সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
WB Fake Doctors List 2026: পশ্চিমবঙ্গে ভুয়ো চিকিৎসক এবং জাল নথি ব্যবহার করে মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশন নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা কয়েকজনের মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশন বাতিল হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। প্রকাশ্যে আসা তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা এবং পূর্ব বর্ধমানের একাধিক ব্যক্তির নাম এই ঘটনায় উঠে এসেছে।
তবে পুরো বিষয়টিই বর্তমানে অভিযোগ ও তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে। কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না।
WB Fake Doctors List 2026: কারা রয়েছেন তালিকায়?
প্রকাশিত তালিকায় মোট পাঁচজনের নাম ও তাঁদের কথিত রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে।
- শেখ উনশা হাসান: রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৮৯০৮০। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথর প্রতিমার পূর্ব শ্রীপতিনগরের বাসিন্দা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
- উত্তম মাইতি: রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৮৩১০৮। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলির ভুবনেশ্বরীর বাসিন্দা বলে তালিকায় উল্লেখ।
- হাফিজুর হালদার: রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৭৭৩৪৮। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজারের বাঁশীধরপুর হালদারপাড়ার বাসিন্দা বলে উল্লেখ রয়েছে।
- জুলফিকার মণ্ডল: রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৮৯০২১। উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার চড়ুইগাছির বাসিন্দা বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
- শেখ সাইদুল হক: রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৮০১৯৮। পূর্ব বর্ধমানের তালিতের আলমপুরের বাসিন্দা বলে তালিকায় দাবি করা হয়েছে।
এই নামগুলির ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও ঠিকানাগুলি প্রকাশিত প্রতিবেদনে যেভাবে দেওয়া হয়েছে, সেভাবেই এখানে তুলে ধরা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হবে।
পশ্চিমবঙ্গে ভুয়ো চিকিৎসকদের PDF ডাউনলোড করুন: Comming Soon
জাল নথি দিয়ে রেজিস্ট্রেশনের অভিযোগ
অভিযোগের মূল বিষয় হল, কয়েকজন ব্যক্তি ভিনরাজ্যের, বিশেষ করে বিহার মেডিক্যাল কাউন্সিলের জাল সার্টিফিকেট বা নথি ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলে রেজিস্ট্রেশন নেওয়ার চেষ্টা বা রেজিস্ট্রেশন নেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তদন্তকারী সূত্র ও বেসরকারি হাসপাতাল সংগঠনের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগের কথা সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কেউ আগে ল্যাব টেকনিশিয়ান বা অন্য পেশায় যুক্ত ছিলেন। পরে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত হন বলেও দাবি করা হয়েছে।
কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার এবং নার্সিংহোমে চিকিৎসা করার অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।
পশ্চিমবঙ্গে ভুয়ো চিকিৎসকদের PDF ডাউনলোড করুন: Coming Soon……
WB Fake Doctors List: সোনারপুরের বিশ্বরূপ আচার্যকে ঘিরেও অভিযোগ
এই বিতর্কের মধ্যে বিশ্বরূপ আচার্য নামে আরও এক ব্যক্তির নাম সামনে এসেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের ঘাসিয়াড়া এলাকা থেকে তাঁকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
অভিযোগ, তিনি নিজেকে FRCS এবং MBBS ডিগ্রিধারী ক্যানসার বিশেষজ্ঞ বা অঙ্কোলজিস্ট হিসেবে পরিচয় দিতেন। সোনারপুর এলাকায় তাঁর একাধিক চেম্বার ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তাঁর শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতার বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।
মেডিক্যাল কাউন্সিলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চিকিৎসক সংগঠনগুলির একাংশের দাবি, জাল নথি কীভাবে যাচাই ছাড়াই রেজিস্ট্রেশনের পর্যায়ে পৌঁছল, সেটিও তদন্ত করে দেখা দরকার।
এই প্রসঙ্গে চিকিৎসক সংগঠনগুলির বক্তব্যে কাউন্সিলের কয়েকজন আধিকারিকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তবে কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই প্রকৃত দায় নির্ধারণ করা সম্ভব।
কী হতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ?
পুরো ঘটনায় পুলিশ ও স্বাস্থ্য দফতরের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অভিযোগের নথি, মেডিক্যাল ডিগ্রি, সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশন রেকর্ড এবং অভিযুক্তদের পেশাগত কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখা হতে পারে।
তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন বাতিল, আইনি ব্যবস্থা এবং জাল নথি ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ভুয়ো চিকিৎসক সংক্রান্ত অভিযোগ শুধু একজন ব্যক্তির বিষয় নয়, এটি রোগীর নিরাপত্তা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার আগে ডিগ্রি, বিশ্ববিদ্যালয় এবং কাউন্সিলের নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া কতটা শক্তিশালী ছিল, সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।
গুরুত্বপূর্ণ নোট
এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি বিভিন্ন প্রকাশিত তথ্য ও প্রদত্ত উপাদানের ভিত্তিতে লেখা। তদন্ত বা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
