মিঠুন চক্রবর্তীকে বড় দায়িত্ব রাজ্য সরকারের, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উপদেষ্টা ‘মহাগুরু’

সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

WhatsApp Group
Join Now

Mithun Chakraborty State Government Advisor: রাজ্য সরকারের সাংস্কৃতিক পরিসরে এবার আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাবে অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীকে। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উপদেষ্টা হিসেবে মিঠুন চক্রবর্তীকে নিয়োগ করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই পদটি একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমমর্যাদার বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে নবান্নের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে।

মিঠুনের এই নতুন দায়িত্বের খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতি থেকে শুরু করে বাংলা চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। ‘মহাগুরু’ নামে জনপ্রিয় এই অভিনেতা এবার সরাসরি রাজ্য সরকারের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করবেন।

Mithun Chakraborty State Government Advisor: তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উপদেষ্টা মিঠুন

নবান্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উপদেষ্টা পদে মিঠুন চক্রবর্তীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই পদের মর্যাদা একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমান। খুব শীঘ্রই তিনি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানা গিয়েছে।

Google
Add West Bengal Times যুক্ত করুন গুগল-এ পছন্দের উৎস হিসেবে
Add Preference

এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর নিউটাউনে উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মিঠুন চক্রবর্তীকে রাজ্যের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা করার ঘোষণা করেছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে নিউটাউনে ‘উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টার’-এর ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করা হয়।

অর্থাৎ, ঘোষণার পর এবার সেই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিকভাবে আরও স্পষ্ট হল। নবান্নের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মিঠুনের নতুন দায়িত্বের বিষয়টি সামনে এসেছে।

কেন মিঠুনকে এই দায়িত্ব?

বাংলা চলচ্চিত্র এবং বৃহত্তর ভারতীয় সিনেমায় মিঠুন চক্রবর্তীর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। অভিনেতা হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা শুধু বাংলায় নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও রয়েছে। ফলে রাজ্যের চলচ্চিত্র, বিনোদন এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রকে আরও বড় পরিসরে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাইছে সরকার।

গত সেপ্টেম্বরেই সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর মিঠুন চলচ্চিত্র শিল্পকে ঘিরে একাধিক উদ্যোগের কথা জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে বাংলায় চলচ্চিত্রের শুটিং বাড়ানোর জন্য ৩০ শতাংশ ভর্তুকির কথাও তিনি ঘোষণা করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রযোজক ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের বাংলায় শুটিংয়ের জন্য উৎসাহিত করা এবং রাজ্যের হারানো জায়গা ফিরিয়ে আনা।

Mithun Chakraborty State Government Advisor: উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টার নিয়েও বড় পরিকল্পনা

মিঠুনের নতুন দায়িত্বের সঙ্গে রাজ্যের চলচ্চিত্র পরিকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। নিউটাউনে তৈরি হতে চলা উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের জন্য রাজ্য সরকার ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। পরিকল্পিত এই কেন্দ্রে সিনেমা হল, অডিটোরিয়াম, ওপেন-এয়ার থিয়েটারের পাশাপাশি অ্যানিমেশন, ভিএফএক্স, গেমিং, কমিকস, এক্সটেন্ডেড রিয়্যালিটি এবং পোস্ট-প্রোডাকশনের মতো আধুনিক কাজের পরিকাঠামো রাখার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।

এই ধরনের পরিকাঠামো গড়ে উঠলে বাংলার স্থানীয় শিল্পী, টেকনিশিয়ান এবং চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পেশার মানুষের কাজের সুযোগ বাড়তে পারে।

শুধু চলচ্চিত্র নয়, সংস্কৃতির বিস্তৃত ক্ষেত্রেও দায়িত্ব

মিঠুন চক্রবর্তীর দায়িত্ব শুধুমাত্র সিনেমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উপদেষ্টা হিসেবে রাজ্যের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, চলচ্চিত্র উৎসব, বিনোদন শিল্প এবং বৃহত্তর সাংস্কৃতিক উদ্যোগ নিয়ে তাঁর পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এরই মধ্যে কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের সঙ্গেও তাঁর যোগ তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবে মিঠুন চক্রবর্তীর নামও সামনে এসেছে।

অন্যদিকে, পর্যটনের ক্ষেত্রেও মিঠুনের সঙ্গে রাজ্য সরকারের আলোচনা হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের সঙ্গে বৈঠকে উত্তরবঙ্গ, পাহাড় এবং নতুন পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়।

আরও পড়ুন: WBUHS Recruitment 2026 | ৫টি Assistant Professor পদে সুযোগ, আবেদন জমার শেষ তারিখ ১৫ অক্টোবর

Mithun Chakraborty State Government Advisor: নতুন দায়িত্বে কী করবেন মিঠুন?

এই মুহূর্তে তাঁর দায়িত্বের বিস্তারিত কর্মপরিধি নিয়ে নবান্নের বিজ্ঞপ্তিতে কী কী নির্দিষ্ট ক্ষমতা বা প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে সামগ্রিকভাবে তাঁর ভূমিকা রাজ্যের চলচ্চিত্র, সংস্কৃতি ও বিনোদন ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে পরামর্শমূলক হতে পারে।

মিঠুন নিজেও নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে শুটিংয়ের কাজে আলিপুরদুয়ারে রয়েছেন অভিনেতা। সেখান থেকেই তিনি নতুন দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

মিঠুনের নতুন দায়িত্ব ঘিরে কী প্রত্যাশা?

বাংলা চলচ্চিত্র দীর্ঘদিন ধরেই পরিকাঠামো, বিনিয়োগ এবং বড় প্রযোজনার ক্ষেত্রে একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে। এই পরিস্থিতিতে মিঠুনের মতো সর্বভারতীয় পরিচিতি থাকা একজন অভিনেতাকে সাংস্কৃতিক উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হলে সরকারের সঙ্গে চলচ্চিত্র জগতের যোগাযোগ আরও বাড়তে পারে।

বিশেষ করে বাংলায় শুটিং বাড়ানো, নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের সুযোগ তৈরি, আধুনিক ফিল্ম পরিকাঠামো গড়ে তোলা এবং রাজ্যের সংস্কৃতিকে দেশের অন্য প্রান্তে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে।

সব মিলিয়ে, ‘মহাগুরু’ মিঠুন চক্রবর্তীর নতুন প্রশাসনিক দায়িত্ব শুধু একটি পদ নয়, বাংলার চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতিকে নতুনভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে নতুন দায়িত্বে মিঠুন কীভাবে কাজ শুরু করেন এবং তাঁর পরামর্শে রাজ্যের সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে কী কী নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়।

Swastika Paul
Swastika Paulhttps://swastikapaul.in/
Swastika Paul is a distinguished innovator, educator, and the Ex-Principal of Tehatta Government ITI. Holding an M.Tech in Communication Engineering, she is dedicated to bridging the digital divide in rural India through technical skill development and inclusive leadership. A recognized voice in grassroots innovation, Swastika was honored with the "Principal of the Year" award at the Asia Education Conclave 2025. Beyond academia, she is the Co-founder of SD ONUPRON GROUP, where she has spent over 6 years curating impactful content on education, technology, and social awareness. Her dual expertise in engineering and digital media makes her a trusted authority in the evolving landscape of Indian technical education and social entrepreneurship.

Read more

Local News