পশ্চিমবঙ্গে ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা, প্যারা-শিক্ষকদের ভাতা বৃদ্ধি, ৮০ হাজারের বেশি স্কুলে ২৯৬ কোটি অনুদান

সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

WhatsApp Group
Join Now

WB Announces 50000 Teacher Recruitment 2026: রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে একাধিক বড় ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক নিয়োগ এবং প্যারা-শিক্ষকদের আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি নিয়ে নেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এই ঘোষণাগুলি লক্ষাধিক শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পড়ুয়া এবং অভিভাবকের কাছে স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।

রাজ্যের অনেক সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং সরকারি-স্পনসরড স্কুল দীর্ঘ তিন বছর ধরে ‘কম্পোজিট স্কুল গ্রান্ট’ বা সামগ্রিক স্কুল অনুদান না পাওয়ার কারণে আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হচ্ছিল। এই অচলাবস্থা কাটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের ৮০,৩৭৫টি স্কুলের জন্য মোট ২৯৬.৬৪ কোটি টাকা অনুদান বিতরণের ঘোষণা করেছেন। এছাড়া, রাজ্য সরকার চলতি শিক্ষাবর্ষে প্রায় ৫০,০০০ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করতে পারবে। একই সঙ্গে, তিনি ৪২,১৯২ জন প্যারা-শিক্ষকের মাসিক পারিশ্রমিক ৫,০০০ টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্তও ঘোষণা করেছেন।
বুধবার নবান্নে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করার সময় মুখ্যমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, “শিক্ষাকে অবহেলা করে কোনো রাজ্যের উন্নয়ন সম্ভব নয়। রাস্তা, সেতু বা বহুতল ভবন—যতই বড় নির্মাণ করা হোক না কেন, একটি শক্তিশালী শিক্ষাব্যবস্থা ছাড়া কোনো সমাজ বা জাতির অগ্রগতি সম্ভব নয়।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন, প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী, মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়াল, প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত এবং স্কুল শিক্ষা দপ্তরের প্রধান সচিব (তথা অতিরিক্ত মুখ্য সচিব) বিনোদ কুমার। বক্তব্যের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—রাজ্যজুড়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে কর্মরত শিক্ষক, শিক্ষা প্রশাসনের আধিকারিক এবং স্কুল প্রশাসকদের ধন্যবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত তিন বছর ধরে স্কুলগুলোর প্রাপ্য অর্থ আটকে রাখার কোনো যৌক্তিক কারণ ছিল না। দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন সরকার এই সমস্যার সমাধান করে এবং স্কুলগুলোর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দ্রুত অর্থ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করে।

Google
Add West Bengal Times যুক্ত করুন গুগল-এ পছন্দের উৎস হিসেবে
Add Preference

মুখ্যমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন যে, ‘কম্পোজিট গ্রান্ট’ বা সামগ্রিক অনুদান প্রকল্পের আওতায় মোট তহবিলের ৬০ শতাংশ কেন্দ্রীয় সরকার এবং বাকি ৪০ শতাংশ রাজ্য সরকার প্রদান করে। যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের অর্থ দীর্ঘ সময় ধরে স্কুলগুলোর কাছে পৌঁছায়নি। এখন আরটিজিএস (RTGS) এবং নেট ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে মোট ২৯৬.৬৪ কোটি টাকা সরাসরি ৮০,৩৭৫টি স্কুলের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রতিটি স্কুলের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ হয়তো খুব বেশি নয়, তবে স্কুল রক্ষণাবেক্ষণ, ছোটখাটো মেরামত, বিদ্যুৎ, পানীয় জল, শিক্ষণ-সামগ্রী এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে এই অনুদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিরোধী দলনেত্রী থাকাকালীন তিনি বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শনকালে প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষকদের কাছ থেকে একই অভিযোগ শুনেছিলেন—বছরের পর বছর ধরে তাঁরা ‘কম্পোজিট গ্রান্ট’ বা সামগ্রিক অনুদান পাননি। বর্তমান সরকারের নেতারাও বিধানসভায় বারবার এই বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিশ্রুতিই পূরণ করা হয়েছে।

WB Announces 50000 Teacher Recruitment 2026: কী কী ঘোষণা করা হয়েছে?

