WB UDAN Prakalpa 2026 | পশ্চিমবঙ্গে ৪ নতুন বিমানবন্দর, বড় ঘোষণা নবান্নে! কলকাতা থেকে লন্ডন ও ইউরোপে সরাসরি বিমান পরিষেবার আবেদন

সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

WhatsApp Group
Join Now

WB UDAN Prakalpa 2026: পশ্চিমবঙ্গের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল নবান্ন থেকে। উড়ান (UDAN) প্রকল্পের আওতায় রাজ্যে আরও চারটি বিমানবন্দরকে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হল। সোমবার নবান্নে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে এই সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক বা MoU স্বাক্ষরিত হয়েছে। নতুন বিমানবন্দরগুলির তালিকায় রয়েছে পুরুলিয়ার ছররা, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুণ্ডা।

এই চারটি বিমানবন্দর চালু হলে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলার সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে। এতদিন কলকাতা এবং কয়েকটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করেই রাজ্যের বিমান পরিষেবা মূলত সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন এই উদ্যোগ সফল হলে জেলার মানুষের কলকাতা বা অন্য রাজ্যে যাতায়াতের পাশাপাশি পর্যটন, শিল্প, ব্যবসা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

WB UDAN Prakalpa 2026: নবান্নে উড়ান প্রকল্পের MoU স্বাক্ষর

উড়ান প্রকল্পের আওতায় চারটি বিমানবন্দর নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে, তার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় নবান্নে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী রামমোহন নাইডু এবং রাজ্য সরকারের শীর্ষ আধিকারিকরা। Airport Authority of India বা AAI-এর সঙ্গেও এই প্রকল্পে সমন্বয় করে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

Google
Add West Bengal Times যুক্ত করুন গুগল-এ পছন্দের উৎস হিসেবে
Add Preference

এই চুক্তির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে থাকা এবং ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিকে বিমান যোগাযোগের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উড়ান প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই হল দেশের ছোট শহর ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলিকে বিমান পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত করা এবং সাধারণ মানুষের জন্য আকাশপথের যোগাযোগ আরও সহজলভ্য করা।

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ এবং পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনও বিমান যোগাযোগ সীমিত। ফলে দূরবর্তী জেলার বাসিন্দাদের অনেক সময় সড়ক বা রেলপথে দীর্ঘ সময় যাত্রা করে কলকাতা কিংবা অন্য বিমানবন্দরে পৌঁছতে হয়।

WB UDAN Prakalpa 2026: কোন চারটি বিমানবন্দর তৈরি বা উন্নয়ন হবে?

উড়ান প্রকল্পের আওতায় যে চারটি বিমানবন্দরকে সামনে রাখা হয়েছে, সেগুলি হল:

১. ছররা বিমানবন্দর, পুরুলিয়া
পুরুলিয়ার ছররা এলাকায় বিমান যোগাযোগ চালু হলে জঙ্গলমহলের একটি বড় অংশ সরাসরি আকাশপথের নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারে। পুরুলিয়ার পর্যটন শিল্পের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অযোধ্যা পাহাড়সহ জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে বাইরের রাজ্য থেকে পর্যটকদের যাতায়াত সহজ করার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

২. বালুরঘাট বিমানবন্দর, দক্ষিণ দিনাজপুর
দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট জেলার সদর শহর। ভৌগোলিকভাবে এটি রাজ্যের উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বিমান পরিষেবা চালু হলে জেলার বাসিন্দাদের কলকাতা এবং অন্যান্য শহরের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের সুযোগ বাড়বে।

৩. হাসিমারা বিমানবন্দর, আলিপুরদুয়ার
উত্তরবঙ্গের পর্যটন ও প্রতিরক্ষা উভয় ক্ষেত্রেই হাসিমারার গুরুত্ব রয়েছে। ডুয়ার্স, জলদাপাড়া, বক্সা এবং পার্শ্ববর্তী পর্যটন এলাকাগুলিতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিমান পরিষেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পর্যটনের পাশাপাশি ব্যবসায়িক যোগাযোগও বাড়তে পারে।

৪. কলাইকুণ্ডা, পশ্চিম মেদিনীপুর
পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুণ্ডা দীর্ঘদিন ধরেই বিমান চলাচলের সঙ্গে পরিচিত একটি এলাকা। উড়ান প্রকল্পের আওতায় এটিকে যাত্রীবাহী বিমান পরিষেবার জন্য ব্যবহার করা গেলে পশ্চিম মেদিনীপুরসহ পার্শ্ববর্তী জেলার মানুষের জন্য নতুন যোগাযোগের পথ খুলতে পারে।

কলকাতা থেকে লন্ডন ও ইউরোপে সরাসরি বিমান পরিষেবার দাবি

চারটি বিমানবন্দর নিয়ে MoU স্বাক্ষরের পাশাপাশি কলকাতার আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ দাবি উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রীর কাছে কলকাতা থেকে লন্ডন এবং ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালুর আবেদন জানিয়েছেন।

কলকাতা দেশের পূর্বাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহানগর। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বহু মানুষ আন্তর্জাতিক যাত্রার জন্য কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। ফলে কলকাতা থেকে সরাসরি ইউরোপীয় শহরগুলিতে বিমান পরিষেবা চালু হলে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা পূর্ব ভারতের যাত্রীদের উপকার হতে পারে।

বিশেষ করে লন্ডন, প্যারিস, ফ্রাঙ্কফুর্ট, রোম, আমস্টারডাম বা ইউরোপের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরাসরি বিমান পরিষেবা থাকলে যাত্রার সময় কমবে এবং সংযোগকারী বিমানবন্দরে অপেক্ষার ঝামেলাও অনেকটা কমতে পারে।

আরও পড়ুন: একাদশ-দ্বাদশে শিক্ষক নিয়োগের ভেরিফিকেশন ও Oral Interview-এর সূচি প্রকাশ, শুরু ৮ অক্টোবর ২০২৬, Official Notification

WB UDAN Prakalpa 2026: ব্যবসা ও পর্যটনে কী প্রভাব পড়তে পারে?

