সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
D.El.Ed Biometric Attendance Mandatory: পশ্চিমবঙ্গের ডিএলএড (D.El.Ed.) শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ (WBBPE)। পর্ষদ জানিয়েছে, রাজ্যের এনসিটিই (NCTE) স্বীকৃত এবং WBBPE-র অধিভুক্ত সমস্ত ডিএলএড কলেজে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীদের জন্য বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক।
পর্ষদের স্পষ্ট নির্দেশ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা চালু না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনুমোদন প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। নতুন এই নির্দেশিকা ইতিমধ্যেই শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
D.El.Ed Biometric Attendance Mandatory: কী জানিয়েছে WBBPE?
১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ জানিয়েছে, ডিএলএড প্রতিষ্ঠানগুলিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীদের উপস্থিতি সঠিকভাবে নথিভুক্ত করার জন্য বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।
পর্ষদের মতে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জাতীয় শিক্ষক শিক্ষা পরিষদ (NCTE)-এর নির্দেশিকা অনুসরণ করে। ২০১৯ সালেই এনসিটিই দেশের সমস্ত স্বীকৃত শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি চালুর নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ কার্যকর করতেই এবার আরও কঠোর অবস্থান নিল WBBPE।
আগেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চ মাসে পর্ষদ ইতিমধ্যেই একটি নির্দেশ জারি করেছিল। সেখানে ডিএলএড কলেজগুলিকে ৩০ দিনের মধ্যে বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা চালু করতে বলা হয়েছিল।
তবে অনেক প্রতিষ্ঠান এখনও সেই নির্দেশ সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করেনি। তাই এবার নতুন করে নির্দেশ জারি করে জানানো হয়েছে, আর দেরি নয়, অবিলম্বে বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
D.El.Ed Biometric Attendance Mandatory: অনুমোদন বাতিল হতে পারে
পর্ষদ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, যদি কোনও প্রতিষ্ঠান বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা চালু না করে, তাহলে NCTE Act, 1993-এর ধারা ১৭ অনুযায়ী অনুমোদন প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
অর্থাৎ, শুধুমাত্র নির্দেশ জারি করেই থেমে থাকছে না পর্ষদ, প্রয়োজনে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপও নেওয়া হবে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি: ডাউনলোড
নবীকরণের ক্ষেত্রেও বাধ্যতামূলক
শুধু বর্তমান শিক্ষাবর্ষ নয়, ভবিষ্যতে ডিএলএড কলেজগুলির অধিভুক্তি নবীকরণ (Affiliation Renewal)-এর ক্ষেত্রেও বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।
যে প্রতিষ্ঠান সফলভাবে এই ব্যবস্থা চালু ও পরিচালনা করবে, তাদের ক্ষেত্রেই অনুমোদন নবীকরণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
উপস্থিতির নিয়মও মানতে হবে
এনসিটিই-র নিয়ম অনুযায়ী ডিএলএড শিক্ষার্থীদের জন্য উপস্থিতির নির্দিষ্ট মানদণ্ড রয়েছে।
- কোর্স ও প্র্যাকটিকামের জন্য কমপক্ষে ৮০ শতাংশ উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।
- স্কুল ইন্টার্নশিপের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৯০ শতাংশ উপস্থিতি থাকতে হবে।
বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থার মাধ্যমে এই উপস্থিতির তথ্য আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ করা হবে।
D.El.Ed Biometric Attendance Mandatory: কোন কোন প্রতিষ্ঠানে এই নির্দেশ প্রযোজ্য?
এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে—
- সরকারি DIET
- সরকারি ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত PTTI
- সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ডিএলএড কলেজ
- স্বনির্ভর (Self-financed) বেসরকারি ডিএলএড প্রতিষ্ঠান
- NCTE স্বীকৃত ও WBBPE-র অধিভুক্ত সমস্ত শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান
কেন এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়োমেট্রিক উপস্থিতি চালু হলে ভুয়ো উপস্থিতি, প্রক্সি সই এবং উপস্থিতি সংক্রান্ত অনিয়ম অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে শিক্ষক প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং স্বচ্ছতা বাড়বে।
পর্ষদও মনে করছে, ডিজিটাল উপস্থিতি ব্যবস্থা চালু হলে ভবিষ্যতে শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলির প্রশাসনিক কাজ আরও সহজ ও নির্ভুল হবে।
ডিএলএড কলেজগুলির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ। যেসব প্রতিষ্ঠান এখনও বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা চালু করেনি, তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় শুধু অনুমোদন নবীকরণই নয়, প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতিও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
