সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ১২ পাতার ফর্ম: রাজ্যে নতুন করে চালু হতে চলা ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্প নিয়ে এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রতি মাসে ৩,০০০ আর্থিক সহায়তার খবর সামনে আসার পর বহু মহিলা ইতিমধ্যেই ফর্ম সংগ্রহ করতে শুরু করেছেন। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয়েছে অন্য জায়গায়।
সরকারি ভাবে প্রকাশিত ১২ পাতার বিশাল ফর্ম দেখে অনেকেই বুঝতে পারছেন না কোথায় কী লিখতে হবে, কোন তথ্য লাগবে, আবার কোন কোন ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে। অনেকেই আতঙ্কে রয়েছেন, ভুল করলে টাকা পাওয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
তাই আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা একেবারে সহজ ভাষায় জানাব, অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ১২ পাতার ফর্ম কীভাবে সঠিকভাবে পূরণ করবেন, কোন ঘরে কী তথ্য দিতে হবে এবং কোথায় জমা করতে হবে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই ফর্ম?
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে যারা ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদেরও নতুন করে এই ফর্ম জমা করতে হতে পারে। কারণ এবার সরকার নতুন করে সমস্ত তথ্য যাচাই করছে।
যদি ফর্মে ভুল তথ্য দেওয়া হয় বা প্রয়োজনীয় নথি জমা না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সুবিধা বন্ধও হয়ে যেতে পারে।
প্রথমেই কী তথ্য দিতে হবে?
ফর্মের শুরুতেই পরিবারের প্রধানের তথ্য দিতে হবে।
এখানে যা যা লাগবে:
- পরিবারের প্রধানের নাম
- জন্ম তারিখ
- লিঙ্গ
- আধার নম্বর
- ডিজিটাল রেশন কার্ডের পারিবারিক আইডি
- পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা
- সম্পূর্ণ ঠিকানা
- আধার-লিঙ্কড মোবাইল নম্বর
সব তথ্য অবশ্যই আধার কার্ড অনুযায়ী দিতে হবে।
পরিবারের সদস্যদের তথ্য কীভাবে লিখবেন?
ফর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল পরিবারের সমস্ত সদস্যের তথ্য।
প্রত্যেক সদস্যের জন্য দিতে হবে:
- নাম
- জন্ম তারিখ
- পুরুষ না মহিলা
- পরিবারের প্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক
- আধার নম্বর
এছাড়াও, পরিবারের কোন মহিলা ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র জন্য আবেদন করছেন, তাঁর নামের পাশে “হ্যাঁ” অপশনে টিক দিতে হবে।
কী কী নথি লাগতে পারে?
সরকারি বিজ্ঞপ্তি এখনও সম্পূর্ণ প্রকাশ না হলেও সম্ভাব্য নথির তালিকা:
. আধার কার্ড (পরিবারের প্রধান ও সকল সদস্যের)
২. আধারের সঙ্গে সংযুক্ত মোবাইল নম্বর
৩. ডিজিটাল রেশন কার্ড / পরিবার আইডি (যদি থাকে)
৪. ব্যাংক পাসবুক
৫. ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও IFSC কোড
৬. ভোটার কার্ড (EPIC)
৭. জাতিগত শংসাপত্র (SC/ST/OBC হলে)
৮. EWS শংসাপত্র (যদি প্রযোজ্য হয়)
৯. জমির নথি (রেজিস্ট্রেশন, মিউটেশন, RoR কপি)
১০. গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নথি (যদি থাকে)
১১. স্বাস্থ্য বিমার নথি (যদি থাকে)
১২. PAN কার্ড (যদি থাকে)
১৩. আয়ের তথ্য / স্বঘোষণাপত্র
১৪. পেনশন স্লিপ (পেনশনভোগীদের জন্য)
১৫. GST নিবন্ধন নথি (যদি থাকে)
১৬. CAA আবেদন / শংসাপত্র (যদি প্রযোজ্য হয়)
১৭. KCC / স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড / অন্যান্য ক্রেডিট কার্ডের তথ্য (যদি থাকে)
১৮. শিশুদের স্কুল সংক্রান্ত তথ্য
১৯. শিশুদের টিকাকরণ কার্ড
২০. সরকারি প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণের নথি (DBT সম্পর্কিত)
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ফর্ম PDF ডাউনলোড
নিচের অংশে PDF ফর্ম যুক্ত করা হবে:
- অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার আবেদন ফর্ম PDF:Annapurna_Yojana_Family_Level_Data_Collection_Form_Bengali
- অফিসিয়াল আবেদন ওয়েবসাইট: https://socialsecurity.wb.gov.in/login?
ANNAPURNA BHANDAR FORM PDF DOWNLOAD
Download the Annapurna Bhandar Application Form in English by clicking the button below.
