সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
Tea Workers Annapurna Scheme and Pension 2026: উত্তরবঙ্গের বন্ধ চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য দীপাবলির আগে বড়সড় আর্থিক স্বস্তির ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য সরকারের শ্রম দফতরের উদ্যোগে ২১টি বন্ধ, পরিত্যক্ত ও অচল চা বাগানের মোট ১৯,৫২৪ জন শ্রমিককে এককালীন ৫,০০০ টাকা করে বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি উৎসব উপলক্ষে প্রতিটি শ্রমিক পরিবারের জন্য অতিরিক্ত ৫০ কেজি চাল দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
৩ নভেম্বর উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক ভবন উত্তরকন্যায় আয়োজিত প্রশাসনিক বৈঠক থেকে এই জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু আর্থিক সাহায্য নয়, চা শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, বোনাস, রেশন, মহিলাদের আর্থিক সহায়তা এবং প্রবীণ নাগরিকদের পেনশন নিয়েও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ঘোষণা করেন তিনি।
Tea Workers Annapurna Scheme: ১৯,৫২৪ জন চা শ্রমিক পাবেন ৫০০০ টাকা
উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন বন্ধ চা বাগানের শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থান ও আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। অনেক পরিবারের নিয়মিত উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উৎসবের আগে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে এককালীন ৫,০০০ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, মোট ১৯,৫২৪ জন শ্রমিক এই সুবিধা পাবেন। প্রত্যেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি DBT পদ্ধতিতে টাকা পাঠানো হবে। এই প্রকল্পে রাজ্য সরকারের আনুমানিক ৯ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা খরচ হবে।
পরিবারপিছু অতিরিক্ত ৫০ কেজি চাল
আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি খাদ্যসুরক্ষার দিকেও গুরুত্ব দিয়েছে রাজ্য সরকার। উৎসব উপলক্ষে চা শ্রমিক পরিবারগুলিকে অতিরিক্ত ৫০ কেজি চাল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বর্তমানে চা শ্রমিক পরিবারগুলি মাসে ৩৫ কেজি চাল পেয়ে থাকে। সেই বরাদ্দ বাড়িয়ে ৫০ কেজি করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে আগামী জানুয়ারি মাস থেকে বর্ধিত পরিমাণ চাল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থাৎ, উৎসবের জন্য এককালীন ৫০ কেজি চাল এবং নিয়মিত মাসিক রেশন বৃদ্ধির পরিকল্পনা দুটি আলাদা বিষয়।
২০ শতাংশ বোনাস পেয়েছেন অধিকাংশ চা বাগানের শ্রমিক
চা শ্রমিকদের বোনাস নিয়েও বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, গত বছর চা শ্রমিকদের বোনাসের পরিমাণ ছিল ১৬ শতাংশ। চলতি বছরে উত্তরবঙ্গের ৯৫ শতাংশেরও বেশি চালু চা বাগানে শ্রমিকদের ২০ শতাংশ হারে বোনাস দেওয়া হয়েছে।
তবে এক-দুটি বাগানে এখনও বোনাস সংক্রান্ত ব্যতিক্রম রয়েছে বলেও বক্তব্যে ইঙ্গিত দেন তিনি।
Tea Workers Annapurna Scheme: প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক যোজনায় ৩০০ কোটির বেশি টাকার কাজ
চা বাগান এলাকার সামগ্রিক পরিকাঠামো এবং শ্রমিকদের জীবনযাত্রার উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক যোজনার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ৩১৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছিল। কেন্দ্রের অনুমোদনের পর উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরকে (NBBDD) নোডাল এজেন্সি হিসেবে রেখে ৩০০ কোটি টাকারও বেশি প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে চা বাগান এলাকার উন্নয়ন এবং শ্রমিক পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
জব কার্ড তৈরি রাখার পরামর্শ, দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরিতে ১২৫ দিনের কাজ
চা বাগানের শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে তিনি শ্রমিকদের জব কার্ড তৈরি করে রাখার পরামর্শ দেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, V.B. RAM G প্রকল্পের আওতায় যোগ্য শ্রমিকরা দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরিতে বছরে ১২৫ দিনের কাজের সুযোগ পাবেন।
বিশেষ করে বন্ধ চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য এই কর্মসংস্থানের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের যোগ্যতা, জব কার্ড এবং সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে।
Tea Workers Annapurna Scheme: মহিলাদের জন্য মাসে ৩০০০ টাকা, প্রবীণদের পেনশন ১৫০০ টাকা
চা শ্রমিক পরিবারের মহিলাদের আর্থিক সুরক্ষার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি জানান, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি যোগ্য মহিলাদের অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার কথা। যাঁরা এখনও এই প্রকল্পের আওতায় আসেননি, তাঁদের চিহ্নিত করে তালিকা তৈরির জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
অন্যদিকে, ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সি যোগ্য প্রবীণ নাগরিকদের জন্য মাসিক বার্ধক্য ভাতা ১,৫০০ টাকা করার বিষয়টিও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। আগে এই ভাতার পরিমাণ ছিল ১,০০০ টাকা বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: কালীপুজো ও ছটপুজোয় বাজি ফাটানোর সময় বেঁধে দিল রাজ্য, কখন থেকে কখন বাজি পোড়ানো যাবে?
বন্ধ চা বাগান খোলার উদ্যোগে নজর
উত্তরবঙ্গের চা শিল্পকে নতুন করে ঘুরে দাঁড় করানোও রাজ্য সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বন্ধ হয়ে থাকা চা বাগানগুলি পুনরায় চালু করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কারণ, চা বাগান চালু থাকলে শ্রমিকদের নিয়মিত কাজের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তাও অনেকটা বাড়বে। শুধু এককালীন আর্থিক সাহায্য দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাই বন্ধ বাগান খোলা এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চা শ্রমিকদের জন্য একাধিক ঘোষণায় নতুন আশার আলো
উত্তরকন্যার বৈঠকে চা শ্রমিকদের উদ্দেশে দীপাবলি, ভাইফোঁটা, কালীপুজো এবং ছটপুজোর শুভেচ্ছাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। উৎসবের মরশুমে শ্রমিক পরিবারগুলির মুখে হাসি ফোটাতে রাজ্য সরকারের এই আর্থিক ও খাদ্যসামগ্রী সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
এককালীন ৫,০০০ টাকা, অতিরিক্ত ৫০ কেজি চাল, বর্ধিত রেশনের পরিকল্পনা, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং সামাজিক সুরক্ষার বিভিন্ন ঘোষণা উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এই ঘোষণাগুলির পাশাপাশি সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা চা বাগানগুলি দ্রুত খুলুক এবং শ্রমিকরা আবার নিয়মিত কাজের সুযোগ ফিরে পান। কারণ, সাময়িক আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি স্থায়ী কর্মসংস্থানই চা শ্রমিক পরিবারগুলির ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার সবচেয়ে বড় উপায়।

