সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
eGramSwaraj Portal: গ্রাম পঞ্চায়েতের উন্নয়নমূলক কাজ, প্রকল্প, অর্থব্যবস্থা, সম্পত্তি, কাজের অগ্রগতি এবং বিভিন্ন তথ্য যদি একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালনা করা যায়, তাহলে পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়ানো সম্ভব। এই লক্ষ্যেই ভারত সরকারের Ministry of Panchayati Raj-এর গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল উদ্যোগগুলির মধ্যে অন্যতম হলো eGramSwaraj Portal।
সরকারি ভাষায় eGramSwaraj হলো পঞ্চায়েতের জন্য একটি প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত ব্যবস্থা, যেখানে তথ্য সংগ্রহ, স্থানীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা, কাজের অগ্রগতি এবং কাজভিত্তিক হিসাবরক্ষণকে একই ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে।
বর্তমানে এটি শুধু পঞ্চায়েত অফিসের একটি সফটওয়্যার নয়। পঞ্চায়েতের পরিকল্পনা থেকে কাজের বাস্তবায়ন, অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং আর্থিক হিসাব পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
eGramSwaraj Portal আসলে কী?
eGramSwaraj হলো পঞ্চায়েতের পরিকল্পনা, কাজের হিসাব, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি একটি সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।
এর মাধ্যমে একটি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও কার্যক্রম ডিজিটালভাবে নথিভুক্ত করা যায়।
যেমন:
- পঞ্চায়েতের সাধারণ তথ্য
- নির্বাচিত প্রতিনিধি ও কর্মীদের তথ্য
- Gram Panchayat Development Plan বা GPDP
- পঞ্চায়েতের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ
- কাজের অনুমোদন
- কাজের অগ্রগতি
- খরচ ও আর্থিক হিসাব
- পঞ্চায়েতের সম্পত্তির তথ্য
- বিভিন্ন প্রকল্পের তথ্য
- Geo-tagged কাজের অগ্রগতি
- পঞ্চায়েতের আর্থিক লেনদেনের তথ্য
অর্থাৎ, পঞ্চায়েতের উন্নয়নমূলক কাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি ডিজিটাল ট্র্যাক তৈরি করা eGramSwaraj-এর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
কেন eGramSwaraj Portal শুরু করা হলো?
আগে পঞ্চায়েতের অনেক কাজ কাগজপত্র, আলাদা রেজিস্টার এবং বিভিন্ন অফিসের পৃথক ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হতো। ফলে একটি কাজের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে তার অনুমোদন, বাস্তবায়ন, খরচ এবং অগ্রগতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য এক জায়গায় পাওয়া সবসময় সহজ ছিল না।
eGramSwaraj-এর মাধ্যমে এই ব্যবস্থাকে আরও ডিজিটাল, সমন্বিত এবং তথ্যভিত্তিক করার চেষ্টা করা হয়েছে।
এর মূল লক্ষ্যগুলির মধ্যে রয়েছে:
১. পঞ্চায়েতের কাজে স্বচ্ছতা বাড়ানো
কোন পঞ্চায়েতে কী কাজ হচ্ছে, কোন কাজের কী অগ্রগতি, কোন প্রকল্পে কত অর্থ বরাদ্দ বা ব্যয় হচ্ছে, এসব তথ্য ডিজিটাল ব্যবস্থায় নথিভুক্ত করা যায়।
২. পরিকল্পনাকে আরও তথ্যভিত্তিক করা
গ্রামের মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী Gram Panchayat Development Plan বা GPDP তৈরি করা যায়।
৩. কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ
শুধু কাজ অনুমোদন হলেই কাজ শেষ নয়। কাজ বাস্তবে কতদূর এগোল, তার physical ও financial progress-ও ট্র্যাক করা যায়।
৪. আর্থিক ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা
পঞ্চায়েতের বাজেট, লেনদেন, ভাউচার, হিসাব ইত্যাদি ডিজিটালভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা রয়েছে।
৫. নাগরিকদের তথ্য জানার সুযোগ তৈরি করা
সরকারি তথ্য অনুযায়ী নাগরিকদেরও eGramSwaraj ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ stakeholder হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। নাগরিকরা নিজেদের এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ সম্পর্কে সচেতন ও তথ্যভিত্তিক নজরদারি করতে পারেন।
eGramSwaraj-এ কী কী কাজ করা হয়?