রাজ্য সরকারের ঘোষণায় তিনটি বড় বিষয় বিশেষভাবে উঠে এসেছে।

  • চলতি বছরেই প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষক শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করা হবে।
  • প্যারা-শিক্ষকদের মাসিক ভাতা ₹২,০০০ বাড়ানো হয়েছে।
  • ৮০ হাজারের বেশি সরকারি সরকার-পোষিত স্কুলের জন্য মোট ₹২৯৬.কোটি টাকার অনুদান বরাদ্দ করা হয়েছে।

৮০ হাজারের বেশি স্কুলে ২৯৬.কোটি অনুদান

সরকার জানিয়েছে, রাজ্যের ৮০,৩৩৭টি সরকারি সরকার-পোষিত বিদ্যালয়ের জন্য মোট ২৯৬.কোটি বরাদ্দ করা হয়েছে।

এই অর্থ স্কুলগুলির দৈনন্দিন পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • বিদ্যালয়ের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
  • বিদ্যুৎ বিল
  • পানীয় জলের ব্যবস্থা
  • ছোটখাটো মেরামতির কাজ
  • শিক্ষা-সংক্রান্ত অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ

এর ফলে স্কুলগুলির প্রশাসনিক কাজ আরও সহজ হবে এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বছরই ৫০ হাজার শিক্ষক শিক্ষাকর্মী নিয়োগ

মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, চলতি বছরের মধ্যেই প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষক অশিক্ষক কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে

দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা চাকরিপ্রার্থীদের কাছে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর। নতুন নিয়োগের ফলে বহু শূন্যপদ পূরণ হবে এবং বিভিন্ন সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ওলা-উবারের মতো এবার অ্যাপে বুক হবে অ্যাম্বুলেন্স! আগেই জানা যাবে ভাড়া, ৬ মাসের মধ্যে চালু হতে পারে নতুন সরকারি পরিষেবা

WB Announces 50000 Teacher Recruitment 2026: প্যারা-শিক্ষকদের জন্য বড় সুখবর

রাজ্যের ৪২ হাজার ১৯১ জন প্যারা-শিক্ষকের মাসিক ভাতা ২,০০০ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে ভাতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছিলেন প্যারা-শিক্ষকরা। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তাঁদের আর্থিক স্বস্তি বাড়বে।

স্কুল পরিচালনায় কী সুবিধা হবে?

অনুদানের অর্থ স্কুলগুলির বিভিন্ন জরুরি খাতে ব্যবহার করা যাবে। যেমন:

  • ভবনের ছোটখাটো সংস্কার
  • বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের বিল
  • পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি
  • শিক্ষাসামগ্রী সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যয়
  • অন্যান্য প্রশাসনিক খরচ

এর ফলে বিদ্যালয়গুলির দৈনন্দিন কাজকর্ম আরও নির্বিঘ্ন হবে।

WB Announces 50000 Teacher Recruitment 2026: চাকরিপ্রার্থীদের জন্য কী বার্তা?

শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণায় রাজ্যের হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী নতুন করে আশার আলো দেখছেন। তবে নিয়োগের বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি, যোগ্যতা, আবেদন পদ্ধতি ও সময়সূচি সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী সংস্থা প্রকাশ করবে। তাই সরকারি বিজ্ঞপ্তির উপর নজর রাখা জরুরি।

শিক্ষা খাতে সরকারের লক্ষ্য

সরকারের দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষক সংখ্যা বৃদ্ধি করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। একদিকে নতুন নিয়োগ, অন্যদিকে স্কুলগুলিকে আর্থিক সহায়তা এবং প্যারা-শিক্ষকদের ভাতা বৃদ্ধি শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

একসঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ, প্যারা-শিক্ষকদের ভাতা বৃদ্ধি এবং হাজার হাজার স্কুলে আর্থিক অনুদানের ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন সকলের নজর থাকবে নিয়োগের সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও এই ঘোষণাগুলির বাস্তবায়নের দিকে।

Swastika Paul
Swastika Paulhttps://swastikapaul.in/
Swastika Paul is a distinguished innovator, educator, and the Principal of Tehatta Government ITI. Holding an M.Tech in Communication Engineering, she is dedicated to bridging the digital divide in rural India through technical skill development and inclusive leadership. A recognized voice in grassroots innovation, Swastika was honored with the "Principal of the Year" award at the Asia Education Conclave 2025. Beyond academia, she is the Co-founder of SD ONUPRON GROUP, where she has spent over 6 years curating impactful content on education, technology, and social awareness. Her dual expertise in engineering and digital media makes her a trusted authority in the evolving landscape of Indian technical education and social entrepreneurship.

Read more

Local News