খেত বাঁচাও অভিযান নিয়ে জোর দিচ্ছে সরকার, ২.৭১ কোটিরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেছে প্রচার: পশ্চিমবঙ্গেও শুরু বিশেষ কৃষি সচেতনতা কর্মসূচি

সম্পাদনা সংক্রান্ত ঘোষণা: West Bengal Times প্রকাশের আগে সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে। পাঠকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমাদের টিম স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণও করে থাকে। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

WhatsApp Group
Join Now

খেত বাঁচাও অভিযান:দেশজুড়ে কৃষিক্ষেত্রে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, সঠিক সার ব্যবহার এবং টেকসই চাষাবাদকে উৎসাহ দিতে কেন্দ্র ও বিভিন্ন রাজ্যের কৃষি দপ্তর এখন আরও সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই গুরুত্ব পাচ্ছে ‘খেত বাঁচাও অভিযান’ বা Khet Bachao Abhiyan। সম্প্রতি কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই অভিযান ইতিমধ্যেই দেশের ২.৭১ কোটিরও বেশি নাগরিকের কাছে পৌঁছে গিয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ কৃষক সরাসরি এর আওতায় এসেছেন।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গেও ‘খেত বাঁচাও অভিযান’ নামে একটি বিশেষ কৃষি সচেতনতা কর্মসূচির পোস্টার সামনে এসেছে। পোস্টার অনুযায়ী, উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি-২ ব্লকে কৃষি দপ্তরের উদ্যোগে ১ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে। এতে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, ফসল সুরক্ষা এবং বৈজ্ঞানিক কৃষি পদ্ধতি নিয়ে প্রচার চালানো হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

খেত বাঁচাও অভিযান
খেত বাঁচাও অভিযান

কী এই ‘খেত বাঁচাও অভিযান’?

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের কারণে দেশের বহু এলাকায় মাটির উর্বরতা কমতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে জমির জৈব গুণাগুণও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের মধ্যে সঠিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, মাটি পরীক্ষা ভিত্তিক সার প্রয়োগ এবং বিকল্প কৃষি পদ্ধতি নিয়ে সচেতনতা তৈরির জন্যই শুরু হয়েছে ‘খেত বাঁচাও অভিযান’।

সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হল কৃষকদের বোঝানো যে শুধু বেশি সার ব্যবহার করলেই বেশি ফলন হয় না। বরং জমির প্রকৃতি বুঝে, মাটির পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী এবং বৈজ্ঞানিক পরামর্শ মেনে সার ব্যবহার করলে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ও জমির স্বাস্থ্য দুটোই ভালো থাকে।

২.৭১ কোটির বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেছে প্রচার

কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ‘খেত বাঁচাও অভিযান’ ইতিমধ্যেই ২ কোটি ৭১ লক্ষেরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। এই প্রচারাভিযানের আওতায় দেশজুড়ে ১২,৯৭৯টির বেশি সচেতনতা শিবির ও সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৭.১৭ লক্ষ কৃষক সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন।

শুধু তাই নয়, ৩,১৪৫টির বেশি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং ৭,৯২৮টি মাঠ পর্যায়ের প্রদর্শনীও আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে কৃষকদের জৈব সার, সবুজ সার, বায়ো-ফার্টিলাইজার এবং মাটির স্বাস্থ্য রক্ষার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

Read More : WhatsApp, Facebook, Instagram আর পুরোপুরি ফ্রি থাকবে না? Meta-র নতুন সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান নিয়ে কেন এত আলোচনা

পঞ্চায়েত থেকে কৃষক সংগঠন, সবাইকে যুক্ত করা হচ্ছে

এই অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল তৃণমূল স্তরে অংশগ্রহণ বাড়ানো। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চায়েত প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, স্বনির্ভর গোষ্ঠী (SHG), Farmer Producer Organisation (FPO) এবং Farmer Interest Group (FIG)-এর সদস্যদেরও এই প্রচারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

সরকার মনে করছে, শুধুমাত্র কৃষি দপ্তরের মাধ্যমে নয়, বরং স্থানীয় সংগঠন ও কৃষক গোষ্ঠীগুলিকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করলে সচেতনতা আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে।

কেন এত গুরুত্ব পাচ্ছে মাটির স্বাস্থ্য?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে কৃষির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হল মাটির গুণমান বজায় রাখা। বহু কৃষক বছরের পর বছর একই ধরনের রাসায়নিক সার ব্যবহার করায় জমির স্বাভাবিক পুষ্টি ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে ফলন কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

‘খেত বাঁচাও অভিযান’-এর মাধ্যমে কৃষকদের মাটি পরীক্ষা করিয়ে তারপর সার ব্যবহার, জৈব উপাদান বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি পদ্ধতির দিকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গে কী হতে পারে এই কর্মসূচির প্রভাব?

পশ্চিমবঙ্গ কৃষিনির্ভর রাজ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম। ধান, সবজি, পাট, আলু এবং বিভিন্ন শস্য উৎপাদনে রাজ্যের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জুন মাস থেকেই খরিফ মরসুমের প্রস্তুতি শুরু হয়। ফলে এই সময়ে কৃষকদের মধ্যে সঠিক কৃষি পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

সন্দেশখালি-২ ব্লকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি সফল হলে ভবিষ্যতে রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও একই ধরনের প্রচারাভিযান আরও বড় আকারে দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কৃষকদের জন্য কী বার্তা?

সরকারি প্রচারের মূল বার্তা একটাই — জমি শুধু আজকের জন্য নয়, আগামী প্রজন্মের জন্যও বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তাই অতিরিক্ত রাসায়নিক নির্ভরতা কমিয়ে, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ করলে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনই দেশের কৃষিও দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী হবে।

‘খেত বাঁচাও অভিযান’ সেই লক্ষ্যেই কৃষকদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করছে। আর সরকারি তথ্য বলছে, এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই দেশের কোটি কোটি মানুষের মধ্যে কৃষি সচেতনতার নতুন বার্তা পৌঁছে দিতে শুরু করেছে।

Syed Mosharaf Hossain
Syed Mosharaf Hossainhttps://syedmosharafhossain.in/
Syed Mosharaf Hossain is a visionary educator, technical innovator, and the Principal of Purbasthali-II Government ITI, West Bengal. An Electronics & Communication Engineer, he is the creator of the internationally recognized "Arduino-based Smart Shoe" for women’s safety, featured in the World Book of Records. As the Founder of SD ONUPRON GROUP, Syed has over six years of expertise in SEO, web development, and digital journalism. Honored as the "Principal of the Year" at the Asia Education Conclave 2025, he remains dedicated to driving technical innovation and mentoring future professionals in India's education sector.

Read more

Local News