eGramSwaraj-এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মডিউল রয়েছে। এগুলিই মূলত পঞ্চায়েতের ডিজিটাল কাজের ভিত্তি।
১. Panchayat Profile
প্রথমেই রয়েছে পঞ্চায়েতের প্রোফাইল।
এখানে থাকতে পারে:
- পঞ্চায়েতের সাধারণ তথ্য
- নির্বাচিত প্রতিনিধিদের তথ্য
- Ward Member-এর তথ্য
- কমিটির সদস্যদের তথ্য
- পঞ্চায়েতের কর্মীদের তথ্য
এর ফলে একটি পঞ্চায়েত সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যায়।
২. Planning বা পঞ্চায়েতের উন্নয়ন পরিকল্পনা
এটি eGramSwaraj-এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
গ্রাম সভায় গ্রামের কী কী উন্নয়নমূলক কাজ প্রয়োজন, তা নিয়ে আলোচনা ও পরিকল্পনা করা হয়। অনুমোদিত কাজগুলি eGramSwaraj-এ activity হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।
উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, একটি গ্রামের প্রয়োজন:
- রাস্তা মেরামত
- ড্রেন তৈরি
- পানীয় জলের ব্যবস্থা
- রাস্তার আলো
- কমিউনিটি ভবন
- স্কুলের পরিকাঠামো
- পুকুর সংস্কার
এই ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।
অর্থাৎ, গ্রামের প্রয়োজন → Gram Sabha → পরিকল্পনা → অনুমোদিত কাজ → eGramSwaraj-এ নথিভুক্তকরণ এই প্রক্রিয়াটি গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের পঞ্চায়েত পরিকল্পনা সম্পর্কেও Ministry of Panchayati Raj বর্তমানে eGramSwaraj-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে।
৩. কাজের অগ্রগতি দেখা
কোনও প্রকল্প অনুমোদিত হওয়ার পর কাজ কতটা এগিয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
eGramSwaraj-এর Progress Reporting ব্যবস্থায় কাজের physical এবং financial progress রিপোর্ট করা যায়।
অর্থাৎ দেখা যেতে পারে:
কাজ অনুমোদিত → কাজ শুরু → কাজের অগ্রগতি → খরচ → কাজ সম্পন্ন
এই পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়।
৪. Geo-tagging-এর মাধ্যমে কাজের অবস্থান
eGramSwaraj ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো Geo-tagged physical progress monitoring।
এর অর্থ, উন্নয়নমূলক কাজের অবস্থানকে ভৌগোলিক তথ্যের সঙ্গে যুক্ত করে পর্যবেক্ষণ করা যায়।
উদাহরণস্বরূপ, কোনও পঞ্চায়েতে রাস্তা নির্মাণ বা অন্য কোনও পরিকাঠামোগত কাজ হলে তার অবস্থান ও অগ্রগতির তথ্য ডিজিটাল ব্যবস্থায় সংযুক্ত করা যেতে পারে।
এর ফলে শুধু কাগজে কাজের নাম থাকলেই হবে না, বাস্তবে কাজ কোথায় হচ্ছে এবং কতটা এগিয়েছে, তা পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়।
৫. Accounting বা আর্থিক হিসাব
পঞ্চায়েতের জন্য হিসাবরক্ষণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
eGramSwaraj-এর Accounting Module-এর মাধ্যমে পঞ্চায়েতের আর্থিক তথ্য এবং লেনদেন পরিচালনার ব্যবস্থা রয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে:
- Budget ও হিসাব
- বিভিন্ন Central/State Scheme-এর mapping
- Vendor-এর তথ্য
- Employee-এর তথ্য
- Voucher-based transactions
- Digital Signature-ভিত্তিক verification
- Cash Book
- Bank Account Reconciliation
অর্থাৎ পঞ্চায়েতের অর্থ কোথা থেকে এল, কোন কাজের জন্য ব্যবহার হলো এবং হিসাবের অবস্থাটা কী, সেই ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্য রয়েছে।
