সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
LTM IT Campus in New Town: পশ্চিমবঙ্গের IT শিল্পে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে নিউটাউন। বেঙ্গল সিলিকন ভ্যালিতে LTM-এর নতুন প্রযুক্তি ক্যাম্পাস ‘আনন্দ নিকেতন’-এর প্রথম পর্যায়ের উদ্বোধন হল বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট। উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন এই ক্যাম্পাসে প্রায় ৫,৮০০ জন ইঞ্জিনিয়ার ও প্রযুক্তি পেশাদারের কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
LTM IT Campus in New Town: নিউটাউনে তৈরি হল নতুন IT কেন্দ্র
LTM-এর ‘আনন্দ নিকেতন’ ক্যাম্পাসটি বেঙ্গল সিলিকন ভ্যালি টেক হাবের অংশ। প্রথম পর্যায়ে দুটি ভবন তৈরি হয়েছে। প্রায় ৭.৪৮ লক্ষ বর্গফুটের এই কর্মপরিসরে একসঙ্গে প্রায় ৫,৮০০ জন পেশাদার কাজ করতে পারবেন। সংস্থার পক্ষ থেকে এটিকে পূর্ব ভারতে প্রযুক্তি ও ডিজিটাল পরিষেবার পরিসর বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, LTM আগে LTIMindtree নামে পরিচিত ছিল এবং এটি Larsen & Toubro Group-এর সঙ্গে যুক্ত। নতুন ক্যাম্পাসের নাম ‘আনন্দ নিকেতন’ রাখা হয়েছে বাংলার শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্যকে সামনে রেখে। L&T চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর এস এন সুব্রহ্মণ্যনের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ক্যাম্পাসের মূল শক্তি হবে এখানে কাজ করা ইঞ্জিনিয়ার, প্রযুক্তিবিদ ও সমস্যার সমাধানকারী পেশাদাররা।
Google Map Location: Click Here
AI থেকে সাইবার সিকিউরিটি, একাধিক ক্ষেত্রে কাজের সম্ভাবনা
নতুন ক্যাম্পাসকে শুধুমাত্র একটি সাধারণ IT অফিস হিসেবে দেখা হচ্ছে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI, সাইবার সিকিউরিটি, চিপ ডিজাইন, অটোমেশন, ডিজিটাল ম্যানুফ্যাকচারিং-সহ ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীও জানিয়েছেন, রাজ্যে শিল্প ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তরুণদের দক্ষ করে তুলতে শিল্পের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
LTM IT Campus in New Town: আরও ১০ একর জমি দেওয়ার ঘোষণা
ক্যাম্পাস উদ্বোধনের দিনই LTM-এর সম্প্রসারণের জন্য আরও ১০ একর জমি দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সংস্থাটি প্রায় দুই মাস আগে অতিরিক্ত জমির জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছিল। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই HIDCO-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে নিউটাউনে LTM-এর উপস্থিতি ভবিষ্যতে আরও বড় হতে পারে। নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি পরিকাঠামো এবং কর্মসংস্থানের পাশাপাশি এর প্রভাব পড়তে পারে আশপাশের পরিষেবা, আবাসন, পরিবহণ ও ছোট ব্যবসার ক্ষেত্রেও।
আরও পড়ুন: NMRC Recruitment 2026 | 34 পদে চাকরির সুযোগ, Diploma ও Graduate প্রার্থীদের জন্য বড় সুযোগ
বাংলার IT কর্মীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের বহু প্রযুক্তিবিদকে চাকরির জন্য বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, পুনে, চেন্নাই বা দেশের বাইরে যেতে হয়েছে। নিউটাউনে বড় IT ও প্রযুক্তি সংস্থাগুলির সম্প্রসারণ হলে সেই চিত্র কিছুটা বদলানোর সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীও রাজ্যের বাইরে এবং বিদেশে কর্মরত দক্ষ ও শিক্ষিত বাঙালি পেশাদারদের বাংলায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে যদি উন্নত মানের প্রযুক্তি সংস্থায় কাজের সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে দক্ষ কর্মীদের বাইরে চলে যাওয়ার প্রবণতা কমানো সম্ভব।
তবে শুধু একটি ক্যাম্পাস তৈরি হলেই বড় কর্মসংস্থান তৈরি হয়ে যাবে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। নতুন সুযোগ কতটা তৈরি হবে, কতজন স্থানীয় যুবক সেখানে কাজ পাবেন এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে কী ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন হবে, তা নির্ভর করবে সংস্থার ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ ও নিয়োগ পরিকল্পনার উপর।
‘পশ্চিমবঙ্গেই তৈরি হোক IT কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ’
নিউটাউনে LTM-এর নতুন ক্যাম্পাসের উদ্বোধন তাই শুধু একটি অফিস চালু হওয়ার ঘটনা নয়। বেঙ্গল সিলিকন ভ্যালিতে বড় প্রযুক্তি সংস্থার উপস্থিতি বাড়লে পশ্চিমবঙ্গের IT ecosystem আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে AI, ডেটা, ক্লাউড, সাইবার সিকিউরিটি এবং অটোমেশনের মতো দ্রুত বাড়তে থাকা ক্ষেত্রে দক্ষ তরুণদের জন্য কলকাতাতেই নতুন সুযোগ তৈরি করা গেলে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
এখন নজর থাকবে LTM-এর পরবর্তী সম্প্রসারণ, অতিরিক্ত ১০ একর জমির ব্যবহার এবং নতুন নিয়োগের দিকে। বাস্তবে কতটা কর্মসংস্থান তৈরি হয়, সেটিই শেষ পর্যন্ত এই প্রকল্পের সাফল্যের সবচেয়ে বড় মাপকাঠি হবে।
