সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
West Bengal Higher Education: পশ্চিমবঙ্গের নতুন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দু’মাসের মাথায় উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় একাধিক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন। তাঁর কথায়, বর্তমান সরকারের প্রথম লক্ষ্য হল দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষা প্রশাসন এবং রাজনীতিমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। পাশাপাশি, গত ১৫ বছরে গড়ে ওঠা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে থরো অডিট ও ইন্সপেকশন চালানোর কথাও জানিয়েছেন তিনি।
দুর্নীতিমুক্ত ও রাজনীতিমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থাই প্রথম লক্ষ্য
উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব এবং দুর্নীতির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, গত ১৫ বছরে মেধার পরিবর্তে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায়।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়।
Read More : পশ্চিমবঙ্গে নতুন বেসরকারি কলেজে ২ বছর NOC নয়, কড়া নজরদারিতে পুরনো প্রতিষ্ঠান
উপাচার্যদের বিরুদ্ধেও হতে পারে কড়া পদক্ষেপ
শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, অতীতে শিক্ষামন্ত্রীর জেল যাওয়ার ঘটনা রাজ্য দেখেছে। ভবিষ্যতে যদি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধেও তদন্ত বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
তাঁর বক্তব্য, শিক্ষা ব্যবস্থায় যেখানেই অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ মিলবে, সেখানে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেসরকারি কলেজে অডিট, নতুন অনুমোদনে কড়াকড়ি
উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জানান, গত কয়েক বছরে ফার্মাসি কলেজ, আইটিআই, বিএড, পলিটেকনিক-সহ বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। তাঁর অভিযোগ, এর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান কার্যত “ডিগ্রি বিক্রির দোকান” হিসেবে কাজ করেছে।
তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন যে আপাতত নতুন কোনো বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়ার আগে গত ১৫ বছরে অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলির উপর বিস্তৃত অডিট ও পরিদর্শন চালানো হবে।
কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে ফের ছাত্রছাত্রীদের কাছে আকর্ষণীয় করার লক্ষ্য
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, ছাত্র ভোট তখনই হবে যখন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক ছাত্রছাত্রী থাকবে।
তাঁর মতে, বর্তমানে সরকারের প্রথম কাজ হল সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে এমনভাবে গড়ে তোলা যাতে ছাত্রছাত্রীরা আবার সেসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে আগ্রহী হয়। শিক্ষার মান, পরিকাঠামো এবং স্বচ্ছ প্রশাসনের মাধ্যমে সেই আস্থা ফিরিয়ে আনাই সরকারের লক্ষ্য।
শিক্ষক নিয়োগে মেধাই হবে একমাত্র মানদণ্ড
শিক্ষক ও গবেষক নিয়োগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়ে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ভবিষ্যতে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও মেধার ভিত্তিতে।
তিনি স্পষ্ট করেন, মুখ চেনা, রাজনৈতিক প্রভাব বা আর্থিক লেনদেনের ভিত্তিতে কোনো নিয়োগ হবে না। যোগ্যতা ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নের ভিত্তিতেই শিক্ষক ও গবেষক নির্বাচন করা হবে।
শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের ইঙ্গিত
উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, নতুন সরকার উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে একাধিক কাঠামোগত পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চায়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অডিট, স্বচ্ছ নিয়োগ এবং সরকারি কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার পরিকল্পনাই আগামী দিনে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা নীতির মূল ভিত্তি হতে চলেছে।