৬. Panchayat Asset Directory
পঞ্চায়েতের বিভিন্ন সম্পত্তি বা Asset-এর তথ্যও ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা যায়।
যেমন কোনও পঞ্চায়েতের:
- ভবন
- রাস্তা
- অন্যান্য পরিকাঠামো
- সরকারি সম্পদ
ইত্যাদির status update করা যেতে পারে।
কোনও সম্পত্তি সক্রিয়, ক্ষতিগ্রস্ত, পরিত্যক্ত বা অন্য অবস্থায় রয়েছে কিনা, সেই status-ও নথিভুক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে।
৭. Vendor ও Employee Management
পঞ্চায়েতের বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত vendor এবং কর্মীদের তথ্যও ব্যবস্থার মধ্যে পরিচালনা করা যায়।
এর ফলে পঞ্চায়েতের কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বা সংস্থার তথ্য ব্যবস্থাপনা আরও সুসংগঠিত হয়।
সাধারণ মানুষ কীভাবে উপকৃত হবেন?
এখানেই eGramSwaraj-এর একটি বড় গুরুত্ব রয়েছে। সাধারণ মানুষ সরাসরি পঞ্চায়েতের সব administrative function পরিচালনা করবেন না। এগুলির অনেকটাই পঞ্চায়েতের অনুমোদিত কর্মকর্তা ও ব্যবহারকারীদের জন্য নির্ধারিত।
কিন্তু নাগরিক হিসেবে মানুষ পঞ্চায়েতের উন্নয়নমূলক কাজ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন। সরকার নিজেই নাগরিকদের eGramSwaraj-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ user group হিসেবে উল্লেখ করেছে। ধরা যাক, আপনার গ্রামের একটি রাস্তা তৈরির প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
তখন সাধারণ নাগরিকের আগ্রহ থাকতে পারে:
কাজটি কী? → কোথায় হচ্ছে? → কত টাকার কাজ? → কাজের বর্তমান অবস্থা কী? → কাজ শেষ হয়েছে কি না?
এই ধরনের তথ্যের ডিজিটাল নথি থাকা পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং সামাজিক নজরদারি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
পঞ্চায়েতের জন্য কী কী সুবিধা?
eGramSwaraj ব্যবহারের ফলে পঞ্চায়েত পর্যায়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা তৈরি হয়।
✅ পরিকল্পনা আরও সংগঠিত হয়
পঞ্চায়েতের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ একটি ডিজিটাল পরিকল্পনা ব্যবস্থার মধ্যে আনা যায়।
✅ কাজের অগ্রগতি ট্র্যাক করা যায়
কোন কাজ শুরু হয়েছে, কতদূর এগিয়েছে এবং আর্থিক অগ্রগতি কী, তা নথিভুক্ত করা যায়।
✅ আর্থিক ব্যবস্থাপনা উন্নত হয়
Budget, transaction, voucher, cash book এবং bank reconciliation-এর মতো বিষয় ডিজিটাল ব্যবস্থায় পরিচালনা করা যায়।
✅ তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যায়
পঞ্চায়েতের profile, planning, progress, accounting এবং asset সংক্রান্ত তথ্য একই ecosystem-এর মধ্যে থাকে।
✅ জবাবদিহিতা বাড়ে
কাজের পরিকল্পনা থেকে আর্থিক ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত হওয়ায় accountability বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।
✅ ডেটাভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়
পঞ্চায়েত ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক স্তরে তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পনা ও monitoring করা সম্ভব হয়।
eGramSwaraj কে ব্যবহার করেন?
