সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
New Labour Rule 2026: চাকরি ছাড়ার পর বকেয়া বেতন পেতে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে? কখনও আবার চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পরেও প্রাপ্য টাকা পেতে সমস্যায় পড়ছেন কর্মীরা। এই পরিস্থিতিতে কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আইনি বিধান রয়েছে ভারতের নতুন শ্রমবিধিতে। Code on Wages, 2019-এর ১৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কর্মীর পদত্যাগ, বরখাস্ত বা ছাঁটাইয়ের পর দুই কর্মদিবসের মধ্যে প্রাপ্য মজুরি পরিশোধ করতে হবে।
২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন শ্রমবিধি নিয়ে চাকরিজীবীদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। তবে এই নিয়মের অর্থ এই নয় যে চাকরি ছাড়ার পর সমস্ত বকেয়া, গ্র্যাচুইটি, ছুটির টাকা এবং অন্যান্য সুবিধা একই সময়সীমার মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে। কোন টাকা কখন পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান ও পাওনার প্রকৃতির উপর।
New Labour Rule: চাকরি ছাড়লে দুই কর্মদিবসের মধ্যে বেতন, কী বলছে আইন?
ভারতের Code on Wages, 2019-এর Section 17(2)-এ কর্মীদের প্রাপ্য মজুরি পরিশোধের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিধান অনুযায়ী, কোনও কর্মী চাকরি থেকে বরখাস্ত হলে, ছাঁটাই হলে, নিজে থেকে পদত্যাগ করলে অথবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে কর্মহীন হলে, তাঁর প্রাপ্য মজুরি সাধারণভাবে সংশ্লিষ্ট ঘটনার দুই কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
অর্থাৎ, কোনও কর্মী স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়লেও এই বিধান প্রাসঙ্গিক হতে পারে। শুধু বরখাস্ত বা ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে নয়, পদত্যাগের ক্ষেত্রেও আইনে এই সময়সীমার উল্লেখ রয়েছে।
তবে মনে রাখতে হবে, আইনে ‘wages payable’ বা প্রাপ্য মজুরির কথা বলা হয়েছে। Full and Final Settlement-এর অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি পাওনা যে বাধ্যতামূলকভাবে দুই কর্মদিবসের মধ্যেই দিতে হবে, এমন দাবি করা ঠিক নয়। সংশ্লিষ্ট পাওনার ধরন অনুযায়ী আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।
নতুন শ্রমবিধি কবে থেকে কার্যকর?
কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর থেকে চারটি শ্রমবিধি কার্যকর করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে Code on Wages, 2019, যা মজুরি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে।
এই বিধির লক্ষ্য কর্মীদের মজুরি সংক্রান্ত অধিকার সুরক্ষিত করা এবং নিয়োগকর্তাদের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ নিশ্চিত করা। Section 17-এ নিয়মিত বেতন প্রদানের পাশাপাশি চাকরি শেষ হওয়ার পর প্রাপ্য মজুরি মেটানোর সময়সীমার কথাও বলা হয়েছে।
New Labour Rule: কারা এই নিয়মের সুবিধা পেতে পারেন?
এই বিধান প্রাসঙ্গিক হতে পারে এমন কর্মীদের ক্ষেত্রে, যাঁরা:
- নিজে থেকে চাকরি ছেড়েছেন বা পদত্যাগ করেছেন।
- নিয়োগকর্তার দ্বারা চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়েছেন।
- ছাঁটাইয়ের কারণে চাকরি হারিয়েছেন।
- প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে কর্মহীন হয়েছেন।
তবে কোনও নির্দিষ্ট কর্মীর ক্ষেত্রে এই বিধান কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা নির্ভর করবে তাঁর চাকরির ধরন, প্রযোজ্য আইনি বিধান এবং সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতির উপর। সরকারি কর্মচারী, চুক্তিভিত্তিক কর্মী, বেসরকারি সংস্থার কর্মী এবং বিভিন্ন বিশেষ পরিষেবার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়ম যাচাই করা জরুরি।
কোম্পানি বেতন দিতে দেরি করলে কী করবেন?
