সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
Har Ghar Tiranga 2026: স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যজুড়ে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ (Har Ghar Tiranga) কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নবান্নের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ৯ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত সরকারি দপ্তর, জেলা প্রশাসন, পুরসভা, পঞ্চায়েত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে এই কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার ৯ই আগস্ট থেকে ১৭ই আগস্ট পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে দেশব্যাপী ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানের আয়োজন করতে চলেছে; রাজ্যে বিজেপির ক্ষমতায় আসার পর এটিই হবে এ ধরনের প্রথম কোনো বড় মাপের কর্মসূচি। দেশপ্রেমের প্রসার ঘটানো, জাতীয় সংহতি সুদৃঢ় করা এবং মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনে উৎসাহিত করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের একটি নির্দেশনার ভিত্তিতে এই কর্মসূচিটি পরিকল্পনা করা হয়েছে। কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী, তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক বিভাগের সচিব সৌমিত্র মোহন পশ্চিমবঙ্গজুড়ে এই অভিযান বাস্তবায়নের বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছেন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন একটি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ বছরের অভিযানটিকে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০তম বার্ষিকীর উদযাপনের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। এই উদযাপনের অংশ হিসেবে, জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের এবং ডিজিটাল—উভয় ধরনের অনুষ্ঠানেই ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ পোর্টালে যারা সেলফি আপলোড করবেন, তাদের ছবিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ‘বন্দে মাতরম’-এর কথা (লিরিক্স) যুক্ত হয়ে যাবে। রাজ্য সরকার জেলা প্রশাসন, কলকাতা পৌরসংস্থা, অন্যান্য পৌরসভা, পঞ্চায়েত এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে যৌথভাবে এই অভিযান বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে।
এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হল জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান, দেশপ্রেমের চেতনা এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ আরও বাড়িয়ে তোলা।
Har Ghar Tiranga: ৯ দিন ধরে চলবে বিভিন্ন দেশাত্মবোধক কর্মসূচি
নবান্নের নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন ধরনের দেশাত্মবোধক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে:
- তেরঙ্গা যাত্রা (Tiranga Yatra)
- প্রভাত ফেরি
- জাতীয় পতাকা উত্তোলন
- দেশাত্মবোধক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
- ‘বন্দে মাতরম’ ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন
- রচনা, অঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতা
- পরিচ্ছন্নতা অভিযান
- বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
- ম্যারাথন ও সাইকেল র্যালি
- স্বাধীনতা সংগ্রাম বিষয়ক আলোচনা ও প্রদর্শনী
এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন ও বিভিন্ন স্থাপনা তেরঙ্গার রঙে আলোকসজ্জা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় পতাকা উত্তোলনে মানতে হবে ফ্ল্যাগ কোড
নবান্ন জানিয়েছে, কর্মসূচি চলাকালীন জাতীয় পতাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে Flag Code of India কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দোকান বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্য উৎসাহিত করা হবে।
Har Ghar Tiranga: জেলা প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশ
জেলাশাসক, পুরসভা, সরকারি দপ্তর এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সংস্থাকে কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন কর্মসূচিতে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রচার চালানোরও নির্দেশ রয়েছে। পাশাপাশি কর্মসূচির ছবি ও তথ্য নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড এবং কার্যক্রমের রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ ‘হর ঘর তেরঙ্গা’?
২০২২ সালে ‘আজাদি কা অমৃত মহোৎসব’-এর অংশ হিসেবে শুরু হওয়া হর ঘর তেরঙ্গা অভিযান এখন একটি সর্বভারতীয় জনঅংশগ্রহণমূলক কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। এবছরও ৯ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত দেশজুড়ে এই কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য জাতীয় পতাকার প্রতি মানুষের আবেগ, সম্মান এবং দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার অনুভূতি আরও জোরদার করা।
সাধারণ মানুষের জন্য কী বার্তা?
স্বাধীনতা দিবসের আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকার নাগরিকদের এই কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, স্থানীয় তেরঙ্গা যাত্রায় অংশগ্রহণ এবং দেশাত্মবোধক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রত্যেকেই এই উদ্যোগের অংশ হতে পারেন।