সরকারি তথ্য অনুযায়ী eGramSwaraj মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ user group-কে মাথায় রেখে তৈরি হয়েছে:
১. Local Bodies
পঞ্চায়েত এবং স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীরা।
২. Line Departments
বিভিন্ন সরকারি বিভাগ, যারা পঞ্চায়েত উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত।
৩. Citizens
সাধারণ নাগরিক, যারা নিজেদের এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ সম্পর্কে তথ্য জানতে ও নজর রাখতে পারেন।
eGramSwaraj কোথায় পাওয়া যাবে?
eGramSwaraj সম্পর্কে সরকারি তথ্য, নির্দেশিকা এবং Dashboard-এর লিঙ্ক Ministry of Panchayati Raj-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়।
Ministry of Panchayati Raj-এর eGramSwaraj পেজ
মন্ত্রণালয়ের eGramSwaraj বিভাগে Standard Operating Procedure (SOP) এবং Brochure-ও দেওয়া রয়েছে।
এছাড়া Ministry of Panchayati Raj-এর অফিসিয়াল সাইটে eGramSwaraj-কে পঞ্চায়েতের decentralised planning, progress reporting এবং work-based accounting-এ transparency আনার উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মোবাইল থেকেও কি ব্যবহার করা যায়?
eGramSwaraj ecosystem-এর সঙ্গে mobile-based data collection ও monitoring-এর ব্যবস্থাও রয়েছে। Ministry of Panchayati Raj-এর নথিতে eGramSwaraj-এর সঙ্গে সম্পর্কিত Mobile Application for Data-এর উল্লেখ রয়েছে।
তবে কোন ব্যবহারকারী কোন mobile application বা কোন module ব্যবহার করবেন, তা তাঁর role এবং সরকারি access-এর উপর নির্ভর করে।
eGramSwaraj কি শুধু পঞ্চায়েত অফিসের জন্য?
না, বিষয়টি একটু বিস্তৃত।
Administrative data entry এবং financial management-এর মতো কাজ সাধারণ নাগরিক নিজের ইচ্ছায় করতে পারবেন না। এগুলি নির্দিষ্ট অনুমোদিত user এবং পঞ্চায়েত/প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
কিন্তু eGramSwaraj-এর উদ্দেশ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নাগরিকদের জন্য পঞ্চায়েতের উন্নয়নমূলক কাজ সম্পর্কে তথ্যভিত্তিক সচেতনতার সুযোগ তৈরি করা।
তাই এটিকে শুধু “পঞ্চায়েত কর্মীদের software” বললে পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না।
eGramSwaraj এবং Gram Sabha-এর সম্পর্ক কী?
গ্রাম পঞ্চায়েতের উন্নয়ন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে Gram Sabha অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামের মানুষ নিজেদের এলাকার প্রয়োজন ও সমস্যাগুলি নিয়ে আলোচনা করেন। সেই প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা তৈরি হয়। eGramSwaraj সেই পরিকল্পনাকে ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে।
সহজভাবে বলা যায়:
গ্রামের প্রয়োজন → Gram Sabha → Development Plan → অনুমোদন → eGramSwaraj-এ Entry → কাজ → Progress Monitoring → Financial Tracking
এই পুরো lifecycle-কে ডিজিটালভাবে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে eGramSwaraj গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
eGramSwaraj-এর সঙ্গে Gram Manchitra-এর সম্পর্ক
পঞ্চায়েত পর্যায়ে শুধু হিসাব বা কাজের তালিকা থাকলেই উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পূর্ণ হয় না। কোথায় রাস্তা আছে, কোথায় স্কুল, কোথায় জলাধার, কোন এলাকায় কী ধরনের সুবিধা প্রয়োজন, এসব ভৌগোলিক তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ।
এই কারণে Ministry of Panchayati Raj Gram Manchitra নামে spatial planning application-ও তৈরি করেছে।
এটি geographic data ব্যবহার করে পঞ্চায়েত পর্যায়ে planning ও facility management-এ সহায়তা করে। উচ্চ-রেজোলিউশনের village map এবং drone imagery-এর মতো তথ্য ব্যবহার করে বিভিন্ন ভৌগোলিক feature বিশ্লেষণের সুযোগ রয়েছে।
eGramSwaraj-এর সবচেয়ে বড় সুবিধা কোথায়?
সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো একটি কাজের পুরো lifecycle-কে ডিজিটালভাবে সংযুক্ত করা।
আগে যদি প্রশ্ন করা হয়:
“এই পঞ্চায়েতে কোন কাজ নেওয়া হয়েছে?”
তারপর আরও প্রশ্ন আসে:
“কেন নেওয়া হয়েছে?”
“কে অনুমোদন করেছে?”
“কত টাকা বরাদ্দ?”
“কাজ শুরু হয়েছে?”
“কতটা কাজ হয়েছে?”
“কত টাকা খরচ হয়েছে?”
“কাজটি কোথায় হয়েছে?”
“কাজটি শেষ হয়েছে কি?”
eGramSwaraj-এর লক্ষ্য হলো এই ধরনের তথ্যকে একটি integrated digital ecosystem-এর মধ্যে নিয়ে আসা। সরকারি বর্ণনা অনুযায়ী development plan তৈরি থেকে geo-tagged physical progress monitoring এবং financial progress tracking, এমনকি PFMS-linked fund disbursement পর্যন্ত এই digital workflow বিস্তৃত।
বর্তমানে eGramSwaraj কতটা বড়?
Ministry of Panchayati Raj-এর তথ্য অনুযায়ী, eGramSwaraj-এর ব্যবহারকারী পরিসর ২.৭ লক্ষের বেশি Panchayati Raj Institutions, যা ২৮টি রাজ্য এবং ৬টি Union Territory-তে বিস্তৃত বলে মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
এটি দেখায় যে গ্রামীণ স্থানীয় প্রশাসনের ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় প্ল্যাটফর্মটির পরিসর যথেষ্ট বড়।
ভবিষ্যতে এর গুরুত্ব আরও কেন বাড়বে?
ভারতের গ্রামীণ উন্নয়নে পঞ্চায়েত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্তর। গ্রামের রাস্তা, পানীয় জল, আলো, পরিকাঠামো, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প এবং স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে পঞ্চায়েত সরাসরি যুক্ত।
এই বিপুল পরিমাণ কাজের তথ্য যদি ডিজিটালভাবে সংগ্রহ করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে:
- আরও উন্নত monitoring
- Data-driven planning
- উন্নয়ন প্রকল্পের তুলনামূলক বিশ্লেষণ
- আর্থিক accountability
- দ্রুত reporting
- GIS-based planning
- digital record keeping
আরও কার্যকরভাবে করা সম্ভব হতে পারে।
Ministry of Panchayati Raj ইতিমধ্যেই eGramSwaraj-এর technical ও functional refresh, নতুন KPI এবং emerging technology integration-এর মতো উন্নয়নের কথা উল্লেখ করেছে।
শেষ কথা
eGramSwaraj Portal শুধু একটি website নয়, এটি পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করার একটি বড় উদ্যোগ।
গ্রাম পঞ্চায়েতের পরিকল্পনা থেকে কাজ, কাজ থেকে অগ্রগতি, অগ্রগতি থেকে আর্থিক হিসাব এবং সম্পত্তির রেকর্ড থেকে নাগরিকদের তথ্যভিত্তিক নজরদারি, পুরো ব্যবস্থাকে একটি ডিজিটাল কাঠামোর মধ্যে আনার লক্ষ্যেই eGramSwaraj তৈরি হয়েছে।
সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে এই প্ল্যাটফর্ম পঞ্চায়েতের কাজকে আরও স্বচ্ছ, সংগঠিত, তথ্যভিত্তিক এবং জবাবদিহিমূলক করতে সাহায্য করতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পঞ্চায়েতের উন্নয়ন শুধু পঞ্চায়েত অফিসের বিষয় নয়। গ্রামের মানুষও জানতে চান তাঁদের এলাকার জন্য কী পরিকল্পনা হয়েছে, কোন কাজ হচ্ছে এবং সেই কাজের অগ্রগতি কতটা। সেই নাগরিক সচেতনতার ক্ষেত্রেও eGramSwaraj গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