Download English Application Form PDF : Annapurna_Yojana_Family_Level_Data_Collection_Form
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
সরকার জানিয়েছে, টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। তাই ব্যাঙ্কের তথ্য খুব সতর্কতার সঙ্গে দিতে হবে।
যা যা লাগবে:
- ব্যাঙ্কের নাম
- অ্যাকাউন্ট নম্বর
- IFSC কোড
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার লিঙ্ক থাকতে হবে।
ভোটার কার্ডের তথ্যও বাধ্যতামূলক
ফর্মে পরিবারের সমস্ত প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের ভোটার আইডির তথ্যও দিতে হবে।
এখানে লাগবে:
- EPIC নম্বর
- বিধানসভা ক্ষেত্রের নাম
- অংশ নম্বর
এই তথ্য ভোটার তালিকা থেকে পাওয়া যাবে।
রেশন কার্ডের তথ্য কীভাবে দেবেন?
ফর্মে জানতে চাওয়া হয়েছে:
- ডিজিটাল রেশন কার্ড আছে কি না
- কোন ধরনের রেশন কার্ড
- প্রতি মাসে রেশন তোলা হয় কি না
যে ধরনের কার্ড রয়েছে, সেই অপশনে টিক দিতে হবে।
বাড়ি, জমি ও গাড়ির তথ্যও দিতে হবে
সরকার এবার পরিবারের আর্থিক অবস্থা বিস্তারিত ভাবে যাচাই করছে। তাই ফর্মে বাড়ি, জমি ও গাড়ির তথ্যও দিতে হচ্ছে।
যেমন:
- তিনটির বেশি পাকাঘর আছে কি না
- জমির পরিমাণ
- চার চাকার গাড়ি আছে কি না
- গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর
স্বাস্থ্যবিমা ও আয়ের তথ্যও দিতে হবে
ফর্মে জানতে চাওয়া হয়েছে:
- স্বাস্থ্যবিমা আছে কি না
- সরকারি না বেসরকারি বিমা
- কত প্রিমিয়াম দেওয়া হয়
- পরিবারের কেউ আয়কর দেন কি না
- প্যান কার্ডের তথ্য
- পরিবারের মোট বার্ষিক আয়
এখানে ভুল তথ্য দিলে পরে সমস্যা হতে পারে বলে প্রশাসনের সতর্কবার্তা।
পরিবারের সদস্যদের পেশার তথ্যও লাগবে
ফর্মে প্রত্যেক সদস্যের পেশা উল্লেখ করতে হবে।
যেমন:
- সরকারি চাকরি
- বেসরকারি চাকরি
- কৃষক
- শ্রমিক
- শিল্পী
- পরিযায়ী শ্রমিক
- বেকার
যে পেশা হবে, সেই অপশনে টিক দিতে হবে।
শিশুদের তথ্যও দিতে হবে
যদি পরিবারে স্কুলে পড়ুয়া শিশু থাকে, তাহলে তাদের:
- নাম
- কোন ক্লাসে পড়ে
- স্কুলের নাম
- সরকারি না বেসরকারি স্কুল
এসব তথ্যও দিতে হবে।
কোন কোন ডকুমেন্ট লাগবে?
সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠছে ডকুমেন্ট নিয়ে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ফর্মের সঙ্গে নিচের নথিগুলি জমা দিতে হতে পারে:
- আধার কার্ড
- ভোটার কার্ড
- রেশন কার্ড
- প্যান কার্ড
- ব্যাঙ্ক পাসবই
- পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- জমির কাগজ
- GST সার্টিফিকেট (যদি থাকে)
- গাড়ির কাগজ
- স্বাস্থ্যবিমার নথি
পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের নথি লাগতে পারে।
কোথায় জমা করবেন ফর্ম?
ফর্ম পূরণ হয়ে গেলে নিচের অফিসগুলিতে জমা করা যাবে:
- বিডিও অফিস
- এসডিও অফিস
- ডিএম অফিস
- পঞ্চায়েত অফিস
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা
প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে সরকারি সুবিধাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই ফর্ম জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ১২ পাতার ফর্ম প্রথমে কঠিন মনে হলেও ধীরে ধীরে পড়লে এবং সঠিক নথি জোগাড় করলে ফর্ম পূরণ করা খুব একটা কঠিন নয়। সবচেয়ে জরুরি হল, কোনও তথ্য গোপন না করা এবং সব নথি সঠিকভাবে জমা দেওয়া।
আগামী দিনে এই প্রকল্পে লক্ষ লক্ষ মহিলা যুক্ত হতে পারেন বলেই মনে করছে প্রশাসন। তাই এখন থেকেই ফর্ম পূরণের নিয়ম জেনে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
