সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
Morning School Extension Fake Notice: সোমবার সকাল থেকেই পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক, অভিভাবক এবং ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল একটি তথাকথিত সরকারি নোটিশ। সেখানে দাবি করা হয়েছিল যে, রাজ্যের সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতে মর্নিং স্কুলের সময়সীমা আরও বাড়ানো হয়েছে।
এই নোটিশটি মুহূর্তের মধ্যেই বিভিন্ন WhatsApp গ্রুপ, Facebook, Telegram এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই সেটিকে সরকারি নির্দেশ বলে ধরে নিয়ে শেয়ার করতে শুরু করেন।
তবে এই বিভ্রান্তির অবসান ঘটিয়ে ২৯ জুন ২০২৬ তারিখেই পশ্চিমবঙ্গের স্কুল শিক্ষা দপ্তর (Department of School Education, Government of West Bengal) একটি অফিসিয়াল মেমো জারি করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ভাইরাল হওয়া ওই নোটিশটি সম্পূর্ণ ভুয়ো (FAKE)।

কী জানানো হয়েছে অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে?
স্কুল শিক্ষা দপ্তরের প্রশাসনিক শাখা (Administrative Branch), বিকাশ ভবন থেকে প্রকাশিত Memo No. 828-SED-15099/196/2026-ADMN-এ বলা হয়েছে,
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত Memo No. 743(48)-SED-15099/196/2026, তারিখ ২৯ জুন ২০২৬, সংবলিত যে নির্দেশটি ছড়িয়ে পড়েছে, সেটি সরকারি নয় এবং সম্পূর্ণ ভুয়ো।
দপ্তর স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছে যে,
এই ভুয়ো আদেশকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করতে হবে।
জেলা স্কুল পরিদর্শকদের কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে?
এই অফিসিয়াল মেমোটি পাঠানো হয়েছে রাজ্যের (পার্বত্য এলাকা বাদে) সমস্ত জেলার District Inspector of Schools (SE/PE)-দের কাছে।
তাঁদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে,
- জেলার সমস্ত স্কুলকে দ্রুত এই বিষয়ে অবহিত করতে হবে।
- কোনও স্কুল যেন ভাইরাল হওয়া ভুয়ো নির্দেশ অনুসরণ না করে।
- শুধুমাত্র সরকারিভাবে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিকেই কার্যকর হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
কেন এই ধরনের ভুয়ো নোটিশ বিপজ্জনক?
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারি নোটিশের মতো দেখতে ভুয়ো নথি তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা নতুন নয়।
এই ধরনের নোটিশের কারণে—
- শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
- স্কুল পরিচালনায় সমস্যা দেখা দেয়।
- ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেন।
- প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তাই সরকার বারবার অনুরোধ করে আসছে যে, কোনও সরকারি নির্দেশ বিশ্বাস করার আগে অবশ্যই তার সত্যতা যাচাই করা উচিত।
কীভাবে বুঝবেন কোনও সরকারি নোটিশ আসল না ভুয়ো?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি নির্দেশ যাচাই করার সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো—
- সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে কি না তা দেখা।
- অফিসিয়াল প্রেস বিজ্ঞপ্তি বা সরকারি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট যাচাই করা।
- স্কুল কর্তৃপক্ষ বা জেলা শিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা।
- শুধুমাত্র WhatsApp ফরওয়ার্ড দেখে কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়া।
বর্তমানে মর্নিং স্কুল নিয়ে কী পরিস্থিতি?
স্কুল শিক্ষা দপ্তরের সর্বশেষ অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়ানো মর্নিং স্কুল এক্সটেনশনের নোটিশটি কার্যকর নয়, কারণ সেটি ভুয়ো বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
অতএব, নতুন কোনও অফিসিয়াল নির্দেশ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত স্কুলগুলিকে পূর্ববর্তী বৈধ সরকারি নির্দেশই অনুসরণ করতে হবে।
শিক্ষা দপ্তরের বার্তা
শিক্ষা দপ্তর এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সরকারি নথির নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া প্রতিটি তথ্য বিশ্বাস করা উচিত নয়। কোনও নির্দেশ কার্যকর করার আগে তার সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
মর্নিং স্কুলের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে বলে যে নোটিশটি সোমবার সকাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছিল, সেটি সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গের স্কুল শিক্ষা দপ্তর। অফিসিয়াল মেমোর মাধ্যমে সকল জেলা স্কুল পরিদর্শককে বিষয়টি জানিয়ে স্কুলগুলিকে সতর্ক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই অভিভাবক, শিক্ষক এবং ছাত্রছাত্রীদের অনুরোধ, শুধুমাত্র সরকারি সূত্রে প্রকাশিত তথ্যের উপরই ভরসা করুন এবং যাচাই না করে কোনও খবর শেয়ার করবেন না।
