

Read more

Local News