বিমান যোগাযোগ শুধু যাত্রী পরিবহণের বিষয় নয়। একটি নতুন বিমানবন্দর তৈরি হলে তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।

হোটেল, রেস্তরাঁ, গাড়ি পরিষেবা, পর্যটন সংস্থা, স্থানীয় পরিবহণ, ছোট ব্যবসা এবং বিভিন্ন পরিষেবা খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। পুরুলিয়া ও আলিপুরদুয়ারের মতো পর্যটনসমৃদ্ধ জেলায় এর প্রভাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

অন্যদিকে বালুরঘাট বা পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো অঞ্চলে ব্যবসায়িক যাতায়াত দ্রুত হলে শিল্প ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও সুবিধা হতে পারে। ব্যবসায়ীরা কম সময়ে কলকাতা বা দেশের অন্যান্য শহরে পৌঁছতে পারবেন। একইভাবে বাইরের রাজ্যের বিনিয়োগকারী ও পর্যটকদের কাছেও এই অঞ্চলগুলি আরও সহজে পৌঁছনোর মতো হয়ে উঠতে পারে।

শুধু বিমানবন্দর তৈরি নয়, নিয়মিত পরিষেবাই বড় চ্যালেঞ্জ

তবে বিমানবন্দর তৈরি হলেই যে নিয়মিত বিমান পরিষেবা নিশ্চিত হয়ে যাবে, এমনটা নয়। একটি বিমানবন্দরকে সফল করতে হলে পর্যাপ্ত যাত্রী চাহিদা, উপযুক্ত বিমান সংস্থা, নিয়মিত রুট, ভালো সড়ক যোগাযোগ এবং বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশেষ করে ছোট শহরগুলিতে বিমান পরিষেবা চালু করার ক্ষেত্রে ভাড়া সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। উড়ান প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্যও হল সাধারণ মানুষের জন্য বিমান যাত্রাকে আরও সাশ্রয়ী করা।

চারটি বিমানবন্দরের ক্ষেত্রেও তাই পরবর্তী ধাপে রানওয়ে, টার্মিনাল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নেভিগেশন সুবিধা, সড়ক যোগাযোগ এবং বিমান সংস্থার পরিষেবা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

WB UDAN Prakalpa 2026: পশ্চিমবঙ্গের বিমান যোগাযোগে বড় সম্প্রসারণের ইঙ্গিত

রাজ্যে চারটি নতুন বিমানবন্দরকে উড়ান প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্তকে তাই শুধুমাত্র একটি পরিকাঠামোগত প্রকল্প হিসেবে দেখলে হবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের দ্রুত যোগাযোগের সুযোগ, পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিকে আরও সক্রিয় করার সম্ভাবনা।

একদিকে পুরুলিয়া, বালুরঘাট, হাসিমারা ও কলাইকুণ্ডার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে বিমান পরিষেবার আওতায় আনার উদ্যোগ, অন্যদিকে কলকাতা থেকে লন্ডন ও ইউরোপে সরাসরি বিমান পরিষেবার দাবি। সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিমান যোগাযোগকে নতুনভাবে সাজানোর একটি বড় পরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলছে।

এখন নজর থাকবে MoU স্বাক্ষরের পর বাস্তবে কাজ কত দ্রুত এগোয়, চারটি বিমানবন্দরে পরিকাঠামো তৈরির কাজ কবে শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত কোন কোন রুটে নিয়মিত যাত্রীবাহী বিমান চলাচল শুরু হয়।

যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে যায়, তাহলে আগামী দিনে কলকাতাকেন্দ্রিক বিমান যোগাযোগের পাশাপাশি পুরুলিয়া থেকে দক্ষিণ দিনাজপুর, উত্তরবঙ্গ থেকে পশ্চিম মেদিনীপুর পর্যন্ত রাজ্যের আরও বিস্তীর্ণ অংশ আকাশপথের নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারে। একইসঙ্গে কলকাতা থেকে ইউরোপের সরাসরি বিমান পরিষেবা চালুর দাবি বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগের ক্ষেত্রেও শহর কলকাতার গুরুত্ব আরও বাড়বে।

Swastika Paul
Swastika Paulhttps://swastikapaul.in/
Swastika Paul is a distinguished innovator, educator, and the Ex-Principal of Tehatta Government ITI. Holding an M.Tech in Communication Engineering, she is dedicated to bridging the digital divide in rural India through technical skill development and inclusive leadership. A recognized voice in grassroots innovation, Swastika was honored with the "Principal of the Year" award at the Asia Education Conclave 2025. Beyond academia, she is the Co-founder of SD ONUPRON GROUP, where she has spent over 6 years curating impactful content on education, technology, and social awareness. Her dual expertise in engineering and digital media makes her a trusted authority in the evolving landscape of Indian technical education and social entrepreneurship.

Read more

Local News