চাকরি ছাড়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাপ্য বেতন না পেলে কর্মীরা কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে পারেন।
১. বেতনের নথি সংরক্ষণ করুন
বেতন স্লিপ, ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, নিয়োগপত্র, পদত্যাগপত্র এবং চাকরি ছাড়ার স্বীকৃতিসংক্রান্ত নথি নিজের কাছে রাখুন।
২. নিয়োগকর্তাকে লিখিতভাবে জানান
কত টাকা বকেয়া রয়েছে এবং কোন সময়ের বেতন পাওনা, তা উল্লেখ করে HR বিভাগ বা নিয়োগকর্তাকে ইমেল পাঠান। ইমেলের কপি ও উত্তর সংরক্ষণ করুন।
৩. পাওনার হিসাব বুঝে নিন
শেষ মাসের বেতন, অনুমোদিত ওভারটাইম, ছুটির নগদীকরণ, গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য সুবিধার নিয়ম এক নয়। তাই কোন পাওনা কোন আইনের অধীনে প্রাপ্য, তা যাচাই করুন।
৪. প্রয়োজনে শ্রম দপ্তরের সাহায্য নিন
সমস্যার সমাধান না হলে সংশ্লিষ্ট শ্রম দপ্তর বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন। অভিযোগের সঙ্গে বকেয়া বেতনের হিসাব এবং প্রাসঙ্গিক নথি জমা দিলে বিষয়টি বুঝতে সুবিধা হবে।
দুই কর্মদিবসের নিয়ম কি Full and Final Settlement-এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য?
এই প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক কর্মী মনে করেন, চাকরি ছাড়ার দুই দিনের মধ্যে বেতন, বোনাস, গ্র্যাচুইটি, ছুটির টাকা এবং অন্যান্য সমস্ত পাওনা একসঙ্গে মিটিয়ে দিতে হবে। কিন্তু বিষয়টি এতটা সরল নয়।
Section 17(2)-এ প্রাপ্য মজুরি দুই কর্মদিবসের মধ্যে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, গ্র্যাচুইটি, ছুটির নগদীকরণ, বোনাস বা অন্যান্য সুবিধার ক্ষেত্রে পৃথক আইনি বিধান, যোগ্যতার শর্ত এবং পরিশোধের সময়সীমা প্রযোজ্য হতে পারে।
তাই কোনও সংস্থা দুই কর্মদিবসের মধ্যে বেতন দিলেই তার সমস্ত দায় শেষ হয়ে যায় না। আবার Full and Final Settlement-এর প্রতিটি উপাদান ওই একই সময়ের মধ্যে না পেলেই সংস্থা আইন ভেঙেছে, এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট পাওনার প্রকৃতি ও প্রযোজ্য আইন যাচাই করা প্রয়োজন।
ভারতের Code on Wages, 2019-এর ১৭ নম্বর ধারা: Download PDF
New Labour Rule: কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
চাকরি ছাড়ার আগে সম্ভব হলে লিখিতভাবে পদত্যাগ জমা দিন এবং তার স্বীকৃতি সংগ্রহ করুন। চাকরি ছাড়ার তারিখ, শেষ কর্মদিবস, বকেয়া বেতনের হিসাব এবং নিয়োগকর্তার সঙ্গে হওয়া সমস্ত যোগাযোগের রেকর্ড রাখুন।
বেতন আটকে রাখা হলে মৌখিক আশ্বাসের উপর নির্ভর না করে লিখিতভাবে পাওনা দাবি করুন। প্রয়োজন হলে শ্রম আইন সম্পর্কে অভিজ্ঞ আইনজীবী বা সংশ্লিষ্ট শ্রম দপ্তরের পরামর্শ নিন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা: ভারতের Code on Wages, 2019-এর Section 17(2) অনুযায়ী, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পদত্যাগ, বরখাস্ত, ছাঁটাই বা প্রতিষ্ঠান বন্ধের কারণে কর্মহীন হওয়ার পর দুই কর্মদিবসের মধ্যে প্রাপ্য মজুরি দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে এই সময়সীমাকে সমস্ত ধরনের Full and Final Settlement-এর জন্য একক নিয়ম হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
আইনি তথ্যসূত্র: Code on Wages, 2019, Section 17 এবং ভারত সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্য।
